, সোমবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
নোটিশ :
সংবাদের বিষয়ে কিছু জানাতে ইমেইল করুন [email protected] ঠিকানায়

‘সংস্কারের জন্য আইন পরিবর্তন নয়, প্রয়োজন সঠিক প্রয়োগ’

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১০:৪৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ নভেম্বর ২০২৫
  • / ১৭ বার পড়া হয়েছে

বিদ্যমান বিমা আইন ২০১০ এর সঠিক প্রয়োগই বিমা খাতের বর্তমান সংকট সমাধান এবং উন্নয়নের মূল চাবিকাঠি—এমন মত ব্যক্ত করেছেন একাধিক বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি। তাদের দৃষ্টিতে, আইনে ইতোমধ্যে নিরীক্ষা, তদন্ত, প্রশাসক নিয়োগ, আইন লঙ্ঘনকারীদের অপসারণ ও অর্থ আত্মসাৎ রোধের স্পষ্ট বিধান রয়েছে। তাই নতুন কোনো সংশোধনের আগে গুরুত্ব দেওয়া উচিত আইনের যথাযথ বাস্তবায়নে নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইডিআরএর আন্তরিকতার উপর। শনিবার (২২ নভেম্বর) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ‘বিমা আইন ২০১০ সংশোধনী’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলা হয়। এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ইন্স্যুরেন্স নিউজ বিডি। সভায় বক্তারা বলেন, প্রস্তাবিত সংশোধনীতে তফসিল–১ বাদ দেওয়া, চেয়ারম্যান ও শীর্ষ নির্বাহীর নিয়োগে নিয়ন্ত্রকের অনুমোদন বাধ্যতামূলক করা এবং অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ আরোপের ফলে বিমা কোম্পানির স্বাভাবিক পরিচালনায় নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। এর ফলে, কোম্পানির নির্বাচিত চেয়ারম্যান ও পরিচালকদের সাংবিধানিক অধিকার ক্ষুণ্ন হওয়ার অভিযোগে আদালতের শরণাপন্ন হওয়ার ঝুঁকি বাড়বে, যা নতুন সংকটের সৃষ্টি করতে পারে। বক্তারা উল্লেখ করেন, জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থানের পরেও বিমা খাতের সংস্কারে কার্যকর কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করতে পারেনি আইডিআরএ। লাইফ বিমা কোম্পানিগুলোর তহবিলের অপব্যবহার, গ্রাহকের বকেয়া দাবি পরিশোধ ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো কার্যক্রম দেখা যায়নি। নন-লাইফ খাতেও অবৈধ কমিশন বন্ধের এবং দক্ষ জনবল গড়ে তোলার জন্য সংস্থার তৎপরতা ছিল না। সভায় অংশ নেন বিআইপিডি এর মহাসচিব কাজী মো. মোরতুজা আলী, অর্থকাগজ সম্পাদক প্রণব মজুমদার, ডিআরইউর সহ-সভাপতি গাজী আনোয়ারসহ অনেকে। সভা পরিচালনা করেন ইন্স্যুরেন্স নিউজ বিডি এর সম্পাদক ও প্রকাশক মোস্তাফিজুর রহমান টুংকু। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আইডিআরএর সাবেক সদস্য (লাইফ) সুলতান-উল-আবেদীন মোল্লা। মূল প্রবন্ধে তিনি বলেন, বর্তমানে ১৬০ ধারার মধ্যে ৯৯টি মূল ধারাই অপরিবর্তিত রেখে বেশিরভাগ উপধারা পরিবর্তন করা হয়েছে। তার মতে, সংশোধনীতে একদিকে নতুন ৬৪টি ধারা যোগ করার প্রস্তাব আনা হয়েছে, অন্যদিকে বহু ধারাই বিলুপ্ত করে দেওয়া হয়েছে— তবে কোনো উন্নয়নমূলক প্রস্তাব দেওয়া হয়নি। এতে নিয়ন্ত্রণ বাড়বে, কিন্তু খাতের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হতে পারে। তিনি আরও বলেন, উন্নত দেশের অর্থনীতি যেমন বিমা শিল্পের অগ্রগতি সম্পর্কিত, তেমনি বাংলাদেশের বিমা খাতকে শক্তিশালী করতে হলে উন্নয়ন ও সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। প্রস্তাবিত সংশোধনীতে পলিসিহোল্ডারদের স্বার্থের কথা বলা হলেও মূলত কর্তৃপক্ষের ক্ষমতাই বৃদ্ধি করা হয়েছে। এই ক্ষমতার অপব্যবহার হলে খাত আরও অস্থির হয়ে উঠতে পারে এবং অসাধু ব্যক্তিরা সুযোগ নিতে পারে।


