, সোমবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
নোটিশ :
সংবাদের বিষয়ে কিছু জানাতে ইমেইল করুন [email protected] ঠিকানায়

জামায়াত-বিএনপির সংঘর্ষে গুলি ছোড়া যুবকের পরিচয় মিলেছে

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১২ ঘন্টা আগে
  • / ৪ বার পড়া হয়েছে

পাবনার ঈশ্বরদীতে জেলা জামায়াতের আমির ও পাবনা-৪ আসনের জামায়াতের প্রার্থী অধ্যাপক আবু তালেব মণ্ডল ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিবের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় অস্ত্রধারী এক যুবকের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিওটির পরিচয় শনাক্ত হয়েছে। শনিবার (৩০ নভেম্বর) দুপুরে এই যুবকের পরিচয় নিশ্চিত করেন ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আ স ম আব্দুন নুর। ওই যুবকের নাম তুষার মণ্ডল, তিনি ঈশ্বরদী পৌর শহরের ভেলুপাড়া এলাকার তাহের মণ্ডলের ছেলে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায় বিএনপি ও জামায়াতের সংঘর্ষের সময় একজন যুবক গুলি চালাচ্ছেন। মুহূর্তের মধ্যে সেটি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। তবে, আগ্নেয়াস্ত্রধারী এই যুবকের পক্ষে কোনো দল দায় স্বীকার করেনি। জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় সাহাপুর ইউনিয়নের চর গড়গড়ি এলাকায় নির্বাচনী প্রচারকাজে যান জেলা জামায়াতের আমির ও পাবনা-৪ আসনের জামায়াতের প্রার্থী অধ্যাপক আবু তালেব মণ্ডল। জামায়াতের অভিযোগ, সেই সময় ঘটনাস্থলে পৌঁছালে এ আসনের বিএনপি প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিবের সমর্থকরা পূর্বশত্রুতার জের ধরে জামায়াত নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালায়। তদ্ব্যতীত, আগ্নেয়াস্ত্রধারী যুবকটি তাদের দলের নয় বলে জানা গেছে। অন্যদিকে, পাবনা-৪ আসনের মনোনীত প্রার্থী বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব ও তার অনুসারীরা এই অভিযোগ অস্বীকার করে পাল্টা অভিযোগের দিকে আঙুল তুলেছেন জামায়াতের দিকে। তাদের দাবি, ওই যুবকটি বিএনপি বা তার সহযোগী সংগঠনের নয়। তিনি জামায়াতের আমির অধ্যাপক আবু তালেব মণ্ডলের সক্রিয় কর্মী। তার ভাতিজা আল মামুনের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে দলের কাজে যুক্ত আছেন। এই ঘটনার পর থেকে ঐ এলাকায় আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। রাতে প্রয়োজনীয় কাজ ছাড়া কেউ ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। স্থানীয়রা প্রশাসনিক পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন। ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রণব কুমার বলেন, ঘটনার পর উভয়পক্ষ থানায় দুটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে ঈশ্বরদী থানায় দুটি মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, সাহাপুর ইউনিয়ন কৃষক দলের আহ্বায়ক মক্কেল মৃধার ছেলে বাঁধন হাসান আলিম বাদী হয়ে ৩২ জন জামায়াত নেতার নাম উল্লেখ করে ঈশ্বরদী থানায় মামলা করেছেন। সেই সঙ্গে অজ্ঞাতনামক ১৫০ থেকে ২০০ জনকেও আসামি করা হয়েছে। এই মামলায় পাবনা জেলা জামায়াতের আমির ও পাবনা-৪ আসনের জামায়াতের প্রার্থী অধ্যাপক আবু তালেব মণ্ডলকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। অন্যদিকে, ঈশ্বরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি সাইদুল ইসলাম বাদী হয়ে একই থানায় ৩৮ জন বিএনপি নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করে মামলা করেছেন। এতে প্রধান আসামি হিসাবে ধরা হয়েছে সাহাপুর ইউনিয়ন কৃষকদলের আহ্বায়ক মক্কেল মৃধাকে। আরও ১০০ থেকে ১৫০ জন অজ্ঞাতনামক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে, যাদের মধ্যে বেশিরভাগই পাবনা-৪ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিবের আত্মীয় ও অনুসারী।


