, সোমবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
নোটিশ :
সংবাদের বিষয়ে কিছু জানাতে ইমেইল করুন [email protected] ঠিকানায়

গ্রেপ্তার জরেজ ও প্রেমিকার তথ্য ভিন্ন বলছে র‌্যাব-পুলিশ

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৫:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ নভেম্বর ২০২৫
  • / ১৯ বার পড়া হয়েছে

রংপুরের ব্যবসায়ী আশরাফুল হকের হত্যাকাণ্ড নিয়ে র‌্যাব ও পুলিশ আলাদা আলাদা তথ্য প্রকাশ করেছে। গ্রেফতারকৃত জরেজের বরাত দিয়ে পুলিশ বলেছে, ত্রিভুজ প্রেমের জেরেই তাকে হত্যা করা হয়েছে। অপরদিকে, গ্রেফতার নারীর জবানীতে র‌্যাব জানাচ্ছে, প্রেমের ফাঁদে ফেলে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেয়ার জন্যই ব্যবসায়ীকে খুন করা হয়। শনিবার (১৫ নভেম্বর) ঢাকার মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) এর গোয়েন্দা বিভাগ ও র‌্যাব-৩ পৃথক সংবাদ সম্মেলন করে। গত বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) রাতে হাইকোর্ট সংলগ্ন জাতীয় ঈদগাহ মাঠের গেটের কাছে দুটি নীল রঙের ড্রামে ২৬টি মরদেহ উদ্ধার হয়। ফিঙ্গারপ্রিন্টের মাধ্যমে নিহতের পরিচয় নিশ্চিত করে পুলিশ। তার বাড়ি রংপুরে। তিনি কাঁচামালের ব্যবসা করতেন।

অভিযোগের ভিত্তিতে, শুক্রবার সকালে শাহবাগ থানায় আশরাফুলের পরিবার হত্যা মামলা দায়ের করে। সেইদিনই কুমিল্লার লাকসাম থেকে গ্রেপ্তার করা হয় জরেজের প্রেমিকাকে। তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডের বিভিন্ন আলামত উদ্ধার হয়। আরও, মূল আসামি জরেজকেও পুলিশ গ্রেপ্তার করে। তবে, হত্যার কারণ সম্পর্কে দু’টি সংস্থার তথ্যের মধ্যে মিল পাওয়া যাচ্ছে না।

আশরাফুল হত্যার কারণ সম্পর্কে র‌্যাবের কাছেও স্পষ্ট ধারণা নেই। গ্রেপ্তার নারীর জবানীতে র‌্যাব-৩ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল ফায়েজুল আরেফীন জানিয়েছেন, প্রেমের ফাঁদে ফেলে ১০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার পরিকল্পনা থেকেই এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী, জরেজ আশরাফুলকে অচেতন করে তার সঙ্গে অন্তরঙ্গ ভিডিও ধারণ করেন। জরেজের প্রেমিকা হিসেবে পরিচিত সেই নারীর সাথে সম্পর্ক থাকায়, পরে ব্ল্যাকমেইল না করে জরেজ নেশাগ্রস্ত হয়ে আশরাফুলকে হাতুড়ি দিয়ে পেটাতে থাকলে তার মৃত্যু ঘটে।

অন্যদিকে, ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম জানান, ত্রিভুজ প্রেমের জেরেই আশরাফুলকে হত্যা করা হয়। জরেজ ও ঐ নারীর মধ্যে সম্পর্ক ছিল। এই সম্পর্ক জানার পর, জরেজের স্ত্রী আশরাফুলকে মীমাংসার দায়িত্ব দেন। কিন্তু, ওই নারীর সাথে যোগাযোগের সময় আশরাফুল প্রেমে পড়ে যায়।

তিনি আরও বলেন, পরে জরেজকে জাপানে পাঠানোর জন্য তারা তিনজন ঢাকার ভাড়া থাকা বাসায় ওঠেন। সেখানে আশরাফুলের সাথে ওই নারীর অবৈধ সম্পর্ক দেখে ফেলায়, জরেজের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। এরই ফলস্বরূপ, হাত ও মুখ বাঁধা অবস্থায় শ্বাসরোধে মৃত্যু হয় আশরাফুলের। পরে, ঘটনা ঢাকায় ধামাচাপা দিতে মরদেহগুলো ২৬ টুকরা করে হাইকোর্টের আশপাশে ফেলে যায়।


