, সোমবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
নোটিশ :
সংবাদের বিষয়ে কিছু জানাতে ইমেইল করুন [email protected] ঠিকানায়

ব্যাংক বন্ধ হলে তাৎক্ষণিক ২ লাখ টাকা পাবেন আমানতকারী

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৭:৪৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৪ নভেম্বর ২০২৫
  • / ১৭ বার পড়া হয়েছে

দেশের ব্যাংকিং ক্ষেত্রের আমানতকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার অমানত সুরক্ষা আইন, ২০২৫ জারি করেছে। এই আইনের ফলে কোনও ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অবসায়ন বা বন্ধ হয়ে গেলে সাধারণ আমানতকারীরা তাৎক্ষণিকভাবে সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা ফেরত পাবেন। রোববার (২৩ নভেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের ডিপোজিট ইনস্যুরেন্স বিভাগ থেকে একটি সার্কুলার প্রকাশ করে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, আমানতকারীর অর্থের সুরক্ষা ও আস্থা বৃদ্ধি করতে সরকার এই ‘অমানত সুরক্ষা আইন, ২০২৫’ প্রণয়ন করেছে। সংসদ ভেঙে যাওয়ায় জরুরি পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রপতি সংবিধানের ৯৩(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী এই আইন জারি করেছেন। এর মাধ্যমে ব্যাংক আমানত বীমা আইন, ২০০০ বাতিল হয়ে নতুন আধুনিক আইন কার্যকর হলো। এই আইনে বলা হয়েছে, দেশের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে রাখা সাধারণ আমানত নিরাপদভাবে ফেরত দেওয়া এই আইনের মূল লক্ষ্য। এজন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের অধীনে একটি পৃথক ‘অমানত সুরক্ষা বিভাগ’ গঠন করা হবে। বিভাগটি প্রিমিয়াম সংগ্রহ, তহবিল পরিচালনা, সদস্য প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন, আমানত পরিশোধ ও জনসচেতনতা কার্যক্রম পরিচালনা করবে। নতুন আইনে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের জন্য দুটি পৃথক আমানত তহবিল গঠনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এই তহবিল তৈরি হবে প্রিমিয়াম, জরিমানা, বিনিয়োগের আয় ও অন্যান্য উৎস থেকে। তহবিলের প্রশাসন করবে বাংলাদেশ ব্যাংকের বোর্ড, যা ট্রাস্টি বোর্ড হিসেবে কাজ করবে। নতুন লাইসেন্সপ্রাপ্ত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রারম্ভিক প্রিমিয়াম জমা দিতে হবে। বর্তমানে কার্যরত সব ব্যাংক স্বয়ংক্রিয়ভাবে সদস্য হিসেবে গণ্য হবে, আর ফাইন্যান্স কোম্পানিগুলো ২০২৮ সালের ১ জুলাই থেকে সদস্যপদে যুক্ত হবে। এছাড়া, ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে ঝুঁকি-ভিত্তিক প্রিমিয়াম আদায়ের নিয়মও চালু থাকবে। সরকারি, বিদেশি ও আন্তর্জাতিক সংস্থার কিছু বিশেষ আমানত এই সুরক্ষার বাইরে থাকবে। তবে সাধারণ ব্যক্তি ও সংস্থাগুলোর আমানত নির্ধারিত সীমার মধ্যে সুরক্ষিত থাকবে। আর ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান অবসায়ণ বা রেজল্যুশনে গেলে আমানতকারীরা সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা তাৎক্ষণিকভাবে পাবেন। প্রয়োজন হলে ব্রিজ ব্যাংক বা অন্য তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে আমানত ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া হবে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে। এ ছাড়া, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ, বিদেশি নিয়ন্ত্রক সংস্থার সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর, তথ্য বিনিময় ও প্রযুক্তিগত সহায়তা নেওয়ার ক্ষমতাও বাংলাদেশ ব্যাংককে দেওয়া হয়েছে। নতুন এই আইনের কার্যকারিতা নিশ্চিত হলে ব্যাংকিং খাতে সংকট মোকাবিলা ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা আরও শক্তিশালী হবে, আর আমানতকারীরা আগের চেয়ে বেশি সুরক্ষা পাবেন বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।


