, সোমবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
নোটিশ :
সংবাদের বিষয়ে কিছু জানাতে ইমেইল করুন [email protected] ঠিকানায়

৬৭৮ কোটি টাকা মানি লন্ডারিংয়ে অভিযুক্ত কে এই দিলীপ কুমার আগরওয়ালা

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১১:৫০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ নভেম্বর ২০২৫
  • / ২২ বার পড়া হয়েছে

চোরাচালানের মাধ্যমে স্বর্ণ ও হীরা সংগ্রহ করে অবৈধ উপায়ে অর্জিত ৬৭৮ কোটি টাকা মানিলন্ডারিংয়ের সত্যতা পাওয়ায় ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের মালিক দিলীপ কুমার আগরওয়ালার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট। সোমবার (১৭ নভেম্বর) গুলশান থানায় এ মামলাটি নথিভুক্ত হয়। অভিযুক্ত দিলীপ কুমার আগরওয়ালা (৫৭) চুয়াডাঙ্গা সদরের বাজার পাড়া এলাকার বাসিন্দা। বর্তমানে তিনি ঢাকার বনানী এলাকায় থাকেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড ও ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড লিমিটেডের মালিক হিসেবে দেশের বাইরে ও দেশে স্বর্ণ ও হীরা ব্যবসা চালিয়ে আসছিলেন। সিআইডি বলছে, এই ব্যবসার আড়ালে তিনি বেশ কিছু দিন ধরেই অর্থপাচার ও চোরাচালানের কাজ চালিয়ে যাচ্ছিলেন। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত বছরের ২৯ সেপ্টেম্বর সিআইডির ঢাকার ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড লিমিটেডের আর্থিক লেনদেন, নথিপত্র এবং ব্যাংক হিসাব পর্যালোচনা করে তদন্ত শুরু করে। তদন্তে দেখা গেছে, প্রতিষ্ঠানটি স্থানীয় বাজার থেকে চোরাচালানের মাধ্যমে স্বর্ণ ও হীরা সংগ্রহ করে অবৈধভাবে অর্থ উপার্জন করেছে। প্রথমিক প্রমাণ ও তথ্যের ভিত্তিতে চোরাচালান ও উৎসহীন অর্থ উপার্জনের সত্যতা নিশ্চিত হওয়ায়, ১৭/১১/২০২৫ তারিখে দিলীপ কুমার আগরওয়ালার বিরুদ্ধে ৬,৭৮,১৯,১৪,০১৪ (ছয়শত আটাত্তর কোটি উনিশ লক্ষ চৌদ্দ হাজার চৌদ্দ) টাকার মানিলন্ডারিং মামলা দায়ের করে সিআইডি। জানা যায়, দিলীপ কুমার আগরওয়ালা দীর্ঘদিন ধরে ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড ও ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড লিমিটেডের নাম করে দেশে-বিদেশে স্বর্ণ ও হীরা ব্যবসা চালিয়ে আসাকালে অর্থ পাচার ও চোরাকারবারি করছিলেন। তদন্তে আরও দেখা গেছে, প্রতিষ্ঠানটি ২০০৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৪ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এলসির মাধ্যমে বিদেশ থেকে মোট ৩৮,৪৭,৪৮,০১১.৫২ (আটত্রিশ কোটি সাতচল্লিশ লাখ আটচল্লিশ হাজার এগার টাকা বায়ান্ন পয়সা) টাকার স্বর্ণবার, অলংকার, লুজ ডায়মন্ড ও অন্যান্য দ্রব্য বৈধভাবে আমদানি করে। একই সময়ে, স্থানীয় বাজার থেকে ক্রয়, বিনিময় ও পরিবর্তনের মাধ্যমে মোট ৬,৭৮,১৯,১৪,০১৪ (ছয়শত আটাত্তর কোটি উনিশ লাখ চৌদ্দ হাজার চৌদ্দ) টাকার স্বর্ণ ও হীরা সংগ্রহ করা হয়। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটি এই উৎস বা সরবরাহকারীর বৈধ কাগজপত্র দেখাতে ব্যর্থ হয়। যথাযথ নথি না থাকায়, এসব স্বর্ণ ও হীরা অবৈধ চোরাচালানের মাধ্যমে দেশে আনা হয়েছে বলে প্রাথমিক ধারণা তৈরি হয়। চোরাচালানের মাধ্যমে অর্জিত সম্পদ ও অর্থের রূপান্তর, হস্তান্তর বা ব্যবহার সংক্রান্ত তথ্য ও কাগজপত্র পর্যবেক্ষণে মানিলন্ডারিংয়ের সত্যতা নিশ্চিত হলে, তদন্ত প্রতিবেদন অতিরিক্ত আইজিপিকে পাঠানো হয়। পরে, ১৬ নভেম্বর সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট মামলার অনুমোদন পায়। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড ও ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড লিমিটেডের বিরুদ্ধে গুলশান থানায় দায়েরকৃত মানিলন্ডারিং মামলার তদন্ত সিআইডিই পরিচালনা করবে। সংশ্লিষ্ট নথি, ব্যাংক লেনদেন ও ব্যক্তিদের তথ্য যাচাই করে আইনানুযায়ী নিবিড় তদন্ত চালানো হবে। দেশের অর্থপাচারে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা এবং রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষায় সিআইডির এই কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।


