, সোমবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
নোটিশ :
সংবাদের বিষয়ে কিছু জানাতে ইমেইল করুন [email protected] ঠিকানায়

ইসরায়েলি হেফাজতে দুই বছরে অন্তত ৯৪ ফিলিস্তিনি নিহত

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১০:৫০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ নভেম্বর ২০২৫
  • / ২০ বার পড়া হয়েছে

ইসরায়েলের নিরাপত্তা বাহিনীর অধীনে গত দুই বছরে কমপক্ষে ৯৪ জন ফিলিস্তিনি বন্দি ও আটক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে জনপ্রিয় মানবাধিকার সংগঠন ফিজিশিয়ানস ফর হিউম্যান রাইটস ইসরায়েল (পিএইচআরআই)। তাদের নতুন প্রতিবেদনে এই মৃত্যুগুলিকে ‘পদ্ধতিগত হত্যাকাণ্ড এবং গোপন করার অপচেষ্টা’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। এই প্রতিবেদনটি তৈরি হয়েছে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর শুরু হওয়া গাজা যুদ্ধ থেকে ২০২৫ সালের ৩১ আগস্ট পর্যন্ত সময়ের তথ্য সংগ্রহ করে। সংগঠনটি জানিয়েছে, গত দশ বছরে ইসরায়েলি হেফাজতে ফিলিস্তিনিদের মৃত্যুর সংখ্যা ৩০ জনেরও কম ছিল। ইসরায়েলি কারা বিভাগের (আইপিএস) পক্ষ থেকে বিবিসিকে জানানো হয়েছে, তারা আইন মেনে বন্দিদের দেখাশোনা করে এবং চিকিৎসা, স্বাস্থ্যবিধি ও ন্যূনতম মানবিক সেবা প্রদান করে। তবে বাইরের কোনো সংস্থার পরিসংখ্যান বা অভিযোগে তারা মন্তব্য করেনি। ৭ অক্টোবরের পর থেকে গাজা ও পশ্চিম তীর জুড়ে হাজারো ফিলিস্তিনিকে আটক করা হয়েছে, যাদের অনেকের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ না থাকলেও তারা বন্দি রয়েছেন। পিএইচআরআই বলেছে, সংঘাত শুরু হওয়ার পর ইসরায়েলি সরকারের নীতির অংশ হিসেবে ‘নিরাপত্তা বন্দি’ হিসেবে আটক ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ধারা প্রবলভাবে চালু হয়েছে। ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ রেডক্রসের কাছেও আর কোনো তথ্য দেয় না এবং আটক কেন্দ্রগুলোর প্রবেশের অনুমতিও নেই। এই প্রতিবেদনে সরকারি নথিপত্র, ফরেনসিক রিপোর্ট, অন্যান্য মানবাধিকার সংগঠনের তথ্য, আটক ব্যক্তিদের পরিবার, আইনজীবী ও মুক্তিপ্রাপ্তদের সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, নিহত ৯৪ জনের মধ্যে ৫২ জন সামরিক কারাগার ও ৪২ জন আইপিএস পরিচালিত সাধারণ কারাগারে ছিলেন। সংগঠনটির দাবি, এই মৃত্যুগুলোর পেছনে শারীরিক নির্যাতন, চিকিৎসা অবহেলা বা উভয় কারণই থাকতে পারে। তারা বিশেষ করে ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভিরের নীতিকে দায়ী করেছে। পিএইচআরআই জানিয়েছে, তার নিয়ন্ত্রণে থাকা কারাগারগুলো ‘নির্যাতন ও মানবাধিকারবঞ্চনার স্থান’ হয়ে উঠেছে। প্রতিদিনকার শারীরিক নির্যাতন ও অমানবিক পরিস্থিতি বহু ফিলিস্তিনির মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সর্বাধিক ২৯ জনের মৃত্যু হয়েছে দক্ষিণ ইসরায়েলের স্দে তেইমান সামরিক কারাগারে। এখানেই ২০২৪ সালের জুলাইয়ে এক ফিলিস্তিনি বন্দিকে মারধর ও যৌন নিপীড়নের অভিযোগে পাঁচ ইসরায়েলি সেনার বিরুদ্ধে মামলা হয়। অভিযুক্তরা এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে এই মৃত্যুর ও নির্যাতনের তদন্ত এড়ানোর অপচেষ্টা, পরিবারকে মৃত্যুসংবাদ না দেওয়া, ময়নাতদন্তে বাধা দেওয়া এবং সংশ্লিষ্টদের বিচার থেকে বিরত রাখার অভিযোগ। এছাড়াও ‘জোরপূর্বক গুম’ নীতির কথা বলা হয়েছে, যেখানে হাজারো ফিলিস্তিনি কোথায় রয়েছেন তা পরিবারের সদস্যরাও জানেন না। সংগঠনটি বলেছে, আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন করে এসব কর্মকাণ্ডের কারণে প্রকৃত মৃত্যুর সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। আইপিএস জানিয়েছে, পিএইচআরআইয়ের উত্থাপিত অভিযোগগুলো তাদের ব্যবস্থাপনার সঙ্গে মিলছে না। তারা প্রতিটি মৃত্যুর তদন্তের নিয়ম অনুসরণ করে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, তারা আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কাজ করে এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে লোকজনকে আটক করে। কিছু ব্যক্তিকে আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি করা হয়, আবার অনেকে ‘যুদ্ধ থেকে সরানোর’ জন্য প্রতিরোধমূলক আটকেও রাখা হয়। আইডিএফের দাবি, হেফাজতে মৃত্যুর কিছু ঘটনা রয়েছে যেখানে আগে থেকেই অসুস্থ বা আহত ব্যক্তিরা ছিলেন। প্রতিটি মৃত্যু সামরিক পুলিশ তদন্ত করে থাকে।