প্রিন্ট
ট্যাগস

নিউজটি শেয়ার করুন

জামায়াত-বিএনপির সংঘর্ষে গুলি ছোড়া যুবকের পরিচয় মিলেছে

আপডেট সময় ১২ ঘন্টা আগে

পাবনার ঈশ্বরদীতে জেলা জামায়াতের আমির ও পাবনা-৪ আসনের জামায়াতের প্রার্থী অধ্যাপক আবু তালেব মণ্ডল ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিবের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় অস্ত্রধারী এক যুবকের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিওটির পরিচয় শনাক্ত হয়েছে। শনিবার (৩০ নভেম্বর) দুপুরে এই যুবকের পরিচয় নিশ্চিত করেন ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আ স ম আব্দুন নুর। ওই যুবকের নাম তুষার মণ্ডল, তিনি ঈশ্বরদী পৌর শহরের ভেলুপাড়া এলাকার তাহের মণ্ডলের ছেলে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায় বিএনপি ও জামায়াতের সংঘর্ষের সময় একজন যুবক গুলি চালাচ্ছেন। মুহূর্তের মধ্যে সেটি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। তবে, আগ্নেয়াস্ত্রধারী এই যুবকের পক্ষে কোনো দল দায় স্বীকার করেনি। জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় সাহাপুর ইউনিয়নের চর গড়গড়ি এলাকায় নির্বাচনী প্রচারকাজে যান জেলা জামায়াতের আমির ও পাবনা-৪ আসনের জামায়াতের প্রার্থী অধ্যাপক আবু তালেব মণ্ডল। জামায়াতের অভিযোগ, সেই সময় ঘটনাস্থলে পৌঁছালে এ আসনের বিএনপি প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিবের সমর্থকরা পূর্বশত্রুতার জের ধরে জামায়াত নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালায়। তদ্ব্যতীত, আগ্নেয়াস্ত্রধারী যুবকটি তাদের দলের নয় বলে জানা গেছে। অন্যদিকে, পাবনা-৪ আসনের মনোনীত প্রার্থী বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব ও তার অনুসারীরা এই অভিযোগ অস্বীকার করে পাল্টা অভিযোগের দিকে আঙুল তুলেছেন জামায়াতের দিকে। তাদের দাবি, ওই যুবকটি বিএনপি বা তার সহযোগী সংগঠনের নয়। তিনি জামায়াতের আমির অধ্যাপক আবু তালেব মণ্ডলের সক্রিয় কর্মী। তার ভাতিজা আল মামুনের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে দলের কাজে যুক্ত আছেন। এই ঘটনার পর থেকে ঐ এলাকায় আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। রাতে প্রয়োজনীয় কাজ ছাড়া কেউ ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। স্থানীয়রা প্রশাসনিক পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন। ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রণব কুমার বলেন, ঘটনার পর উভয়পক্ষ থানায় দুটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে ঈশ্বরদী থানায় দুটি মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, সাহাপুর ইউনিয়ন কৃষক দলের আহ্বায়ক মক্কেল মৃধার ছেলে বাঁধন হাসান আলিম বাদী হয়ে ৩২ জন জামায়াত নেতার নাম উল্লেখ করে ঈশ্বরদী থানায় মামলা করেছেন। সেই সঙ্গে অজ্ঞাতনামক ১৫০ থেকে ২০০ জনকেও আসামি করা হয়েছে। এই মামলায় পাবনা জেলা জামায়াতের আমির ও পাবনা-৪ আসনের জামায়াতের প্রার্থী অধ্যাপক আবু তালেব মণ্ডলকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। অন্যদিকে, ঈশ্বরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি সাইদুল ইসলাম বাদী হয়ে একই থানায় ৩৮ জন বিএনপি নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করে মামলা করেছেন। এতে প্রধান আসামি হিসাবে ধরা হয়েছে সাহাপুর ইউনিয়ন কৃষকদলের আহ্বায়ক মক্কেল মৃধাকে। আরও ১০০ থেকে ১৫০ জন অজ্ঞাতনামক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে, যাদের মধ্যে বেশিরভাগই পাবনা-৪ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিবের আত্মীয় ও অনুসারী।


প্রিন্ট