, সোমবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
নোটিশ :
সংবাদের বিষয়ে কিছু জানাতে ইমেইল করুন [email protected] ঠিকানায়

জামায়াত কর্মীদের ওপর হামলার প্রতিবাদ ও নিন্দা গোলাম পরওয়ারের

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৬:৩৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৫
  • / ১৫ বার পড়া হয়েছে

নওগাঁ ও নোয়াখালীর সোনাইমুড়ি ও ঝিনাইদহে জামায়াত কর্মীদের ওপর হামলার প্রতিবাদ ও নিন্দা প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার। বুধবার (২৯ অক্টোবর) এক বিবৃতিতে তিনি এই নিন্দা জ্ঞাপন করেন।

বিবৃতিতে তিনি উল্লেখ করেন, ২৮ অক্টোবর বিকেলে নওগাঁ শহরের বোয়ালিয়া এলাকায় জামায়াতে ইসলামীর নারী সদস্যদের নির্বাচনী উঠান বৈঠকে হঠাৎ করে সাব্বির পাপ্পু নামে এক যুবক প্রবেশ করে নারীদের সঙ্গে তর্কে লিপ্ত হয় এবং বৈঠকটি ভাঙচুরের চেষ্টা চালায়। এক পর্যায়ে সে হামলা চালায়।

অপরদিকে, নোয়াখালী জেলার সোনাইমুড়ি উপজেলার দেওটি ইউনিয়নের দেওটি ওয়ার্ডে জামায়াতের নারী কর্মীদের কুরআন শিক্ষা ক্লাসের শুরুতেই বাধা সৃষ্টি করে, চেয়ার ভাঙচুর করে এবং নারীদের হেনস্তা করে। কুরআন শিক্ষা নিতে আসা নারীদের জোরপূর্বক বাইরে বের করে দেওয়া হয়। এর ফলে, দুর্বৃত্তদের বাধার কারণে ওই ক্লাসটি সম্পন্ন হয়নি।

আরো জানানো হয়, ২০ অক্টোবর সকালে ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার যাদবপুর ইউনিয়নের উত্তরপাড়া এলাকায় মহিলা কর্মীরা নিয়মিত গণসংযোগে বের হলে স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দ আফরাফুল, হানিফ, শাহিন ও সবুজের নেতৃত্বে ১০ থেকে ১২ জনের একটি দল লাঠি-সোটা নিয়ে তাদের ওপর বর্বরোচিত হামলা চালায়। এতে ৫ নারী ও ৩ পুরুষসহ মোট ৮ জন গুরুতর আহত হন। হামলাকারীরা কয়েকজন নারীর বোরকা খুলে লাঞ্ছিত করেন। বর্তমানে আহতরা মহেশপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন।

অধ্যাপক গোলাম পরওয়ার বলেন, নির্বাচনী সভা, আলোচনা সভা, কুরআনের শিক্ষা বা যেকোনো ধরনের সমাবেশের আয়োজন ও অংশগ্রহণ দেশের নাগরিকের স্বাভাবিক অধিকার। নারীদের ওপর এই ধরনের বর্বরোচিত হামলা ও শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি ব্যাহত করার অপচেষ্টা দেশের গণতান্ত্রিক পরিবেশ ও মানবাধিকার লঙ্ঘন। এই ধরনের হামলার ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক ও অনাকাঙ্ক্ষিত। আমি এসব ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

তিনি আরো উল্লেখ করেন, নারীকর্মীদের ওপর হামলা আমাদেরকে আওয়ামী ফ্যাসিবাদের মতো অরাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির কথাই মনে করিয়ে দেয়, যা অত্যন্ত ঘৃণ্য ও নিন্দনীয়। বিএনপি নেতাদের অনুরোধ করি, এই ধরনের অরাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকুন, নতুবা পরিস্থিতির আরো অবনতি হলে সাধারণ জনগণ এই কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করবে, এতে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।

গোলাম পরওয়ার বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী একটি বৈধ ও নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল। দলটি সহাবস্থানের রাজনীতিতে বিশ্বাসী একটি নিয়মতান্ত্রিক ও গণতান্ত্রিক সংগঠন। তারা শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক উপায়েই তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। তবে, প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দল ও সন্ত্রাসীরা নারী কর্মীদের ওপর হামলা চালিয়ে ভয়ভীতি সৃষ্টির অপচেষ্টা করছে।

তিনি বলেন, আমি এই দুর্বৃত্তদের হামলায় আহত নারী ও পুরুষ কর্মীদের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করছি এবং দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি। পাশাপাশি, দলীয় নেতাকর্মীদের ধৈর্য্য ও সংযম বজায় রেখে সংগঠনিক ও গণতান্ত্রিক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার অনুরোধ জানাচ্ছি।

অবিলম্বে হামলাকারীদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে তিনি প্রশাসনের প্রতি আন্তরিক আহ্বান জানান, যেন সকল দলের কার্যক্রম শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পরিচালিত হয়।