প্রিন্ট
ট্যাগস

নিউজটি শেয়ার করুন

৬৭৮ কোটি টাকা মানি লন্ডারিংয়ে অভিযুক্ত কে এই দিলীপ কুমার আগরওয়ালা

আপডেট সময় ১১:৫০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ নভেম্বর ২০২৫

চোরাচালানের মাধ্যমে স্বর্ণ ও হীরা সংগ্রহ করে অবৈধ উপায়ে অর্জিত ৬৭৮ কোটি টাকা মানিলন্ডারিংয়ের সত্যতা পাওয়ায় ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের মালিক দিলীপ কুমার আগরওয়ালার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট। সোমবার (১৭ নভেম্বর) গুলশান থানায় এ মামলাটি নথিভুক্ত হয়। অভিযুক্ত দিলীপ কুমার আগরওয়ালা (৫৭) চুয়াডাঙ্গা সদরের বাজার পাড়া এলাকার বাসিন্দা। বর্তমানে তিনি ঢাকার বনানী এলাকায় থাকেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড ও ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড লিমিটেডের মালিক হিসেবে দেশের বাইরে ও দেশে স্বর্ণ ও হীরা ব্যবসা চালিয়ে আসছিলেন। সিআইডি বলছে, এই ব্যবসার আড়ালে তিনি বেশ কিছু দিন ধরেই অর্থপাচার ও চোরাচালানের কাজ চালিয়ে যাচ্ছিলেন। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত বছরের ২৯ সেপ্টেম্বর সিআইডির ঢাকার ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড লিমিটেডের আর্থিক লেনদেন, নথিপত্র এবং ব্যাংক হিসাব পর্যালোচনা করে তদন্ত শুরু করে। তদন্তে দেখা গেছে, প্রতিষ্ঠানটি স্থানীয় বাজার থেকে চোরাচালানের মাধ্যমে স্বর্ণ ও হীরা সংগ্রহ করে অবৈধভাবে অর্থ উপার্জন করেছে। প্রথমিক প্রমাণ ও তথ্যের ভিত্তিতে চোরাচালান ও উৎসহীন অর্থ উপার্জনের সত্যতা নিশ্চিত হওয়ায়, ১৭/১১/২০২৫ তারিখে দিলীপ কুমার আগরওয়ালার বিরুদ্ধে ৬,৭৮,১৯,১৪,০১৪ (ছয়শত আটাত্তর কোটি উনিশ লক্ষ চৌদ্দ হাজার চৌদ্দ) টাকার মানিলন্ডারিং মামলা দায়ের করে সিআইডি। জানা যায়, দিলীপ কুমার আগরওয়ালা দীর্ঘদিন ধরে ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড ও ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড লিমিটেডের নাম করে দেশে-বিদেশে স্বর্ণ ও হীরা ব্যবসা চালিয়ে আসাকালে অর্থ পাচার ও চোরাকারবারি করছিলেন। তদন্তে আরও দেখা গেছে, প্রতিষ্ঠানটি ২০০৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৪ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এলসির মাধ্যমে বিদেশ থেকে মোট ৩৮,৪৭,৪৮,০১১.৫২ (আটত্রিশ কোটি সাতচল্লিশ লাখ আটচল্লিশ হাজার এগার টাকা বায়ান্ন পয়সা) টাকার স্বর্ণবার, অলংকার, লুজ ডায়মন্ড ও অন্যান্য দ্রব্য বৈধভাবে আমদানি করে। একই সময়ে, স্থানীয় বাজার থেকে ক্রয়, বিনিময় ও পরিবর্তনের মাধ্যমে মোট ৬,৭৮,১৯,১৪,০১৪ (ছয়শত আটাত্তর কোটি উনিশ লাখ চৌদ্দ হাজার চৌদ্দ) টাকার স্বর্ণ ও হীরা সংগ্রহ করা হয়। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটি এই উৎস বা সরবরাহকারীর বৈধ কাগজপত্র দেখাতে ব্যর্থ হয়। যথাযথ নথি না থাকায়, এসব স্বর্ণ ও হীরা অবৈধ চোরাচালানের মাধ্যমে দেশে আনা হয়েছে বলে প্রাথমিক ধারণা তৈরি হয়। চোরাচালানের মাধ্যমে অর্জিত সম্পদ ও অর্থের রূপান্তর, হস্তান্তর বা ব্যবহার সংক্রান্ত তথ্য ও কাগজপত্র পর্যবেক্ষণে মানিলন্ডারিংয়ের সত্যতা নিশ্চিত হলে, তদন্ত প্রতিবেদন অতিরিক্ত আইজিপিকে পাঠানো হয়। পরে, ১৬ নভেম্বর সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট মামলার অনুমোদন পায়। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড ও ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড লিমিটেডের বিরুদ্ধে গুলশান থানায় দায়েরকৃত মানিলন্ডারিং মামলার তদন্ত সিআইডিই পরিচালনা করবে। সংশ্লিষ্ট নথি, ব্যাংক লেনদেন ও ব্যক্তিদের তথ্য যাচাই করে আইনানুযায়ী নিবিড় তদন্ত চালানো হবে। দেশের অর্থপাচারে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা এবং রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষায় সিআইডির এই কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।


প্রিন্ট