, সোমবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
নোটিশ :
সংবাদের বিষয়ে কিছু জানাতে ইমেইল করুন [email protected] ঠিকানায়

নওগাঁয় শিক্ষার্থীদের ধাওয়ায় পালালেন প্রধান শিক্ষক

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৫:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ নভেম্বর ২০২৫
  • / ১৮ বার পড়া হয়েছে

নওগাঁর বদলগাছীতে পরকীয়ার ভিডিও ভাইরাল হওয়ায় এক প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়ে প্রবেশের চেষ্টা করলে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের ধাওয়ায় তিনি দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন। বুধবার (৫ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার সময় উপজেলার বেগুনজোয়ার উচ্চ বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাদাত হোসেন শামীম ও সহকারী শিক্ষিকা রিফাত আরার ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের একটি ভিডিও ২০২৩ সালের ৫ জুলাই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিও প্রকাশের পর এলাকাজুড়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয়দের দাবির মুখে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড প্রধান শিক্ষক শাদাত হোসেন শামীমকে সাময়িক বরখাস্ত করে। পরে রেজাউল করিম দায়িত্ব গ্রহণ করেন বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের। বুধবার সকালে প্রধান শিক্ষক শামীম তার গ্রামের কিছু লোকজন নিয়ে বিদ্যালয়ে প্রবেশের চেষ্টা করলে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ শুরু করে। তারা বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে স্লোগান দেয় এবং অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানায়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে শিক্ষার্থীরা শামীমকে ধাওয় করে এবং তিনি দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন। অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক শাদাত হোসেন শামীম জানান, আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। অন্যায়ভাবে আমাকে বরখাস্ত করা হয়েছে। আমি হাইকোর্টে মামলা করলে আদালত আমার পক্ষে রায় দেয় এবং বকেয়া বেতনসহ পদে যোগদানের নির্দেশ দেয়। সেই রায়ের কাগজ আমি উপজেলা নির্বাহী অফিস ও থানায় জমা দিয়েছি। বিদ্যালয়ে গেলে কিছু শিক্ষকের ইন্ধনে শিক্ষার্থীরা আমার ওপর হামলা চালায়। আমি আত্মরক্ষার জন্য স্থান ত্যাগ করি। অন্যদিকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রেজাউল করিম বলেন, হাইকোর্টের যে রায় দেখানো হয়েছে, সেটি ভুয়া বলে আমাদের সন্দেহ। আজ সে গ্রামের কিছু লোক নিয়ে জোরপূর্বক প্রতিষ্ঠানে প্রবেশের চেষ্টা করে এবং শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায়। এতে সাতজন শিক্ষার্থী আহত হয়। তার বিচার না হওয়া পর্যন্ত আমরা তাকে বিদ্যালয়ে ফিরতে দেব না। একজন অভিভাবক বলেন, শিক্ষক সমাজের একজন আদর্শ মানুষ। তাদের কাছ থেকে এ ধরনের আচরণ প্রত্যাশিত নয়। আমরা তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। এ বড় ঘটনার পর সে আবার কিভাবে বিদ্যালয়ে আসতে পারে? উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার শফিউল আলম বলেন, আমি বর্তমানে ঢাকায় ছুটিতে আছি। কোনো চিঠি এসেছে কি না, সে সম্পর্কে আমি অবগত নই। বদলগাছী থানার ওসি আনিছুর রহমান বলেন, আমি ঘটনাস্থলে গিয়েছি। হাইকোর্টের রায় সংক্রান্ত কাগজপত্র প্রধান শিক্ষক দেখিয়েছেন। বিষয়টি তদন্তাধীন। সবাইকে শান্ত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইসরাত জাহান ছনি বলেন, আমি এখনো ঘটনার বিস্তারিত পাইনি। তবে হাইকোর্টের রায়ের কথা শুনেছি। ট্রেনিং শেষে দুই পক্ষের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টির সমাধানে চেষ্টা করা হবে।


