, সোমবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
নোটিশ :
সংবাদের বিষয়ে কিছু জানাতে ইমেইল করুন [email protected] ঠিকানায়

ভেনেজুয়েলার উপর ও চারপাশের আকাশসীমা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ: ট্রাম্প

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১২ ঘন্টা আগে
  • / ৭ বার পড়া হয়েছে

আমেরিকা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে চাপ বৃদ্ধি করার জন্য নতুন নির্দেশনা জারি করেছেন। শনিবার তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় এক পোস্টে এয়ারলাইন্স, পাইলট ও অপরাধ চক্রগুলোকে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, ‘ভেনেজুয়েলার উপর এবং এর আশেপাশের আকাশসীমা সম্পূর্ণ বন্ধ বলে ভাবুন।’ ট্রাম্প প্রশাসন ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে অপসারণের জন্য চাপ বাড়াচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, তারা অভিবাসন ও মাদক পাচার রোধের জন্য এই পদক্ষেপ নিচ্ছে; তবে এর ফলে মাদুরো সরকারের উপরে রাজনৈতিক চাপ আরও জোরদার হচ্ছে। ভেনেজুয়েলার পররাষ্ট্র মন্ত্রী এই নির্দেশনাকে ‘উপনিবেশিক হুমকি’ বলে আখ্যায়িত করে জানান, যুক্তরাষ্ট্র কোনোভাবেই অন্য দেশের আকাশসীমা বন্ধের ঘোষণা দিতে পারে না। তবে গত সপ্তাহে মার্কিন ফেডারেল এভিয়েশন অ্যান্ড অ্যাটমোস্ফিয়ার বড় এয়ারলাইন্সগুলোকে ভেনেজুয়েলার আকাশে ‘ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি’ সংক্রান্ত সতর্কতা দিয়েছে। ২০১৯ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি কোনও যাত্রী বা কার্গো ফ্লাইট ভেনেজুয়েলায় যায় না, তবে কিছু মার্কিন এয়ারলাইন্স দক্ষিণ আমেরিকা রুটে এয়ার স্পেস ব্যবহার করে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ট্রাম্প স্বীকার করেছেন, তিনি ভেনেজুয়েলায় সিআইএ এর অভিযানের অনুমতি দিয়েছেন। পাশাপাশি মাদুরো সরকারকে ‘বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে চিহ্নিত করে, এতে ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযান চালানোর সুযোগ আরও বাড়ছে। ট্রাম্প বৃহস্পতিবার ইঙ্গিত দেন—স্থলপথে হামলাও খুব শিগগির শুরু হতে পারে। থ্যাংকসগিভিং উপলক্ষে সেনাদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি বলেন, ‘সাগরপথে এখন আর বেশি মাদক পাচার হয় না। এবার স্থলপথেও বন্ধ করতে শুরু করব, খুব দ্রুতই।’ এই পরিস্থিতিতে রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম ট্রাম্পের নীতির প্রশংসা করেন। যুক্তরাষ্ট্র এই অঞ্চলে ‘অপারেশন সাউদার্ন স্পিয়ার’ নামে অভিযান চালাচ্ছে, যেখানে ১৫ হাজারের বেশি সেনা ও একাধিক যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন রয়েছে। মাদকবিরোধী অভিযানের সময় নৌসেনাদের ওপর হামলায় বহু মানুষ নিহত হয়েছে। অন্যদিকে মাদুরো নিজের অবস্থান দৃঢ়ভাবে প্রকাশ করে বলেন, ‘আমরা সশস্ত্র প্রজাতন্ত্র। আমাদের জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করার জন্য প্রস্তুত থাকুন।’ ট্রাম্পের পররাষ্ট্র দপ্তর, বিশেষ করে মন্ত্রী মার্কো রুবিও, মাদুরো সরকারের বিরুদ্ধে সামরিক বিকল্পের আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। যদিও অক্টোবর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার সঙ্গে আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ বন্ধ রেখেছিল, ট্রাম্প গত সপ্তাহে ইঙ্গিত দেন—‘উপযুক্ত সময় এলে’ তিনি মাদুরোর সঙ্গে আলোচনা করতে পারেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, গত সপ্তাহে ট্রাম্প ও মাদুরো ফোনে কথা বলেছেন। আলোচনায় মাদুরো ইঙ্গিত করেছেন—তিনি পদত্যাগে প্রস্তুত, তবে এর জন্য অন্তত ১৮ মাস সময় চান। তবে হোয়াইট হাউস বলছে—মাদুরোর ‘তাৎক্ষণিক প্রস্থান’ ছাড়া অন্য কোনও পরিকল্পনায় তারা সাড়া দেবে না। অন্যদিকে ভেনেজুয়েলা জনগণের মধ্যে পরিস্থিতি নিয়ে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে—কেউ উদাসীন, কেউ উদ্বিগ্ন। গত এক দশকে দেশটি অর্থনৈতিক বিপর্যয়, রাজনৈতিক অস্থিরতা, বিক্ষোভ ও ব্যর্থ অভ্যুত্থানসহ নানা সংকটের মুখোমুখি হয়েছে। কারাকাসের এক ক্যাফে কর্মী মারিলিন বলেন, ‘বোমা মারবে কি মারবে না—কোথায় জানে? সত্যি বলতে কেউ কিছুই জানে না।’ এদিকে মাদুরো সরকারের দমন-পীড়ন অব্যাহত রয়েছে। মানবাধিকার সংস্থা প্রোভিয়া জানায়, শুধু অক্টোবর মাসেই অন্তত ৫৪ জনকে মত প্রকাশের কারণে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, অনেকে হোয়াটসঅ্যাপে সরকারবিরোধী বার্তা দেওয়ার জন্য আটক হয়েছেন। জনজীবনে এখনো বড় ধরনের প্রভাব পড়েনি, তবে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হামলার আলোচনা ব্যক্তিগত পর্যায়ে চলমান। প্রকাশ্যে বরং ছুটির মৌসুমের সাজসজ্জা, ব্ল্যাক ফ্রাইডে ঘোষণা ও দৈনন্দিন খবরের পাশাপাশি মানুষ মাদুরোর ভাষণ শুনছে। সোমবার মাদুরো বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র যা-ই করুক, ভেনেজুয়েলাকে হারাতে পারবে না। আমরা অজেয়।’ সূত্র: সিএনএন


