, সোমবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
নোটিশ :
সংবাদের বিষয়ে কিছু জানাতে ইমেইল করুন [email protected] ঠিকানায়

সংসদ নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াতের প্রার্থী হলেন আপন দুই ভাই

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৯:০৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৫ নভেম্বর ২০২৫
  • / ২৩ বার পড়া হয়েছে

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে কুড়িগ্রাম-৪ আসন। এই আসনে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের দুজন প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত করেছে আপন দুই ভাইকে। এর ফলে স্থানীয় রাজনীতিতে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে। সোমবার (৩ নভেম্বর) বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম ২৩৭টি আসনের সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম প্রকাশ করেন। এর মধ্যে কুড়িগ্রাম-৪ আসনের প্রার্থী হিসেবে আজিজুর রহমানের নাম ঘোষণা করা হয়। অন্যদিকে জামায়াতের পক্ষ থেকে নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপি প্রার্থী আপন ছোট ভাই মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক। দুই ভাইয়ের এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা এখন গ্রামগঞ্জের চায়ের দোকান থেকে শুরু করে সোশ্যাল মিডিয়ায় চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে। কুড়িগ্রাম-৪ আসনের মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৩৮ হাজার ৪১২ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৬৮ হাজার ৭১১ জন, নারী ভোটার ১ লাখ ৬৯ হাজার ৬৯২ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গ (হিজড়া) ভোটার ৯ জন। এই আসনটি রৌমারী, রাজিবপুর ও চিলমারী উপজেলার সমন্বয়ে গঠিত। ভোটারদের মন জয় করতে এখন দুই ভাইয়ের প্রতিদ্বন্দ্বিতা নতুন মাত্রা পেয়েছে। স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, এই আসনটি ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘদিন ধরে কুড়িগ্রাম-৪ আসনটি বিএনপি ও জামায়াতের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। ফলে দুই ভাইয়ের মুখোমুখি লড়াই এই আসনটিকে জাতীয় পর্যায়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু করে তুলেছে। একজন প্রবীণ রাজনীতিবিদ বলেন, “রৌমারী, রাজিবপুর ও চিলমারীর ইতিহাসে এমন দৃশ্য প্রথম দেখা যাচ্ছে। ভাই-বিরোধের মধ্যে নির্বাচনী মাঠে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। ভোটাররা এখন কৌতূহল নিয়ে দেখছেন কে এগিয়ে থাকবেন। কেউ বলছেন, “এটা পারিবারিক রাজনৈতিক বিভাজনের প্রতিচ্ছবি।” আবার অনেকে মনে করছেন, দুই ভাইয়ের জনপ্রিয়তা দেখে শেষ হাসি কারই হবে তা দেখা দরকার। স্থানীয়রা বলছেন, এই প্রতিদ্বন্দ্বিতার ফলাফল নির্ভর করবে দুই দলের সাংগঠনিক শক্তি, তৃণমূল নেতাকর্মীদের সক্রিয়তা ও প্রার্থীদের ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তার ওপর। জামায়াতের প্রার্থী মোস্তাফিজার রহমান মোস্তাক বলেন, “আমার বড় ভাই বিএনপি থেকে প্রার্থী হয়েছেন। তিনি আমাকে পরাজিত করতে পারবেন না। কারণ জামায়াতের জনপ্রিয়তা ইতিমধ্যে অনেক বেড়েছে। দুই ভাই প্রার্থী হলেও নির্বাচনে এর কোনো প্রভাব পড়বে না।” বিএনপি প্রার্থী আজিজুর রহমান বলেন, “আমার ছোট ভাই একসময় বিএনপি করতেন। আমি তাকে প্রতিষ্ঠিত করেছি। পরে জামায়াতে যোগ দেন। আমি যদি প্রার্থী না হতাম, তাহলে পারিবারিক পরিচয় ও ইমেজের কারণে সে এককভাবে সুবিধা নিতে পারত। কিন্তু আমি প্রার্থী হওয়ায় সেই সুযোগ তার থেকে চলে গেছে। জনগণ আমাকেই চাইছে। ফলে আমি আশাবাদী যে, পরবর্তী নির্বাচনে দল আমাকে চূড়ান্ত মনোনয়ন দেবে।”