প্রিন্ট
ট্যাগস

নিউজটি শেয়ার করুন

গ্রেপ্তার জরেজ ও প্রেমিকার তথ্য ভিন্ন বলছে র‌্যাব-পুলিশ

আপডেট সময় ০৫:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ নভেম্বর ২০২৫

রংপুরের ব্যবসায়ী আশরাফুল হকের হত্যাকাণ্ড নিয়ে র‌্যাব ও পুলিশ আলাদা আলাদা তথ্য প্রকাশ করেছে। গ্রেফতারকৃত জরেজের বরাত দিয়ে পুলিশ বলেছে, ত্রিভুজ প্রেমের জেরেই তাকে হত্যা করা হয়েছে। অপরদিকে, গ্রেফতার নারীর জবানীতে র‌্যাব জানাচ্ছে, প্রেমের ফাঁদে ফেলে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেয়ার জন্যই ব্যবসায়ীকে খুন করা হয়। শনিবার (১৫ নভেম্বর) ঢাকার মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) এর গোয়েন্দা বিভাগ ও র‌্যাব-৩ পৃথক সংবাদ সম্মেলন করে। গত বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) রাতে হাইকোর্ট সংলগ্ন জাতীয় ঈদগাহ মাঠের গেটের কাছে দুটি নীল রঙের ড্রামে ২৬টি মরদেহ উদ্ধার হয়। ফিঙ্গারপ্রিন্টের মাধ্যমে নিহতের পরিচয় নিশ্চিত করে পুলিশ। তার বাড়ি রংপুরে। তিনি কাঁচামালের ব্যবসা করতেন।

অভিযোগের ভিত্তিতে, শুক্রবার সকালে শাহবাগ থানায় আশরাফুলের পরিবার হত্যা মামলা দায়ের করে। সেইদিনই কুমিল্লার লাকসাম থেকে গ্রেপ্তার করা হয় জরেজের প্রেমিকাকে। তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডের বিভিন্ন আলামত উদ্ধার হয়। আরও, মূল আসামি জরেজকেও পুলিশ গ্রেপ্তার করে। তবে, হত্যার কারণ সম্পর্কে দু’টি সংস্থার তথ্যের মধ্যে মিল পাওয়া যাচ্ছে না।

আশরাফুল হত্যার কারণ সম্পর্কে র‌্যাবের কাছেও স্পষ্ট ধারণা নেই। গ্রেপ্তার নারীর জবানীতে র‌্যাব-৩ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল ফায়েজুল আরেফীন জানিয়েছেন, প্রেমের ফাঁদে ফেলে ১০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার পরিকল্পনা থেকেই এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী, জরেজ আশরাফুলকে অচেতন করে তার সঙ্গে অন্তরঙ্গ ভিডিও ধারণ করেন। জরেজের প্রেমিকা হিসেবে পরিচিত সেই নারীর সাথে সম্পর্ক থাকায়, পরে ব্ল্যাকমেইল না করে জরেজ নেশাগ্রস্ত হয়ে আশরাফুলকে হাতুড়ি দিয়ে পেটাতে থাকলে তার মৃত্যু ঘটে।

অন্যদিকে, ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম জানান, ত্রিভুজ প্রেমের জেরেই আশরাফুলকে হত্যা করা হয়। জরেজ ও ঐ নারীর মধ্যে সম্পর্ক ছিল। এই সম্পর্ক জানার পর, জরেজের স্ত্রী আশরাফুলকে মীমাংসার দায়িত্ব দেন। কিন্তু, ওই নারীর সাথে যোগাযোগের সময় আশরাফুল প্রেমে পড়ে যায়।

তিনি আরও বলেন, পরে জরেজকে জাপানে পাঠানোর জন্য তারা তিনজন ঢাকার ভাড়া থাকা বাসায় ওঠেন। সেখানে আশরাফুলের সাথে ওই নারীর অবৈধ সম্পর্ক দেখে ফেলায়, জরেজের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। এরই ফলস্বরূপ, হাত ও মুখ বাঁধা অবস্থায় শ্বাসরোধে মৃত্যু হয় আশরাফুলের। পরে, ঘটনা ঢাকায় ধামাচাপা দিতে মরদেহগুলো ২৬ টুকরা করে হাইকোর্টের আশপাশে ফেলে যায়।


প্রিন্ট