প্রিন্ট

নিউজটি শেয়ার করুন

ভেনেজুয়েলার উপর ও চারপাশের আকাশসীমা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ: ট্রাম্প

আপডেট সময় ১২ ঘন্টা আগে

আমেরিকা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে চাপ বৃদ্ধি করার জন্য নতুন নির্দেশনা জারি করেছেন। শনিবার তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় এক পোস্টে এয়ারলাইন্স, পাইলট ও অপরাধ চক্রগুলোকে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, ‘ভেনেজুয়েলার উপর এবং এর আশেপাশের আকাশসীমা সম্পূর্ণ বন্ধ বলে ভাবুন।’ ট্রাম্প প্রশাসন ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে অপসারণের জন্য চাপ বাড়াচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, তারা অভিবাসন ও মাদক পাচার রোধের জন্য এই পদক্ষেপ নিচ্ছে; তবে এর ফলে মাদুরো সরকারের উপরে রাজনৈতিক চাপ আরও জোরদার হচ্ছে। ভেনেজুয়েলার পররাষ্ট্র মন্ত্রী এই নির্দেশনাকে ‘উপনিবেশিক হুমকি’ বলে আখ্যায়িত করে জানান, যুক্তরাষ্ট্র কোনোভাবেই অন্য দেশের আকাশসীমা বন্ধের ঘোষণা দিতে পারে না। তবে গত সপ্তাহে মার্কিন ফেডারেল এভিয়েশন অ্যান্ড অ্যাটমোস্ফিয়ার বড় এয়ারলাইন্সগুলোকে ভেনেজুয়েলার আকাশে ‘ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি’ সংক্রান্ত সতর্কতা দিয়েছে। ২০১৯ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি কোনও যাত্রী বা কার্গো ফ্লাইট ভেনেজুয়েলায় যায় না, তবে কিছু মার্কিন এয়ারলাইন্স দক্ষিণ আমেরিকা রুটে এয়ার স্পেস ব্যবহার করে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ট্রাম্প স্বীকার করেছেন, তিনি ভেনেজুয়েলায় সিআইএ এর অভিযানের অনুমতি দিয়েছেন। পাশাপাশি মাদুরো সরকারকে ‘বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে চিহ্নিত করে, এতে ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযান চালানোর সুযোগ আরও বাড়ছে। ট্রাম্প বৃহস্পতিবার ইঙ্গিত দেন—স্থলপথে হামলাও খুব শিগগির শুরু হতে পারে। থ্যাংকসগিভিং উপলক্ষে সেনাদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি বলেন, ‘সাগরপথে এখন আর বেশি মাদক পাচার হয় না। এবার স্থলপথেও বন্ধ করতে শুরু করব, খুব দ্রুতই।’ এই পরিস্থিতিতে রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম ট্রাম্পের নীতির প্রশংসা করেন। যুক্তরাষ্ট্র এই অঞ্চলে ‘অপারেশন সাউদার্ন স্পিয়ার’ নামে অভিযান চালাচ্ছে, যেখানে ১৫ হাজারের বেশি সেনা ও একাধিক যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন রয়েছে। মাদকবিরোধী অভিযানের সময় নৌসেনাদের ওপর হামলায় বহু মানুষ নিহত হয়েছে। অন্যদিকে মাদুরো নিজের অবস্থান দৃঢ়ভাবে প্রকাশ করে বলেন, ‘আমরা সশস্ত্র প্রজাতন্ত্র। আমাদের জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করার জন্য প্রস্তুত থাকুন।’ ট্রাম্পের পররাষ্ট্র দপ্তর, বিশেষ করে মন্ত্রী মার্কো রুবিও, মাদুরো সরকারের বিরুদ্ধে সামরিক বিকল্পের আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। যদিও অক্টোবর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার সঙ্গে আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ বন্ধ রেখেছিল, ট্রাম্প গত সপ্তাহে ইঙ্গিত দেন—‘উপযুক্ত সময় এলে’ তিনি মাদুরোর সঙ্গে আলোচনা করতে পারেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, গত সপ্তাহে ট্রাম্প ও মাদুরো ফোনে কথা বলেছেন। আলোচনায় মাদুরো ইঙ্গিত করেছেন—তিনি পদত্যাগে প্রস্তুত, তবে এর জন্য অন্তত ১৮ মাস সময় চান। তবে হোয়াইট হাউস বলছে—মাদুরোর ‘তাৎক্ষণিক প্রস্থান’ ছাড়া অন্য কোনও পরিকল্পনায় তারা সাড়া দেবে না। অন্যদিকে ভেনেজুয়েলা জনগণের মধ্যে পরিস্থিতি নিয়ে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে—কেউ উদাসীন, কেউ উদ্বিগ্ন। গত এক দশকে দেশটি অর্থনৈতিক বিপর্যয়, রাজনৈতিক অস্থিরতা, বিক্ষোভ ও ব্যর্থ অভ্যুত্থানসহ নানা সংকটের মুখোমুখি হয়েছে। কারাকাসের এক ক্যাফে কর্মী মারিলিন বলেন, ‘বোমা মারবে কি মারবে না—কোথায় জানে? সত্যি বলতে কেউ কিছুই জানে না।’ এদিকে মাদুরো সরকারের দমন-পীড়ন অব্যাহত রয়েছে। মানবাধিকার সংস্থা প্রোভিয়া জানায়, শুধু অক্টোবর মাসেই অন্তত ৫৪ জনকে মত প্রকাশের কারণে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, অনেকে হোয়াটসঅ্যাপে সরকারবিরোধী বার্তা দেওয়ার জন্য আটক হয়েছেন। জনজীবনে এখনো বড় ধরনের প্রভাব পড়েনি, তবে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হামলার আলোচনা ব্যক্তিগত পর্যায়ে চলমান। প্রকাশ্যে বরং ছুটির মৌসুমের সাজসজ্জা, ব্ল্যাক ফ্রাইডে ঘোষণা ও দৈনন্দিন খবরের পাশাপাশি মানুষ মাদুরোর ভাষণ শুনছে। সোমবার মাদুরো বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র যা-ই করুক, ভেনেজুয়েলাকে হারাতে পারবে না। আমরা অজেয়।’ সূত্র: সিএনএন


প্রিন্ট