প্রিন্ট

নিউজটি শেয়ার করুন

জামায়াত কর্মীদের ওপর হামলার প্রতিবাদ ও নিন্দা গোলাম পরওয়ারের

আপডেট সময় ০৬:৩৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৫

নওগাঁ ও নোয়াখালীর সোনাইমুড়ি ও ঝিনাইদহে জামায়াত কর্মীদের ওপর হামলার প্রতিবাদ ও নিন্দা প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার। বুধবার (২৯ অক্টোবর) এক বিবৃতিতে তিনি এই নিন্দা জ্ঞাপন করেন।

বিবৃতিতে তিনি উল্লেখ করেন, ২৮ অক্টোবর বিকেলে নওগাঁ শহরের বোয়ালিয়া এলাকায় জামায়াতে ইসলামীর নারী সদস্যদের নির্বাচনী উঠান বৈঠকে হঠাৎ করে সাব্বির পাপ্পু নামে এক যুবক প্রবেশ করে নারীদের সঙ্গে তর্কে লিপ্ত হয় এবং বৈঠকটি ভাঙচুরের চেষ্টা চালায়। এক পর্যায়ে সে হামলা চালায়।

অপরদিকে, নোয়াখালী জেলার সোনাইমুড়ি উপজেলার দেওটি ইউনিয়নের দেওটি ওয়ার্ডে জামায়াতের নারী কর্মীদের কুরআন শিক্ষা ক্লাসের শুরুতেই বাধা সৃষ্টি করে, চেয়ার ভাঙচুর করে এবং নারীদের হেনস্তা করে। কুরআন শিক্ষা নিতে আসা নারীদের জোরপূর্বক বাইরে বের করে দেওয়া হয়। এর ফলে, দুর্বৃত্তদের বাধার কারণে ওই ক্লাসটি সম্পন্ন হয়নি।

আরো জানানো হয়, ২০ অক্টোবর সকালে ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার যাদবপুর ইউনিয়নের উত্তরপাড়া এলাকায় মহিলা কর্মীরা নিয়মিত গণসংযোগে বের হলে স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দ আফরাফুল, হানিফ, শাহিন ও সবুজের নেতৃত্বে ১০ থেকে ১২ জনের একটি দল লাঠি-সোটা নিয়ে তাদের ওপর বর্বরোচিত হামলা চালায়। এতে ৫ নারী ও ৩ পুরুষসহ মোট ৮ জন গুরুতর আহত হন। হামলাকারীরা কয়েকজন নারীর বোরকা খুলে লাঞ্ছিত করেন। বর্তমানে আহতরা মহেশপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন।

অধ্যাপক গোলাম পরওয়ার বলেন, নির্বাচনী সভা, আলোচনা সভা, কুরআনের শিক্ষা বা যেকোনো ধরনের সমাবেশের আয়োজন ও অংশগ্রহণ দেশের নাগরিকের স্বাভাবিক অধিকার। নারীদের ওপর এই ধরনের বর্বরোচিত হামলা ও শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি ব্যাহত করার অপচেষ্টা দেশের গণতান্ত্রিক পরিবেশ ও মানবাধিকার লঙ্ঘন। এই ধরনের হামলার ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক ও অনাকাঙ্ক্ষিত। আমি এসব ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

তিনি আরো উল্লেখ করেন, নারীকর্মীদের ওপর হামলা আমাদেরকে আওয়ামী ফ্যাসিবাদের মতো অরাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির কথাই মনে করিয়ে দেয়, যা অত্যন্ত ঘৃণ্য ও নিন্দনীয়। বিএনপি নেতাদের অনুরোধ করি, এই ধরনের অরাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকুন, নতুবা পরিস্থিতির আরো অবনতি হলে সাধারণ জনগণ এই কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করবে, এতে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।

গোলাম পরওয়ার বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী একটি বৈধ ও নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল। দলটি সহাবস্থানের রাজনীতিতে বিশ্বাসী একটি নিয়মতান্ত্রিক ও গণতান্ত্রিক সংগঠন। তারা শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক উপায়েই তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। তবে, প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দল ও সন্ত্রাসীরা নারী কর্মীদের ওপর হামলা চালিয়ে ভয়ভীতি সৃষ্টির অপচেষ্টা করছে।

তিনি বলেন, আমি এই দুর্বৃত্তদের হামলায় আহত নারী ও পুরুষ কর্মীদের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করছি এবং দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি। পাশাপাশি, দলীয় নেতাকর্মীদের ধৈর্য্য ও সংযম বজায় রেখে সংগঠনিক ও গণতান্ত্রিক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার অনুরোধ জানাচ্ছি।

অবিলম্বে হামলাকারীদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে তিনি প্রশাসনের প্রতি আন্তরিক আহ্বান জানান, যেন সকল দলের কার্যক্রম শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পরিচালিত হয়।


প্রিন্ট