, সোমবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
নোটিশ :
সংবাদের বিষয়ে কিছু জানাতে ইমেইল করুন [email protected] ঠিকানায়

নোয়াখালীতে ব্যাংক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১১:৪৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৯ নভেম্বর ২০২৫
  • / ১৩ বার পড়া হয়েছে

নোয়াখালীতে আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংকের প্রায় সাত কোটি টাকার জালিয়াতি ও আত্মসাতের অভিযোগে ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপক এবং বর্তমানে সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার মোহাম্মদ আলমগীর হোসেনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সোমবার (১৮ নভেম্বর) নোয়াখালী জেলা দুর্নীতি দমন কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আবদুল্লাহ আল নোমান বাদী হয়ে নোয়াখালী স্পেশাল সিনিয়র জজ আদালতে মামলাটি করেন। অভিযুক্ত ব্যক্তি হলেন- চট্টগ্রামের বোয়ালখালীর পশ্চিম গোমদণ্ডী এলাকার নুর উল্যাহর ছেলে মোহাম্মদ আলমগীর হোসেন। তিনি নোয়াখালী শহরের দত্তেরহাটে অবস্থিত আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংকের প্রায় সাত কোটি টাকার জালিয়াতি ও আত্মসাতের ঘটনায় জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়ায় এ মামলা দায়ের করা হয়। তদন্তে জানা গেছে, আলমগীর হোসেন ২০১৪ থেকে ২০১৫ এবং দ্বিতীয় দফায় ২০২০ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত নোয়াখালী শাখার ব্যবস্থাপক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ব্যাপক জালিয়াতি ও অসদাচরণ করেছেন। প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, মোহাম্মদ আলমগীর হোসেনসহ তিন ভুয়া ঋণ গ্রহীতার নামে ২১ লাখ ৪০ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেছেন, পাশাপাশি ২০৯ জন ভুয়া সঞ্চয় ঋণগ্রহীতার মাধ্যমে প্রায় ৬ কোটি ৯৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেছেন তিনি। রেকর্ডপত্র যাচাই করে দুদক জানতে পেরেছে, ঋণের আবেদন ফরমে অনুমোদনকারী কর্মকর্তা হিসেবে আলমগীর নিজেই স্বাক্ষর করেছেন। তবে, বিধান অনুযায়ী যেখানে জেলা কমান্ড্যান্ট বা ব্যাটালিয়ন প্রধানের স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক ছিল, সেখানে কিছু আবেদন ফরমে ঋণগ্রহণকারীর স্বাক্ষরই ছিল না। ঋণ অনুমোদন হলেও প্রকৃত গ্রাহকরা অর্থ পাননি, বরং আলমগীর নিজেই সেই অর্থ তুলেছেন। দুদকের নোয়াখালী জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আবদুল্লাহ আল নোমান বলেন, ২০ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে ব্যাংক শাখায় অভিযানে গিয়ে কর্মকর্তারা রেকর্ডপত্র সংগ্রহ ও যাচাই করেন। দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপক উপস্থিত না থাকলেও সংরক্ষিত নথিতে অসংখ্য অনিয়ম ধরা পড়ে। ব্যাংকের বিভিন্ন রেকর্ডে ভুয়া দলিল, জাল স্বাক্ষর ও জালিয়াতির স্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেছে। তিনি আরও বলেন, অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পর মোহাম্মদ আলমগীরের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৬, ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১ ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন ১৯৪৭ এর ৫(২) ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশন কখনোই দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের ছাড় দেবে না এবং আইনি ব্যবস্থা কঠোরভাবে নেওয়া হবে।


প্রিন্ট
ট্যাগস

নিউজটি শেয়ার করুন

নোয়াখালীতে ব্যাংক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

আপডেট সময় ১১:৪৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৯ নভেম্বর ২০২৫

নোয়াখালীতে আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংকের প্রায় সাত কোটি টাকার জালিয়াতি ও আত্মসাতের অভিযোগে ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপক এবং বর্তমানে সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার মোহাম্মদ আলমগীর হোসেনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সোমবার (১৮ নভেম্বর) নোয়াখালী জেলা দুর্নীতি দমন কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আবদুল্লাহ আল নোমান বাদী হয়ে নোয়াখালী স্পেশাল সিনিয়র জজ আদালতে মামলাটি করেন। অভিযুক্ত ব্যক্তি হলেন- চট্টগ্রামের বোয়ালখালীর পশ্চিম গোমদণ্ডী এলাকার নুর উল্যাহর ছেলে মোহাম্মদ আলমগীর হোসেন। তিনি নোয়াখালী শহরের দত্তেরহাটে অবস্থিত আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংকের প্রায় সাত কোটি টাকার জালিয়াতি ও আত্মসাতের ঘটনায় জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়ায় এ মামলা দায়ের করা হয়। তদন্তে জানা গেছে, আলমগীর হোসেন ২০১৪ থেকে ২০১৫ এবং দ্বিতীয় দফায় ২০২০ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত নোয়াখালী শাখার ব্যবস্থাপক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ব্যাপক জালিয়াতি ও অসদাচরণ করেছেন। প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, মোহাম্মদ আলমগীর হোসেনসহ তিন ভুয়া ঋণ গ্রহীতার নামে ২১ লাখ ৪০ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেছেন, পাশাপাশি ২০৯ জন ভুয়া সঞ্চয় ঋণগ্রহীতার মাধ্যমে প্রায় ৬ কোটি ৯৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেছেন তিনি। রেকর্ডপত্র যাচাই করে দুদক জানতে পেরেছে, ঋণের আবেদন ফরমে অনুমোদনকারী কর্মকর্তা হিসেবে আলমগীর নিজেই স্বাক্ষর করেছেন। তবে, বিধান অনুযায়ী যেখানে জেলা কমান্ড্যান্ট বা ব্যাটালিয়ন প্রধানের স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক ছিল, সেখানে কিছু আবেদন ফরমে ঋণগ্রহণকারীর স্বাক্ষরই ছিল না। ঋণ অনুমোদন হলেও প্রকৃত গ্রাহকরা অর্থ পাননি, বরং আলমগীর নিজেই সেই অর্থ তুলেছেন। দুদকের নোয়াখালী জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আবদুল্লাহ আল নোমান বলেন, ২০ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে ব্যাংক শাখায় অভিযানে গিয়ে কর্মকর্তারা রেকর্ডপত্র সংগ্রহ ও যাচাই করেন। দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপক উপস্থিত না থাকলেও সংরক্ষিত নথিতে অসংখ্য অনিয়ম ধরা পড়ে। ব্যাংকের বিভিন্ন রেকর্ডে ভুয়া দলিল, জাল স্বাক্ষর ও জালিয়াতির স্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেছে। তিনি আরও বলেন, অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পর মোহাম্মদ আলমগীরের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৬, ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১ ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন ১৯৪৭ এর ৫(২) ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশন কখনোই দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের ছাড় দেবে না এবং আইনি ব্যবস্থা কঠোরভাবে নেওয়া হবে।


প্রিন্ট