প্রিন্ট
ট্যাগস

নিউজটি শেয়ার করুন

‘সংস্কারের জন্য আইন পরিবর্তন নয়, প্রয়োজন সঠিক প্রয়োগ’

আপডেট সময় ১০:৪৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ নভেম্বর ২০২৫

বিদ্যমান বিমা আইন ২০১০ এর সঠিক প্রয়োগই বিমা খাতের বর্তমান সংকট সমাধান এবং উন্নয়নের মূল চাবিকাঠি—এমন মত ব্যক্ত করেছেন একাধিক বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি। তাদের দৃষ্টিতে, আইনে ইতোমধ্যে নিরীক্ষা, তদন্ত, প্রশাসক নিয়োগ, আইন লঙ্ঘনকারীদের অপসারণ ও অর্থ আত্মসাৎ রোধের স্পষ্ট বিধান রয়েছে। তাই নতুন কোনো সংশোধনের আগে গুরুত্ব দেওয়া উচিত আইনের যথাযথ বাস্তবায়নে নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইডিআরএর আন্তরিকতার উপর। শনিবার (২২ নভেম্বর) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ‘বিমা আইন ২০১০ সংশোধনী’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলা হয়। এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ইন্স্যুরেন্স নিউজ বিডি। সভায় বক্তারা বলেন, প্রস্তাবিত সংশোধনীতে তফসিল–১ বাদ দেওয়া, চেয়ারম্যান ও শীর্ষ নির্বাহীর নিয়োগে নিয়ন্ত্রকের অনুমোদন বাধ্যতামূলক করা এবং অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ আরোপের ফলে বিমা কোম্পানির স্বাভাবিক পরিচালনায় নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। এর ফলে, কোম্পানির নির্বাচিত চেয়ারম্যান ও পরিচালকদের সাংবিধানিক অধিকার ক্ষুণ্ন হওয়ার অভিযোগে আদালতের শরণাপন্ন হওয়ার ঝুঁকি বাড়বে, যা নতুন সংকটের সৃষ্টি করতে পারে। বক্তারা উল্লেখ করেন, জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থানের পরেও বিমা খাতের সংস্কারে কার্যকর কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করতে পারেনি আইডিআরএ। লাইফ বিমা কোম্পানিগুলোর তহবিলের অপব্যবহার, গ্রাহকের বকেয়া দাবি পরিশোধ ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো কার্যক্রম দেখা যায়নি। নন-লাইফ খাতেও অবৈধ কমিশন বন্ধের এবং দক্ষ জনবল গড়ে তোলার জন্য সংস্থার তৎপরতা ছিল না। সভায় অংশ নেন বিআইপিডি এর মহাসচিব কাজী মো. মোরতুজা আলী, অর্থকাগজ সম্পাদক প্রণব মজুমদার, ডিআরইউর সহ-সভাপতি গাজী আনোয়ারসহ অনেকে। সভা পরিচালনা করেন ইন্স্যুরেন্স নিউজ বিডি এর সম্পাদক ও প্রকাশক মোস্তাফিজুর রহমান টুংকু। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আইডিআরএর সাবেক সদস্য (লাইফ) সুলতান-উল-আবেদীন মোল্লা। মূল প্রবন্ধে তিনি বলেন, বর্তমানে ১৬০ ধারার মধ্যে ৯৯টি মূল ধারাই অপরিবর্তিত রেখে বেশিরভাগ উপধারা পরিবর্তন করা হয়েছে। তার মতে, সংশোধনীতে একদিকে নতুন ৬৪টি ধারা যোগ করার প্রস্তাব আনা হয়েছে, অন্যদিকে বহু ধারাই বিলুপ্ত করে দেওয়া হয়েছে— তবে কোনো উন্নয়নমূলক প্রস্তাব দেওয়া হয়নি। এতে নিয়ন্ত্রণ বাড়বে, কিন্তু খাতের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হতে পারে। তিনি আরও বলেন, উন্নত দেশের অর্থনীতি যেমন বিমা শিল্পের অগ্রগতি সম্পর্কিত, তেমনি বাংলাদেশের বিমা খাতকে শক্তিশালী করতে হলে উন্নয়ন ও সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। প্রস্তাবিত সংশোধনীতে পলিসিহোল্ডারদের স্বার্থের কথা বলা হলেও মূলত কর্তৃপক্ষের ক্ষমতাই বৃদ্ধি করা হয়েছে। এই ক্ষমতার অপব্যবহার হলে খাত আরও অস্থির হয়ে উঠতে পারে এবং অসাধু ব্যক্তিরা সুযোগ নিতে পারে।


প্রিন্ট