, সোমবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
নোটিশ :
সংবাদের বিষয়ে কিছু জানাতে ইমেইল করুন [email protected] ঠিকানায়

ভাগবাটোয়ারা না হওয়ায় বিএডিসির খড় পুড়িয়ে ছাই

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০১:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ নভেম্বর ২০২৫
  • / ১৯ বার পড়া হয়েছে

স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে ভাগবাটোয়ারা না হওয়ায় বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) সরকারি কোটি কোটি টাকা মূল্যের খড় পুড়িয়ে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। এতে ক্ষুব্ধ ও হতাশ স্থানীয় গোহাকিমরা। তবে বিএডিসি কর্তৃপক্ষের দাবি, জমির উর্বরতা বাড়ানোর জন্য এই খড়গুলো জ্বালানো হচ্ছে। বিএডিসি কর্মকর্তা, কর্মচারী ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পাবনা সদর উপজেলার টেবুনিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনে (বিএডিসি) গবেষণার জন্য প্রায় ৩ শতাধিক একর জমিতে ধান চাষ হয়। এই ধানের পরে বিপুল পরিমাণ খড় তৈরি হয়। এই খড় পরে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী নিলামে বিক্রি করা হয়। প্রতি বছর এই খড়ের বিক্রির মাধ্যমে সরকারের কোষাগারে ৭ থেকে ১০ লাখ টাকা জমা হত। কিন্তু এ বছর তা হয়নি। স্থানীয় প্রভাবশালী ও কর্মকর্তাদের মধ্যে ভাগবাটোয়ারা না থাকায় এই খড়গুলো জ্বালিয়ে ফেলা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে এই আয়ের উৎসটি ছিল খামারের একটি গুরুত্বপূর্ণ ও স্থায়ী আয়ের মাধ্যম। আশপাশের কিছু লোকজন আবার কিছু অংশ লুট করে নিয়ে যাচ্ছে। আর মাঠের পর মাঠ ধরে এই খড়গুলো পুড়ে ছাই হয়ে যাচ্ছে। এসব বিষয়ে প্রকাশ্যে কথা বলতে চান না বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) কর্মচারীরা। তবে তারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিদের দ্বন্দ্ব ও কর্মকর্তাদের অনীহায় এই খড় জ্বালানো হচ্ছে। বিএডিসির আশপাশের বাসিন্দাদের দাবি, প্রতি বছর নিলাম বা সমঝোতার মাধ্যমে এই খড়ের বিক্রি হয়, একর প্রতি ৮ থেকে ১০ হাজার টাকায়। কিন্তু এবার প্রভাবশালী স্থানীয় ব্যক্তিরা দাবি করেছেন, কেউ কেউ একর প্রতি ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা ফ্রি চায়। ফলে কর্মকর্তারা নিজেদের ভাগবাটোয়ারা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এই পরিস্থিতিতে বিএডিসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সভা করে খড় জ্বালানোর সিদ্ধান্ত নেন। প্রথমে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে চাননি বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি), টেবুনিয়ার উপ-পরিচালক কৃষিবিদ এস এম মাহবুব-অর-রশিদ। পরে কথা বললেও তার বক্তব্য কিছুটা ভিন্ন। তিনি বলেছেন—উপর মহল থেকে নির্দেশ এসেছে, খড় জ্বালিয়ে সার হিসেবে ব্যবহার করতে। পুড়িয়ে ফেলা খড়ের ছাই জমির উর্বরতা বৃদ্ধি করতেও সহায়ক হবে বলে তিনি মত প্রকাশ করেছেন।


প্রিন্ট
ট্যাগস

নিউজটি শেয়ার করুন

ভাগবাটোয়ারা না হওয়ায় বিএডিসির খড় পুড়িয়ে ছাই

আপডেট সময় ০১:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ নভেম্বর ২০২৫

স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে ভাগবাটোয়ারা না হওয়ায় বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) সরকারি কোটি কোটি টাকা মূল্যের খড় পুড়িয়ে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। এতে ক্ষুব্ধ ও হতাশ স্থানীয় গোহাকিমরা। তবে বিএডিসি কর্তৃপক্ষের দাবি, জমির উর্বরতা বাড়ানোর জন্য এই খড়গুলো জ্বালানো হচ্ছে। বিএডিসি কর্মকর্তা, কর্মচারী ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পাবনা সদর উপজেলার টেবুনিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনে (বিএডিসি) গবেষণার জন্য প্রায় ৩ শতাধিক একর জমিতে ধান চাষ হয়। এই ধানের পরে বিপুল পরিমাণ খড় তৈরি হয়। এই খড় পরে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী নিলামে বিক্রি করা হয়। প্রতি বছর এই খড়ের বিক্রির মাধ্যমে সরকারের কোষাগারে ৭ থেকে ১০ লাখ টাকা জমা হত। কিন্তু এ বছর তা হয়নি। স্থানীয় প্রভাবশালী ও কর্মকর্তাদের মধ্যে ভাগবাটোয়ারা না থাকায় এই খড়গুলো জ্বালিয়ে ফেলা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে এই আয়ের উৎসটি ছিল খামারের একটি গুরুত্বপূর্ণ ও স্থায়ী আয়ের মাধ্যম। আশপাশের কিছু লোকজন আবার কিছু অংশ লুট করে নিয়ে যাচ্ছে। আর মাঠের পর মাঠ ধরে এই খড়গুলো পুড়ে ছাই হয়ে যাচ্ছে। এসব বিষয়ে প্রকাশ্যে কথা বলতে চান না বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) কর্মচারীরা। তবে তারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিদের দ্বন্দ্ব ও কর্মকর্তাদের অনীহায় এই খড় জ্বালানো হচ্ছে। বিএডিসির আশপাশের বাসিন্দাদের দাবি, প্রতি বছর নিলাম বা সমঝোতার মাধ্যমে এই খড়ের বিক্রি হয়, একর প্রতি ৮ থেকে ১০ হাজার টাকায়। কিন্তু এবার প্রভাবশালী স্থানীয় ব্যক্তিরা দাবি করেছেন, কেউ কেউ একর প্রতি ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা ফ্রি চায়। ফলে কর্মকর্তারা নিজেদের ভাগবাটোয়ারা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এই পরিস্থিতিতে বিএডিসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সভা করে খড় জ্বালানোর সিদ্ধান্ত নেন। প্রথমে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে চাননি বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি), টেবুনিয়ার উপ-পরিচালক কৃষিবিদ এস এম মাহবুব-অর-রশিদ। পরে কথা বললেও তার বক্তব্য কিছুটা ভিন্ন। তিনি বলেছেন—উপর মহল থেকে নির্দেশ এসেছে, খড় জ্বালিয়ে সার হিসেবে ব্যবহার করতে। পুড়িয়ে ফেলা খড়ের ছাই জমির উর্বরতা বৃদ্ধি করতেও সহায়ক হবে বলে তিনি মত প্রকাশ করেছেন।


প্রিন্ট