, সোমবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
নোটিশ :
সংবাদের বিষয়ে কিছু জানাতে ইমেইল করুন [email protected] ঠিকানায়

ইন্দোনেশিয়ায় ভয়াবহ বন্যা–ভূমিধসে ১০ জনের মৃত্যু

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০২:৪২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ নভেম্বর ২০২৫
  • / ১৫ বার পড়া হয়েছে

ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা দ্বীপে মৌসুমি বৃষ্টিপাতের প্রভাবে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে। এতে এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ১০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে এবং আরও অনেককে খোঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। সোমবার থেকে অব্যাহত ভারী বর্ষণে উত্তর সুমাত্রার কিছু নদী উপচে পড়ে। এতে কাদা, পাথর ও গাছপালা ভেসে গিয়ে ছয়টি অঞ্চলের গ্রামগুলো ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বুধবার পুলিশ জানায়, সড়ক ভেঙে যাওয়ায় দুর্গম অঞ্চলে উদ্ধারকর্মীরা পৌঁছাতে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছেন। উত্তর সাগরপাড়ের সিবোলগা শহরে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে। সেখান থেকে পাঁচজনের মরদেহ ও তিনজনকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। এখনো চারজন নিখোঁজ রয়েছেন। পাশের সেন্ট্রাল তাপানুলিতে ভূমিধসের ফলে কয়েকটি বাড়ি চাপা পড়ে কমপক্ষে চারজনের মৃত্যু হয়। সেখানে প্রায় দুই হাজার বাড়ি ও সরকারি ভবন পানির নিচে চলে গেছে। দক্ষিণ তাপানুলিতে বন্যা ও গাছ উপড়ে পড়ার কারণে একজনের মৃত্যু হয়েছে এবং আরেকজন আহত হয়েছেন। মানদাইলিং নাটাল এলাকায় একটি সেতু ভেঙে যাওয়ায় আশপাশের এলাকার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ৪৭০টি বাড়ি প্লাবিত হয়েছে। নিয়াস দ্বীপে কাদা ও ধ্বংসস্তূপ প্রধান সড়ক আটকে ফেলায় বেশ কিছু গ্রামসহ যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। স্থানীয়দের তোলা ভিডিওতে দেখা গেছে, হঠাৎ স্রোতের পানি ছাদ পর্যন্ত উঠে এসেছে। অনেক পরিবার নিরাপদ স্থানে ছুটে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। দ্রুতগামী স্রোতে গাছের গুঁড়ি, ঘরবাড়ির জিনিসপত্র ও অন্যান্য ধ্বংসাবশেষ ভেসে যেতে দেখা গেছে। সিবোলগা শহর পুলিশের প্রধান এডি ইঙ্গান্তা জানান, শহরে আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। যেসব পরিবার পাহাড়ের ঝুঁকিপূর্ণ ঢালে থাকেন, তাদের অবিলম্বে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে ছয়টি ভূমিধসে ১৭টি বাড়ি ও একটি ক্যাফে ধ্বংস হয়েছে। তিনি বলেন, ‘খারাপ আবহাওয়া ও কাদার কারণে উদ্ধার কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। যদি বৃষ্টি অব্যাহত থাকে, তাহলে আরও ভূমিধসের আশঙ্কা রয়েছে।’ এর মধ্যেই মধ্য জাভার দুটি জেলায় আগের ঝড়ে ৩৮ জনের মৃত্যুতে ১০ দিনের উদ্ধার অভিযান শেষ করেছে জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা। এখনও সেখানে ১৩ জন নিখোঁজ রয়েছেন। ইন্দোনেশিয়ায় অক্টোবর থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত মৌসুমি বৃষ্টির সময় প্রায়ই বন্যা ও ভূমিধসের ঘটনা ঘটে। উর্বর সমভূমি ও পাহাড়ি ঢালের কাছে বসবাসকারী লাখো মানুষ এসব দুর্যোগের ঝুঁকিতে থাকেন।


