, সোমবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
নোটিশ :
সংবাদের বিষয়ে কিছু জানাতে ইমেইল করুন [email protected] ঠিকানায়

নতুন পে স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে যে বার্তা দিলেন অর্থ উপদেষ্টা

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৫:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ নভেম্বর ২০২৫
  • / ২৪ বার পড়া হয়েছে

অন্তর্বর্তীকালীন সরকার নতুন পে-স্কেলের জন্য একটি কাঠামো প্রণয়ন করবে এবং ভবিষ্যত সরকার বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে নেবে বলে জানিয়েছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। বুধবার (১২ নভেম্বর) সচিবালয়ে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ ও অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি এ কথা বলেন। আপনারা কি পে-স্কেল নির্ধারণে সক্ষম হবেন? এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, পে-কমিশনের কাজটি খুবই জটিল বিষয়। ওরা সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে কাজ করবে। আমাদের এখান থেকে কোনও রোল থাকবে না। সেখানে সিভিল পে-কমিশন রয়েছে, পাশাপাশি সেনাদের জন্য আলাদা একটি… ব্যবস্থা রয়েছে। এখন ওই তিনটি রিপোর্ট পাওয়ার পর, এগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্য আনতে হবে। একটাই সিদ্ধান্ত দেবে, তবে সেটি কিছু সময় লাগবে। আমি বলেছি, আমাদের কি সময় দিতে পারব, এ ব্যাপারে কিছুটা অনিশ্চয়তা রয়েছে। তিনি বলেন, তিনটি রিপোর্ট দেখে সেটাকে আবার সমন্বয় করতে হবে। সমন্বয় করার পর বিভিন্ন প্রশাসনিক প্রক্রিয়া রয়েছে। সচিবালয়ের কমিটি দেখবে, তারপর মোফা, তারপর অর্থ বিভাগ দেখবে, তারপর বাস্তবায়ন সম্ভব হবে। সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, রিপোর্ট পাওয়ার পরে আমরা একটি কাঠামো প্রস্তাব করব। কারণ, যদি আমরা সেই সময়ের মধ্যে সেটি সম্পন্ন করতে পারি, তাহলে হবে। এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো অর্থের সংস্থান। আপনারা যদি না পারেন, তবে রাজনৈতিক সরকার এলে কি ঝামেলা হবে, এমন প্রশ্নে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, এটি অপ্রত্যাশিত কিছু নয়। এটি আমরা নিজ উদ্যোগে করেছি। আট বছর তারা অপেক্ষা করতে পেরেছে, এখন আমরা ১২ মাসের মধ্যে চেষ্টা করছি। ধৈর্য্য ধরে থাকতে হবে। সাত-আট বছর কিছু হয়নি, এখন যখন আমরা নিজ উদ্যোগে উদ্যোগ নিয়েছি, তখন ক্ষোভ প্রকাশ হওয়া স্বাভাবিক নয়। বরং তাদের ধন্যবাদ দেওয়া উচিত, কারণ আমরা একটি কাঠামো দিতে চেষ্টা করছি এবং রিপোর্টটি যদি আসে, তাহলে ভবিষ্যত সরকারকে খুবই গুরুত্বের সঙ্গে নিতে হবে। কারণ, এটি স্বাধীনভাবে, অনেক ভাবনা চিন্তা করে করা হয়েছে। তিনি বলেন, তিনটি বিশেষ ধরনের পে-স্কেল আছে, এগুলো পুনঃপরীক্ষা করবে। তাই আমি মনে করি, ওরা একটু ধৈর্য্য ধরুক। অর্থের সংস্থান রয়েছে, এখন যদি মনে করেন, যে এই পে-স্কেলটি থাকুক, সেটাই থাকবে, তাহলে কোনও চিন্তার কারণ নেই। এখানে বাজেটের বিষয় রয়েছে। অন্যান্য সেক্টরও আমাদের বাজেটে রয়েছে। পে-স্কেল ছাড়াও স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং অন্যান্য উন্নয়ন খাতে বরাদ্দ রয়েছে, সেগুলোও দেখতেই হবে। জাতিসংঘের তিনটি সংস্থা একটি রিপোর্ট দিয়েছে—আমাদের দেশে প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ মানুষ খাদ্য সংকটে এবং ১৬ লাখ শিশু অপুষ্টিতে ভুগবে। একটি সাংবাদিকের প্রশ্নে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, ওরা যা বলেছে, ওদের অনেক আন্তর্জাতিক মানদণ্ড রয়েছে। তবে বাংলাদেশে পরিস্থিতি একেবারে ভয়াবহ নয়। আপনি দেখবেন, এই খাতে আমরা অন্যান্য দেশের তুলনায় কিছুটা ভালো। তবে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে, যেন খাদ্য ঘাটতি না হয় এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত থাকে। তিনি বলেন, পরশুদিন আমরা এক জরুরি বৈঠক করেছিলাম, যেখানে আমরা নিশ্চিত করছি আমাদের স্টক পর্যাপ্ত রয়েছে। পাশাপাশি আমরা আগেভাগেই মূল্য বৃদ্ধির পরিকল্পনা নিয়েছি। ধানের ও চালের দাম বাড়িয়ে দিয়েছি। দুটো দিক থেকেই আমরা লক্ষ্য রাখছি, যেন স্টক বাড়ে এবং কৃষকদের ক্ষতি না হয়।


