, সোমবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
নোটিশ :
সংবাদের বিষয়ে কিছু জানাতে ইমেইল করুন [email protected] ঠিকানায়

রাজধানীতে যুবদল নেতাকে হত্যার বিষয়ে নতুন তথ্য দিলো পুলিশ

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৭:০৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ নভেম্বর ২০২৫
  • / ১৬ বার পড়া হয়েছে

রাজধানীর পল্লবীতে যুবদল নেতা গোলাম কিবরিয়াকে প্রকাশ্যেই গুলি চালিয়ে হত্যা করা হয়েছে দুর্বৃত্তদের দ্বারা। এমনকি হত্যা শেষে পালানোর সময় দ্রুত রিকশা না চালানোর জন্য চালককেও গুলি করে তারা। পুলিশ জানিয়েছে, এ হত্যাকাণ্ডের পেছনে দলীয় দ্বন্দ্ব রয়েছে না কি অন্য কোনো কারণ আছে, তা বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। সোমবার (১৭ নভেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় এই ঘটনা ঘটে। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, মিরপুরের পল্লবী এলাকার একটি দোকানে প্রবেশ করে হেলমেট পরা তিনজন যুবদল নেতাকে একের পর এক কয়েকটি গুলি চালায়। মুহূর্তে তিনি লুটিয়ে পড়েন। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে নেওয়া হলে, চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে সেখানে বিএনপি ও যুবদলের নেতাকর্মীরা জড়ো হন। তাদের দাবি, এটি রাজনৈতিক শত্রুতার ফল। যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে এ ঘটনার বিচার করতে হবে। পুলিশের সূত্রে জানা যায়, সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিটে পল্লবী থানাধীন সেকশন-১২ এর ব্লক-সি, ৫ নম্বর রোডের বিক্রমপুর হার্ডওয়্যার অ্যান্ড স্যানিটারি দোকানে অবস্থান করছিলেন কিবরিয়া। তখন মোটরসাইকেলে করে আসা তিন দুর্বৃত্ত সরাসরি দোকানে ঢুকে পড়ে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই, কাছ থেকে মাথা, বুক ও পিঠে পিস্তল ঠেকিয়ে একের পর এক সাত রাউন্ড গুলি চালায় তারা। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। হত্যাকাণ্ডের পরে দুর্বৃত্তরা দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে গেলে আশপাশের লোকজন একজনকে আটক করে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে এবং ঘটনাস্থল থেকে গুলির খোসা ও সাত রাউন্ডের গুলির অবশিষ্টাংশ উদ্ধার করা হয়েছে। অন্যদিকে, কিবরিয়াকে গুলি করে অটোরিকশায় করে পালানোর সময় দ্রুত না চালানোর জন্য চালক আরিফ (২০)কেও গুলি করে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। আহত অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পথচারী মো. পিয়ারুল ইসলাম বলেন, ঘটনার সময় তিনি মিরপুর সাড়ে ১১, সি ব্লক মোড়ের ঢালে ছিলেন। এ সময় তিনি আহত আরিফকে রিকশায় পড়ে থাকতে দেখেন। কেউ তাকে হাসপাতালে নিয়ে যায়নি। পরে তিনি নিজে প্রথমে স্থানীয় ইসলামী হাসপাতালে নিয়ে যান, সেখান থেকে ঢামেক হাসপাতালে পাঠানো হয়। পিয়ারুল বললেন, “আহত আরিফ বলছিল, দুজন হেলমেট পরা ব্যক্তি তার রিকশায় উঠে দ্রুত চালাতে বলে। কিন্তু রিকশার ব্যাটারির চার্জ কম থাকায় সে দ্রুত চালাতে পারেনি। এ কারণেই ক্ষিপ্ত হয়ে তারা কোমরে গুলি করে দ্রুত রিকশা থেকে নেমে পালিয়ে যায়।” পল্লবী থানার পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনায় এখনও কোনো মামলা হয়নি। এটি দলীয় কোন্দল না অন্য কোনো কারণে হয়েছে, তা তদন্তের মাধ্যমে জানা যাবে। পল্লবী থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মফিজুর রহমান বলেন, “জনগণের সহায়তায় ঘটনাস্থল থেকে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আটক যুবকের মাধ্যমে অন্যদের খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। এখনও মামলা হয়নি, তবে নিহতের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে।” এছাড়াও, কিবরিয়াকে হত্যার প্রতিবাদে ও বিচারের দাবিতে পল্লবীতে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন স্থানীয় বিএনপি ও তার সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।