প্রিন্ট
ট্যাগস

নিউজটি শেয়ার করুন

ব্যাংক বন্ধ হলে তাৎক্ষণিক ২ লাখ টাকা পাবেন আমানতকারী

আপডেট সময় ০৭:৪৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৪ নভেম্বর ২০২৫

দেশের ব্যাংকিং ক্ষেত্রের আমানতকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার অমানত সুরক্ষা আইন, ২০২৫ জারি করেছে। এই আইনের ফলে কোনও ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অবসায়ন বা বন্ধ হয়ে গেলে সাধারণ আমানতকারীরা তাৎক্ষণিকভাবে সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা ফেরত পাবেন। রোববার (২৩ নভেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের ডিপোজিট ইনস্যুরেন্স বিভাগ থেকে একটি সার্কুলার প্রকাশ করে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, আমানতকারীর অর্থের সুরক্ষা ও আস্থা বৃদ্ধি করতে সরকার এই ‘অমানত সুরক্ষা আইন, ২০২৫’ প্রণয়ন করেছে। সংসদ ভেঙে যাওয়ায় জরুরি পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রপতি সংবিধানের ৯৩(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী এই আইন জারি করেছেন। এর মাধ্যমে ব্যাংক আমানত বীমা আইন, ২০০০ বাতিল হয়ে নতুন আধুনিক আইন কার্যকর হলো। এই আইনে বলা হয়েছে, দেশের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে রাখা সাধারণ আমানত নিরাপদভাবে ফেরত দেওয়া এই আইনের মূল লক্ষ্য। এজন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের অধীনে একটি পৃথক ‘অমানত সুরক্ষা বিভাগ’ গঠন করা হবে। বিভাগটি প্রিমিয়াম সংগ্রহ, তহবিল পরিচালনা, সদস্য প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন, আমানত পরিশোধ ও জনসচেতনতা কার্যক্রম পরিচালনা করবে। নতুন আইনে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের জন্য দুটি পৃথক আমানত তহবিল গঠনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এই তহবিল তৈরি হবে প্রিমিয়াম, জরিমানা, বিনিয়োগের আয় ও অন্যান্য উৎস থেকে। তহবিলের প্রশাসন করবে বাংলাদেশ ব্যাংকের বোর্ড, যা ট্রাস্টি বোর্ড হিসেবে কাজ করবে। নতুন লাইসেন্সপ্রাপ্ত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রারম্ভিক প্রিমিয়াম জমা দিতে হবে। বর্তমানে কার্যরত সব ব্যাংক স্বয়ংক্রিয়ভাবে সদস্য হিসেবে গণ্য হবে, আর ফাইন্যান্স কোম্পানিগুলো ২০২৮ সালের ১ জুলাই থেকে সদস্যপদে যুক্ত হবে। এছাড়া, ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে ঝুঁকি-ভিত্তিক প্রিমিয়াম আদায়ের নিয়মও চালু থাকবে। সরকারি, বিদেশি ও আন্তর্জাতিক সংস্থার কিছু বিশেষ আমানত এই সুরক্ষার বাইরে থাকবে। তবে সাধারণ ব্যক্তি ও সংস্থাগুলোর আমানত নির্ধারিত সীমার মধ্যে সুরক্ষিত থাকবে। আর ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান অবসায়ণ বা রেজল্যুশনে গেলে আমানতকারীরা সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা তাৎক্ষণিকভাবে পাবেন। প্রয়োজন হলে ব্রিজ ব্যাংক বা অন্য তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে আমানত ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া হবে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে। এ ছাড়া, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ, বিদেশি নিয়ন্ত্রক সংস্থার সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর, তথ্য বিনিময় ও প্রযুক্তিগত সহায়তা নেওয়ার ক্ষমতাও বাংলাদেশ ব্যাংককে দেওয়া হয়েছে। নতুন এই আইনের কার্যকারিতা নিশ্চিত হলে ব্যাংকিং খাতে সংকট মোকাবিলা ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা আরও শক্তিশালী হবে, আর আমানতকারীরা আগের চেয়ে বেশি সুরক্ষা পাবেন বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।


প্রিন্ট