প্রিন্ট

নিউজটি শেয়ার করুন

নতুন পে স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে যে বার্তা দিলেন অর্থ উপদেষ্টা

আপডেট সময় ০৫:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ নভেম্বর ২০২৫

অন্তর্বর্তীকালীন সরকার নতুন পে-স্কেলের জন্য একটি কাঠামো প্রণয়ন করবে এবং ভবিষ্যত সরকার বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে নেবে বলে জানিয়েছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। বুধবার (১২ নভেম্বর) সচিবালয়ে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ ও অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি এ কথা বলেন। আপনারা কি পে-স্কেল নির্ধারণে সক্ষম হবেন? এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, পে-কমিশনের কাজটি খুবই জটিল বিষয়। ওরা সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে কাজ করবে। আমাদের এখান থেকে কোনও রোল থাকবে না। সেখানে সিভিল পে-কমিশন রয়েছে, পাশাপাশি সেনাদের জন্য আলাদা একটি… ব্যবস্থা রয়েছে। এখন ওই তিনটি রিপোর্ট পাওয়ার পর, এগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্য আনতে হবে। একটাই সিদ্ধান্ত দেবে, তবে সেটি কিছু সময় লাগবে। আমি বলেছি, আমাদের কি সময় দিতে পারব, এ ব্যাপারে কিছুটা অনিশ্চয়তা রয়েছে। তিনি বলেন, তিনটি রিপোর্ট দেখে সেটাকে আবার সমন্বয় করতে হবে। সমন্বয় করার পর বিভিন্ন প্রশাসনিক প্রক্রিয়া রয়েছে। সচিবালয়ের কমিটি দেখবে, তারপর মোফা, তারপর অর্থ বিভাগ দেখবে, তারপর বাস্তবায়ন সম্ভব হবে। সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, রিপোর্ট পাওয়ার পরে আমরা একটি কাঠামো প্রস্তাব করব। কারণ, যদি আমরা সেই সময়ের মধ্যে সেটি সম্পন্ন করতে পারি, তাহলে হবে। এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো অর্থের সংস্থান। আপনারা যদি না পারেন, তবে রাজনৈতিক সরকার এলে কি ঝামেলা হবে, এমন প্রশ্নে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, এটি অপ্রত্যাশিত কিছু নয়। এটি আমরা নিজ উদ্যোগে করেছি। আট বছর তারা অপেক্ষা করতে পেরেছে, এখন আমরা ১২ মাসের মধ্যে চেষ্টা করছি। ধৈর্য্য ধরে থাকতে হবে। সাত-আট বছর কিছু হয়নি, এখন যখন আমরা নিজ উদ্যোগে উদ্যোগ নিয়েছি, তখন ক্ষোভ প্রকাশ হওয়া স্বাভাবিক নয়। বরং তাদের ধন্যবাদ দেওয়া উচিত, কারণ আমরা একটি কাঠামো দিতে চেষ্টা করছি এবং রিপোর্টটি যদি আসে, তাহলে ভবিষ্যত সরকারকে খুবই গুরুত্বের সঙ্গে নিতে হবে। কারণ, এটি স্বাধীনভাবে, অনেক ভাবনা চিন্তা করে করা হয়েছে। তিনি বলেন, তিনটি বিশেষ ধরনের পে-স্কেল আছে, এগুলো পুনঃপরীক্ষা করবে। তাই আমি মনে করি, ওরা একটু ধৈর্য্য ধরুক। অর্থের সংস্থান রয়েছে, এখন যদি মনে করেন, যে এই পে-স্কেলটি থাকুক, সেটাই থাকবে, তাহলে কোনও চিন্তার কারণ নেই। এখানে বাজেটের বিষয় রয়েছে। অন্যান্য সেক্টরও আমাদের বাজেটে রয়েছে। পে-স্কেল ছাড়াও স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং অন্যান্য উন্নয়ন খাতে বরাদ্দ রয়েছে, সেগুলোও দেখতেই হবে। জাতিসংঘের তিনটি সংস্থা একটি রিপোর্ট দিয়েছে—আমাদের দেশে প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ মানুষ খাদ্য সংকটে এবং ১৬ লাখ শিশু অপুষ্টিতে ভুগবে। একটি সাংবাদিকের প্রশ্নে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, ওরা যা বলেছে, ওদের অনেক আন্তর্জাতিক মানদণ্ড রয়েছে। তবে বাংলাদেশে পরিস্থিতি একেবারে ভয়াবহ নয়। আপনি দেখবেন, এই খাতে আমরা অন্যান্য দেশের তুলনায় কিছুটা ভালো। তবে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে, যেন খাদ্য ঘাটতি না হয় এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত থাকে। তিনি বলেন, পরশুদিন আমরা এক জরুরি বৈঠক করেছিলাম, যেখানে আমরা নিশ্চিত করছি আমাদের স্টক পর্যাপ্ত রয়েছে। পাশাপাশি আমরা আগেভাগেই মূল্য বৃদ্ধির পরিকল্পনা নিয়েছি। ধানের ও চালের দাম বাড়িয়ে দিয়েছি। দুটো দিক থেকেই আমরা লক্ষ্য রাখছি, যেন স্টক বাড়ে এবং কৃষকদের ক্ষতি না হয়।


প্রিন্ট