প্রিন্ট

নিউজটি শেয়ার করুন

রাজধানীতে যুবদল নেতাকে হত্যার বিষয়ে নতুন তথ্য দিলো পুলিশ

আপডেট সময় ০৭:০৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ নভেম্বর ২০২৫

রাজধানীর পল্লবীতে যুবদল নেতা গোলাম কিবরিয়াকে প্রকাশ্যেই গুলি চালিয়ে হত্যা করা হয়েছে দুর্বৃত্তদের দ্বারা। এমনকি হত্যা শেষে পালানোর সময় দ্রুত রিকশা না চালানোর জন্য চালককেও গুলি করে তারা। পুলিশ জানিয়েছে, এ হত্যাকাণ্ডের পেছনে দলীয় দ্বন্দ্ব রয়েছে না কি অন্য কোনো কারণ আছে, তা বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। সোমবার (১৭ নভেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় এই ঘটনা ঘটে। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, মিরপুরের পল্লবী এলাকার একটি দোকানে প্রবেশ করে হেলমেট পরা তিনজন যুবদল নেতাকে একের পর এক কয়েকটি গুলি চালায়। মুহূর্তে তিনি লুটিয়ে পড়েন। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে নেওয়া হলে, চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে সেখানে বিএনপি ও যুবদলের নেতাকর্মীরা জড়ো হন। তাদের দাবি, এটি রাজনৈতিক শত্রুতার ফল। যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে এ ঘটনার বিচার করতে হবে। পুলিশের সূত্রে জানা যায়, সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিটে পল্লবী থানাধীন সেকশন-১২ এর ব্লক-সি, ৫ নম্বর রোডের বিক্রমপুর হার্ডওয়্যার অ্যান্ড স্যানিটারি দোকানে অবস্থান করছিলেন কিবরিয়া। তখন মোটরসাইকেলে করে আসা তিন দুর্বৃত্ত সরাসরি দোকানে ঢুকে পড়ে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই, কাছ থেকে মাথা, বুক ও পিঠে পিস্তল ঠেকিয়ে একের পর এক সাত রাউন্ড গুলি চালায় তারা। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। হত্যাকাণ্ডের পরে দুর্বৃত্তরা দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে গেলে আশপাশের লোকজন একজনকে আটক করে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে এবং ঘটনাস্থল থেকে গুলির খোসা ও সাত রাউন্ডের গুলির অবশিষ্টাংশ উদ্ধার করা হয়েছে। অন্যদিকে, কিবরিয়াকে গুলি করে অটোরিকশায় করে পালানোর সময় দ্রুত না চালানোর জন্য চালক আরিফ (২০)কেও গুলি করে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। আহত অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পথচারী মো. পিয়ারুল ইসলাম বলেন, ঘটনার সময় তিনি মিরপুর সাড়ে ১১, সি ব্লক মোড়ের ঢালে ছিলেন। এ সময় তিনি আহত আরিফকে রিকশায় পড়ে থাকতে দেখেন। কেউ তাকে হাসপাতালে নিয়ে যায়নি। পরে তিনি নিজে প্রথমে স্থানীয় ইসলামী হাসপাতালে নিয়ে যান, সেখান থেকে ঢামেক হাসপাতালে পাঠানো হয়। পিয়ারুল বললেন, “আহত আরিফ বলছিল, দুজন হেলমেট পরা ব্যক্তি তার রিকশায় উঠে দ্রুত চালাতে বলে। কিন্তু রিকশার ব্যাটারির চার্জ কম থাকায় সে দ্রুত চালাতে পারেনি। এ কারণেই ক্ষিপ্ত হয়ে তারা কোমরে গুলি করে দ্রুত রিকশা থেকে নেমে পালিয়ে যায়।” পল্লবী থানার পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনায় এখনও কোনো মামলা হয়নি। এটি দলীয় কোন্দল না অন্য কোনো কারণে হয়েছে, তা তদন্তের মাধ্যমে জানা যাবে। পল্লবী থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মফিজুর রহমান বলেন, “জনগণের সহায়তায় ঘটনাস্থল থেকে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আটক যুবকের মাধ্যমে অন্যদের খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। এখনও মামলা হয়নি, তবে নিহতের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে।” এছাড়াও, কিবরিয়াকে হত্যার প্রতিবাদে ও বিচারের দাবিতে পল্লবীতে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন স্থানীয় বিএনপি ও তার সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।


প্রিন্ট