প্রিন্ট

নিউজটি শেয়ার করুন

ইসরায়েলি হেফাজতে দুই বছরে অন্তত ৯৪ ফিলিস্তিনি নিহত

আপডেট সময় ১০:৫০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ নভেম্বর ২০২৫

ইসরায়েলের নিরাপত্তা বাহিনীর অধীনে গত দুই বছরে কমপক্ষে ৯৪ জন ফিলিস্তিনি বন্দি ও আটক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে জনপ্রিয় মানবাধিকার সংগঠন ফিজিশিয়ানস ফর হিউম্যান রাইটস ইসরায়েল (পিএইচআরআই)। তাদের নতুন প্রতিবেদনে এই মৃত্যুগুলিকে ‘পদ্ধতিগত হত্যাকাণ্ড এবং গোপন করার অপচেষ্টা’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। এই প্রতিবেদনটি তৈরি হয়েছে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর শুরু হওয়া গাজা যুদ্ধ থেকে ২০২৫ সালের ৩১ আগস্ট পর্যন্ত সময়ের তথ্য সংগ্রহ করে। সংগঠনটি জানিয়েছে, গত দশ বছরে ইসরায়েলি হেফাজতে ফিলিস্তিনিদের মৃত্যুর সংখ্যা ৩০ জনেরও কম ছিল। ইসরায়েলি কারা বিভাগের (আইপিএস) পক্ষ থেকে বিবিসিকে জানানো হয়েছে, তারা আইন মেনে বন্দিদের দেখাশোনা করে এবং চিকিৎসা, স্বাস্থ্যবিধি ও ন্যূনতম মানবিক সেবা প্রদান করে। তবে বাইরের কোনো সংস্থার পরিসংখ্যান বা অভিযোগে তারা মন্তব্য করেনি। ৭ অক্টোবরের পর থেকে গাজা ও পশ্চিম তীর জুড়ে হাজারো ফিলিস্তিনিকে আটক করা হয়েছে, যাদের অনেকের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ না থাকলেও তারা বন্দি রয়েছেন। পিএইচআরআই বলেছে, সংঘাত শুরু হওয়ার পর ইসরায়েলি সরকারের নীতির অংশ হিসেবে ‘নিরাপত্তা বন্দি’ হিসেবে আটক ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ধারা প্রবলভাবে চালু হয়েছে। ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ রেডক্রসের কাছেও আর কোনো তথ্য দেয় না এবং আটক কেন্দ্রগুলোর প্রবেশের অনুমতিও নেই। এই প্রতিবেদনে সরকারি নথিপত্র, ফরেনসিক রিপোর্ট, অন্যান্য মানবাধিকার সংগঠনের তথ্য, আটক ব্যক্তিদের পরিবার, আইনজীবী ও মুক্তিপ্রাপ্তদের সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, নিহত ৯৪ জনের মধ্যে ৫২ জন সামরিক কারাগার ও ৪২ জন আইপিএস পরিচালিত সাধারণ কারাগারে ছিলেন। সংগঠনটির দাবি, এই মৃত্যুগুলোর পেছনে শারীরিক নির্যাতন, চিকিৎসা অবহেলা বা উভয় কারণই থাকতে পারে। তারা বিশেষ করে ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভিরের নীতিকে দায়ী করেছে। পিএইচআরআই জানিয়েছে, তার নিয়ন্ত্রণে থাকা কারাগারগুলো ‘নির্যাতন ও মানবাধিকারবঞ্চনার স্থান’ হয়ে উঠেছে। প্রতিদিনকার শারীরিক নির্যাতন ও অমানবিক পরিস্থিতি বহু ফিলিস্তিনির মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সর্বাধিক ২৯ জনের মৃত্যু হয়েছে দক্ষিণ ইসরায়েলের স্দে তেইমান সামরিক কারাগারে। এখানেই ২০২৪ সালের জুলাইয়ে এক ফিলিস্তিনি বন্দিকে মারধর ও যৌন নিপীড়নের অভিযোগে পাঁচ ইসরায়েলি সেনার বিরুদ্ধে মামলা হয়। অভিযুক্তরা এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে এই মৃত্যুর ও নির্যাতনের তদন্ত এড়ানোর অপচেষ্টা, পরিবারকে মৃত্যুসংবাদ না দেওয়া, ময়নাতদন্তে বাধা দেওয়া এবং সংশ্লিষ্টদের বিচার থেকে বিরত রাখার অভিযোগ। এছাড়াও ‘জোরপূর্বক গুম’ নীতির কথা বলা হয়েছে, যেখানে হাজারো ফিলিস্তিনি কোথায় রয়েছেন তা পরিবারের সদস্যরাও জানেন না। সংগঠনটি বলেছে, আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন করে এসব কর্মকাণ্ডের কারণে প্রকৃত মৃত্যুর সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। আইপিএস জানিয়েছে, পিএইচআরআইয়ের উত্থাপিত অভিযোগগুলো তাদের ব্যবস্থাপনার সঙ্গে মিলছে না। তারা প্রতিটি মৃত্যুর তদন্তের নিয়ম অনুসরণ করে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, তারা আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কাজ করে এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে লোকজনকে আটক করে। কিছু ব্যক্তিকে আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি করা হয়, আবার অনেকে ‘যুদ্ধ থেকে সরানোর’ জন্য প্রতিরোধমূলক আটকেও রাখা হয়। আইডিএফের দাবি, হেফাজতে মৃত্যুর কিছু ঘটনা রয়েছে যেখানে আগে থেকেই অসুস্থ বা আহত ব্যক্তিরা ছিলেন। প্রতিটি মৃত্যু সামরিক পুলিশ তদন্ত করে থাকে।


প্রিন্ট