লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘর্ষে বিএনপি নেতা আবুল কালাম জহিরকে (৫০) কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। পরিবার অভিযোগ করেছে, এই ঘটনার জন্য দায়ী ছোট কাউছার ওরফে পিচ্চি কাউছার। পুলিশও স্বীকার করেছে, তার সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে। অন্যদিকে, শনিবার (১৫ নভেম্বর) রাত সাড়ে আটটার দিকে সদর উপজেলার চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়নের পশ্চিম লতিফপুর গ্রামে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে, কিন্তু রোববার (১৬ নভেম্বর) বেলা সাড়ে এগারোটা পর্যন্ত কোনো মামলা দায়ের হয়নি। ময়নাতদন্তের পর মামলা দায়েরের কথা জানিয়েছেন পুলিশ। একইসময়, খবর পেয়ে রাতে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও লক্ষ্মীপুর-৩ (সদর) আসনের ধানের শীষের প্রার্থী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি বলেন, এই হত্যাকাণ্ড কোনো সমাধান নয়। চন্দ্রগঞ্জের রাস্তাঘাটে প্রচুর রক্ত পড়ে আছে। এমন কোনো ওয়ার্ড নেই যেখানে গত ১৭ বছর গুম বা খুন হয়নি। এখন আওয়ামী লীগ নেই, তবে তাদের ষড়যন্ত্র এখনও চালু। কে বা কারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে, তা এখন বলা মুশকিল। ঘটনার সঠিক বিচার দাবি করছি। নিহত জহির চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বিএনপির সাধারণ সম্পাদক। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, পশ্চিম লতিফপুর গ্রামের মোস্তফার দোকানের পাশে সড়কের উপর দুর্বৃত্তরা জহিরকে কুপিয়ে ফেলে রেখে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। এ সময় জহির মাদক ব্যবসা ও মাটি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তার কাছ থেকে তিনি স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসছিলেন। ধারণা করা হচ্ছে, তার প্রতিপক্ষ আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে তাকে কুপিয়ে হত্যা করেছে। মরদেহের পাশে গুলির খোসাও পাওয়া গেছে। নিহত জহিরের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় মাদকের সাতটি মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ। এ বিষয়ে চেষ্টা করেও ছোট কাউছারের বক্তব্য নেওয়া যায়নি। চন্দ্রগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফয়জুল আজীম বলেন, এই হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে এখনো মামলা হয়নি। ময়নাতদন্তের পর নিহতের পরিবার মামলা দায়ের করবেন। জড়িতদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার অভিযান চলমান। মাদক ব্যবসা ও অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে ধারণা। এ ঘটনায় সন্ত্রাসী পিচ্চি কাউসার জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। তার বিরুদ্ধে হত্যা ও অস্ত্র আইনে বেশ কয়েকটি মামলা দায়ের হয়েছে।