, সোমবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
নোটিশ :
সংবাদের বিষয়ে কিছু জানাতে ইমেইল করুন [email protected] ঠিকানায়

ভিয়েতনামে টানা বন্যায় অন্তত ৪১ জনের মৃত্যু

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১০:১৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ নভেম্বর ২০২৫
  • / ১৩ বার পড়া হয়েছে

ভিয়েতনামের মধ্যাঞ্চলে দীর্ঘ সময় ধরে চলমান ভারী বর্ষণ এবং মারাত্মক বন্যার কারণে কমপক্ষে ৪১ জনের মৃত্যু হয়েছে। সরকারি সূত্র জানিয়েছে, এখনো নয়জনের খোঁজ পাওয়া যায়নি। এই দুর্যোগের কারণে ৫২ হাজারের বেশি ঘরবাড়ি ডুবে গেছে, প্রায় পৌনে পাঁচ লাখ পরিবার ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে। বিপদগ্রস্ত এলাকাগুলিতে হাজারো মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। গত তিন দিনে কয়েকটি অঞ্চলজুড়ে বৃষ্টিপাত ১.৯ মিটারের বেশি হয়েছে। কিছু অঞ্চলে পানির উচ্চতা ১৯৯৩ সালের ভয়াবহ বন্যার রেকর্ডকেও অতিক্রম করেছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে একের পর এক প্রাকৃতিক দুর্যোগে ভিয়েতনাম ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। টাইফুন কালমেগি ও বুয়ালয় এই দেশের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করেছে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে দুই বিলিয়ন ডলার। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে হোই আন ও না চাং উপকূলীয় শহরসহ মধ্যাঞ্চলের কফি চাষের এলাকা। আগের ঝড়ের কারণে যেখানে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছিল, সেখানে নতুন বন্যার ফলে হাজার হাজার বাড়িঘর পানিতে তলিয়ে গেছে। দেশের সবচেয়ে বড় কফি উৎপাদন অঞ্চল ডাক লাক প্রদেশের পরিস্থিতি সবচেয়ে মারাত্মক। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রোববার পর্যন্ত এই দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া অব্যাহত থাকতে পারে। সেনাবাহিনী ও পুলিশকে জরুরি আশ্রয়কেন্দ্র তৈরির জন্য মোতায়েন করা হয়েছে। ভূমিধসের কারণে অনেক সড়ক ও মহাসড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় কিছু এলাকায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। ডা লাট পর্যটন শহরে প্রবেশের মূল পথ মিমোসা পাসের একটি অংশ ভেঙে পড়ায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। স্থানীয় গণমাধ্যমের ছবি ও ভিডিওতে দেখা গেছে, অনেক মানুষ ঘরের ছাদের ওপর আটকা পড়ে আছেন; লাম ডং প্রদেশে একটি ঝুলন্ত সেতু ভেঙে যাওয়ার দৃশ্য সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। না চাং শহরের এক রেস্তোরাঁ মালিক জানিয়েছেন, তার দোকানগুলো প্রায় এক মিটার পানির নিচে। তিনি বলেন, “ফার্নিচার নষ্ট হয়ে যাওয়ার ভয় আছে, কিন্তু কিছু করার নেই। বৃষ্টি এখনো থামেনি, তাই পানির পরিমাণ দ্রুত কমবে বলে মনে হয় না।” এর আগে নভেম্বরের শুরুতে টাইফুন কালমেগির আঘাতে ভিয়েতনামের মধ্যাঞ্চলে পাঁচজনের মৃত্যু হয়। সেপ্টেম্বরেও টাইফুন বুয়ালয় আঘাত হানায় কমপক্ষে ১১ জনের প্রাণ হারিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এই অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড়ের শক্তি ও ঘনত্ব দুইই বৃদ্ধি পাচ্ছে।


প্রিন্ট

নিউজটি শেয়ার করুন

ভিয়েতনামে টানা বন্যায় অন্তত ৪১ জনের মৃত্যু

আপডেট সময় ১০:১৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ নভেম্বর ২০২৫

ভিয়েতনামের মধ্যাঞ্চলে দীর্ঘ সময় ধরে চলমান ভারী বর্ষণ এবং মারাত্মক বন্যার কারণে কমপক্ষে ৪১ জনের মৃত্যু হয়েছে। সরকারি সূত্র জানিয়েছে, এখনো নয়জনের খোঁজ পাওয়া যায়নি। এই দুর্যোগের কারণে ৫২ হাজারের বেশি ঘরবাড়ি ডুবে গেছে, প্রায় পৌনে পাঁচ লাখ পরিবার ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে। বিপদগ্রস্ত এলাকাগুলিতে হাজারো মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। গত তিন দিনে কয়েকটি অঞ্চলজুড়ে বৃষ্টিপাত ১.৯ মিটারের বেশি হয়েছে। কিছু অঞ্চলে পানির উচ্চতা ১৯৯৩ সালের ভয়াবহ বন্যার রেকর্ডকেও অতিক্রম করেছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে একের পর এক প্রাকৃতিক দুর্যোগে ভিয়েতনাম ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। টাইফুন কালমেগি ও বুয়ালয় এই দেশের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করেছে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে দুই বিলিয়ন ডলার। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে হোই আন ও না চাং উপকূলীয় শহরসহ মধ্যাঞ্চলের কফি চাষের এলাকা। আগের ঝড়ের কারণে যেখানে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছিল, সেখানে নতুন বন্যার ফলে হাজার হাজার বাড়িঘর পানিতে তলিয়ে গেছে। দেশের সবচেয়ে বড় কফি উৎপাদন অঞ্চল ডাক লাক প্রদেশের পরিস্থিতি সবচেয়ে মারাত্মক। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রোববার পর্যন্ত এই দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া অব্যাহত থাকতে পারে। সেনাবাহিনী ও পুলিশকে জরুরি আশ্রয়কেন্দ্র তৈরির জন্য মোতায়েন করা হয়েছে। ভূমিধসের কারণে অনেক সড়ক ও মহাসড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় কিছু এলাকায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। ডা লাট পর্যটন শহরে প্রবেশের মূল পথ মিমোসা পাসের একটি অংশ ভেঙে পড়ায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। স্থানীয় গণমাধ্যমের ছবি ও ভিডিওতে দেখা গেছে, অনেক মানুষ ঘরের ছাদের ওপর আটকা পড়ে আছেন; লাম ডং প্রদেশে একটি ঝুলন্ত সেতু ভেঙে যাওয়ার দৃশ্য সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। না চাং শহরের এক রেস্তোরাঁ মালিক জানিয়েছেন, তার দোকানগুলো প্রায় এক মিটার পানির নিচে। তিনি বলেন, “ফার্নিচার নষ্ট হয়ে যাওয়ার ভয় আছে, কিন্তু কিছু করার নেই। বৃষ্টি এখনো থামেনি, তাই পানির পরিমাণ দ্রুত কমবে বলে মনে হয় না।” এর আগে নভেম্বরের শুরুতে টাইফুন কালমেগির আঘাতে ভিয়েতনামের মধ্যাঞ্চলে পাঁচজনের মৃত্যু হয়। সেপ্টেম্বরেও টাইফুন বুয়ালয় আঘাত হানায় কমপক্ষে ১১ জনের প্রাণ হারিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এই অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড়ের শক্তি ও ঘনত্ব দুইই বৃদ্ধি পাচ্ছে।


প্রিন্ট