প্রিন্ট

নিউজটি শেয়ার করুন

ইন্দোনেশিয়ায় ভয়াবহ বন্যা–ভূমিধসে ১০ জনের মৃত্যু

আপডেট সময় ০২:৪২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ নভেম্বর ২০২৫

ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা দ্বীপে মৌসুমি বৃষ্টিপাতের প্রভাবে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে। এতে এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ১০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে এবং আরও অনেককে খোঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। সোমবার থেকে অব্যাহত ভারী বর্ষণে উত্তর সুমাত্রার কিছু নদী উপচে পড়ে। এতে কাদা, পাথর ও গাছপালা ভেসে গিয়ে ছয়টি অঞ্চলের গ্রামগুলো ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বুধবার পুলিশ জানায়, সড়ক ভেঙে যাওয়ায় দুর্গম অঞ্চলে উদ্ধারকর্মীরা পৌঁছাতে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছেন। উত্তর সাগরপাড়ের সিবোলগা শহরে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে। সেখান থেকে পাঁচজনের মরদেহ ও তিনজনকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। এখনো চারজন নিখোঁজ রয়েছেন। পাশের সেন্ট্রাল তাপানুলিতে ভূমিধসের ফলে কয়েকটি বাড়ি চাপা পড়ে কমপক্ষে চারজনের মৃত্যু হয়। সেখানে প্রায় দুই হাজার বাড়ি ও সরকারি ভবন পানির নিচে চলে গেছে। দক্ষিণ তাপানুলিতে বন্যা ও গাছ উপড়ে পড়ার কারণে একজনের মৃত্যু হয়েছে এবং আরেকজন আহত হয়েছেন। মানদাইলিং নাটাল এলাকায় একটি সেতু ভেঙে যাওয়ায় আশপাশের এলাকার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ৪৭০টি বাড়ি প্লাবিত হয়েছে। নিয়াস দ্বীপে কাদা ও ধ্বংসস্তূপ প্রধান সড়ক আটকে ফেলায় বেশ কিছু গ্রামসহ যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। স্থানীয়দের তোলা ভিডিওতে দেখা গেছে, হঠাৎ স্রোতের পানি ছাদ পর্যন্ত উঠে এসেছে। অনেক পরিবার নিরাপদ স্থানে ছুটে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। দ্রুতগামী স্রোতে গাছের গুঁড়ি, ঘরবাড়ির জিনিসপত্র ও অন্যান্য ধ্বংসাবশেষ ভেসে যেতে দেখা গেছে। সিবোলগা শহর পুলিশের প্রধান এডি ইঙ্গান্তা জানান, শহরে আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। যেসব পরিবার পাহাড়ের ঝুঁকিপূর্ণ ঢালে থাকেন, তাদের অবিলম্বে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে ছয়টি ভূমিধসে ১৭টি বাড়ি ও একটি ক্যাফে ধ্বংস হয়েছে। তিনি বলেন, ‘খারাপ আবহাওয়া ও কাদার কারণে উদ্ধার কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। যদি বৃষ্টি অব্যাহত থাকে, তাহলে আরও ভূমিধসের আশঙ্কা রয়েছে।’ এর মধ্যেই মধ্য জাভার দুটি জেলায় আগের ঝড়ে ৩৮ জনের মৃত্যুতে ১০ দিনের উদ্ধার অভিযান শেষ করেছে জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা। এখনও সেখানে ১৩ জন নিখোঁজ রয়েছেন। ইন্দোনেশিয়ায় অক্টোবর থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত মৌসুমি বৃষ্টির সময় প্রায়ই বন্যা ও ভূমিধসের ঘটনা ঘটে। উর্বর সমভূমি ও পাহাড়ি ঢালের কাছে বসবাসকারী লাখো মানুষ এসব দুর্যোগের ঝুঁকিতে থাকেন।


প্রিন্ট