প্রিন্ট

নিউজটি শেয়ার করুন

সংসদ নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াতের প্রার্থী হলেন আপন দুই ভাই

আপডেট সময় ০৯:০৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৫ নভেম্বর ২০২৫

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে কুড়িগ্রাম-৪ আসন। এই আসনে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের দুজন প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত করেছে আপন দুই ভাইকে। এর ফলে স্থানীয় রাজনীতিতে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে। সোমবার (৩ নভেম্বর) বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম ২৩৭টি আসনের সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম প্রকাশ করেন। এর মধ্যে কুড়িগ্রাম-৪ আসনের প্রার্থী হিসেবে আজিজুর রহমানের নাম ঘোষণা করা হয়। অন্যদিকে জামায়াতের পক্ষ থেকে নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপি প্রার্থী আপন ছোট ভাই মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক। দুই ভাইয়ের এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা এখন গ্রামগঞ্জের চায়ের দোকান থেকে শুরু করে সোশ্যাল মিডিয়ায় চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে। কুড়িগ্রাম-৪ আসনের মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৩৮ হাজার ৪১২ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৬৮ হাজার ৭১১ জন, নারী ভোটার ১ লাখ ৬৯ হাজার ৬৯২ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গ (হিজড়া) ভোটার ৯ জন। এই আসনটি রৌমারী, রাজিবপুর ও চিলমারী উপজেলার সমন্বয়ে গঠিত। ভোটারদের মন জয় করতে এখন দুই ভাইয়ের প্রতিদ্বন্দ্বিতা নতুন মাত্রা পেয়েছে। স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, এই আসনটি ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘদিন ধরে কুড়িগ্রাম-৪ আসনটি বিএনপি ও জামায়াতের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। ফলে দুই ভাইয়ের মুখোমুখি লড়াই এই আসনটিকে জাতীয় পর্যায়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু করে তুলেছে। একজন প্রবীণ রাজনীতিবিদ বলেন, “রৌমারী, রাজিবপুর ও চিলমারীর ইতিহাসে এমন দৃশ্য প্রথম দেখা যাচ্ছে। ভাই-বিরোধের মধ্যে নির্বাচনী মাঠে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। ভোটাররা এখন কৌতূহল নিয়ে দেখছেন কে এগিয়ে থাকবেন। কেউ বলছেন, “এটা পারিবারিক রাজনৈতিক বিভাজনের প্রতিচ্ছবি।” আবার অনেকে মনে করছেন, দুই ভাইয়ের জনপ্রিয়তা দেখে শেষ হাসি কারই হবে তা দেখা দরকার। স্থানীয়রা বলছেন, এই প্রতিদ্বন্দ্বিতার ফলাফল নির্ভর করবে দুই দলের সাংগঠনিক শক্তি, তৃণমূল নেতাকর্মীদের সক্রিয়তা ও প্রার্থীদের ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তার ওপর। জামায়াতের প্রার্থী মোস্তাফিজার রহমান মোস্তাক বলেন, “আমার বড় ভাই বিএনপি থেকে প্রার্থী হয়েছেন। তিনি আমাকে পরাজিত করতে পারবেন না। কারণ জামায়াতের জনপ্রিয়তা ইতিমধ্যে অনেক বেড়েছে। দুই ভাই প্রার্থী হলেও নির্বাচনে এর কোনো প্রভাব পড়বে না।” বিএনপি প্রার্থী আজিজুর রহমান বলেন, “আমার ছোট ভাই একসময় বিএনপি করতেন। আমি তাকে প্রতিষ্ঠিত করেছি। পরে জামায়াতে যোগ দেন। আমি যদি প্রার্থী না হতাম, তাহলে পারিবারিক পরিচয় ও ইমেজের কারণে সে এককভাবে সুবিধা নিতে পারত। কিন্তু আমি প্রার্থী হওয়ায় সেই সুযোগ তার থেকে চলে গেছে। জনগণ আমাকেই চাইছে। ফলে আমি আশাবাদী যে, পরবর্তী নির্বাচনে দল আমাকে চূড়ান্ত মনোনয়ন দেবে।”


প্রিন্ট