প্রিন্ট

নিউজটি শেয়ার করুন

নওগাঁয় শিক্ষার্থীদের ধাওয়ায় পালালেন প্রধান শিক্ষক

আপডেট সময় ০৫:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ নভেম্বর ২০২৫

নওগাঁর বদলগাছীতে পরকীয়ার ভিডিও ভাইরাল হওয়ায় এক প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়ে প্রবেশের চেষ্টা করলে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের ধাওয়ায় তিনি দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন। বুধবার (৫ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার সময় উপজেলার বেগুনজোয়ার উচ্চ বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাদাত হোসেন শামীম ও সহকারী শিক্ষিকা রিফাত আরার ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের একটি ভিডিও ২০২৩ সালের ৫ জুলাই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিও প্রকাশের পর এলাকাজুড়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয়দের দাবির মুখে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড প্রধান শিক্ষক শাদাত হোসেন শামীমকে সাময়িক বরখাস্ত করে। পরে রেজাউল করিম দায়িত্ব গ্রহণ করেন বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের। বুধবার সকালে প্রধান শিক্ষক শামীম তার গ্রামের কিছু লোকজন নিয়ে বিদ্যালয়ে প্রবেশের চেষ্টা করলে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ শুরু করে। তারা বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে স্লোগান দেয় এবং অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানায়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে শিক্ষার্থীরা শামীমকে ধাওয় করে এবং তিনি দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন। অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক শাদাত হোসেন শামীম জানান, আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। অন্যায়ভাবে আমাকে বরখাস্ত করা হয়েছে। আমি হাইকোর্টে মামলা করলে আদালত আমার পক্ষে রায় দেয় এবং বকেয়া বেতনসহ পদে যোগদানের নির্দেশ দেয়। সেই রায়ের কাগজ আমি উপজেলা নির্বাহী অফিস ও থানায় জমা দিয়েছি। বিদ্যালয়ে গেলে কিছু শিক্ষকের ইন্ধনে শিক্ষার্থীরা আমার ওপর হামলা চালায়। আমি আত্মরক্ষার জন্য স্থান ত্যাগ করি। অন্যদিকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রেজাউল করিম বলেন, হাইকোর্টের যে রায় দেখানো হয়েছে, সেটি ভুয়া বলে আমাদের সন্দেহ। আজ সে গ্রামের কিছু লোক নিয়ে জোরপূর্বক প্রতিষ্ঠানে প্রবেশের চেষ্টা করে এবং শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায়। এতে সাতজন শিক্ষার্থী আহত হয়। তার বিচার না হওয়া পর্যন্ত আমরা তাকে বিদ্যালয়ে ফিরতে দেব না। একজন অভিভাবক বলেন, শিক্ষক সমাজের একজন আদর্শ মানুষ। তাদের কাছ থেকে এ ধরনের আচরণ প্রত্যাশিত নয়। আমরা তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। এ বড় ঘটনার পর সে আবার কিভাবে বিদ্যালয়ে আসতে পারে? উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার শফিউল আলম বলেন, আমি বর্তমানে ঢাকায় ছুটিতে আছি। কোনো চিঠি এসেছে কি না, সে সম্পর্কে আমি অবগত নই। বদলগাছী থানার ওসি আনিছুর রহমান বলেন, আমি ঘটনাস্থলে গিয়েছি। হাইকোর্টের রায় সংক্রান্ত কাগজপত্র প্রধান শিক্ষক দেখিয়েছেন। বিষয়টি তদন্তাধীন। সবাইকে শান্ত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইসরাত জাহান ছনি বলেন, আমি এখনো ঘটনার বিস্তারিত পাইনি। তবে হাইকোর্টের রায়ের কথা শুনেছি। ট্রেনিং শেষে দুই পক্ষের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টির সমাধানে চেষ্টা করা হবে।


প্রিন্ট