, সোমবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
নোটিশ :
সংবাদের বিষয়ে কিছু জানাতে ইমেইল করুন [email protected] ঠিকানায়

বাংলাদেশ-সৌদি আমদানি কমাতেই ধস নেমেছে ভারতের পেঁয়াজ বাজারে

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৯:২৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ নভেম্বর ২০২৫
  • / ৯ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশ এখন ভারতের থেকে পেঁয়াজ আমদানি অনেক কমিয়ে দিয়েছে। একই পথে হাঁটছে সৌদি আরবও। ফলে বড় দুটি বাজার হারিয়ে ভারতের পেঁয়াজ ব্যবসায়ী ও রফতানিকারকরা বিপদে পড়েছেন। ইকোনমিক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই সংকটের জন্য মূলত দায়ী ভারতের নিজস্ব নীতি। প্রতিবেদনে জানা যায়, দেশের বাজারে দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে হঠাৎ করে এবং পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই ভারতের পেঁয়াজ রফতানি নিষেধাজ্ঞা জারি করে থাকে। একাধিক দফায় এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার ফলে ক্রেতা দেশগুলো বিকল্প উৎস খুঁজে নেয়। এখন বাংলাদেশ ও সৌদি আরব বেশি পরিমাণে পেঁয়াজ আমদানি করছে পাকিস্তান ও চীন থেকে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা সতর্ক করে বলেছেন—ভারতের বীজ অবৈধভাবে বাংলাদেশের মতো দেশে পৌঁছে যাচ্ছে, আর সেই বীজের মাধ্যমে প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলো নিজেদের উৎপাদন বাড়িয়ে স্বনির্ভর হয়ে উঠছে। ফলে ভারতের বাজারে প্রাধান্য ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে। একসময় ভারতের মোট রফতানির প্রায় তিন চতুর্থাংশই বাংলাদেশে যেত। তবে বর্তমানে বাংলাদেশে পেঁয়াজের দাম তুলনামূলক বেশি হলেও গত আট মাসে খুব কম পরিমাণে পেঁয়াজ ভারত থেকে আমদানি হয়েছে। একইভাবে প্রায় এক বছর ধরে সৌদি আরবের আমদানি কমে গেছে। ইকোনমিক টাইমস জানিয়েছে, ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর মাসে প্রথমবার ছয় মাসের জন্য পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করে ভারত। এরপর ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে আবার পাঁচ মাসের জন্য নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এসব সিদ্ধান্তের কারণে ভারতনির্ভর দেশগুলোর দাম বেড়েছে; এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ২০২০ সালে দিল্লিকে কূটনৈতিক নোট পাঠিয়ে এই নীতিবদলের বিষয়টি জানায়। বর্তমানে স্থানীয় কৃষকদের সুরক্ষার কথা বলে বাংলাদেশ ভারত থেকে আমদানি করছে না। ২০২৩–২৪ অর্থবছরে ভারত ৭ দশমিক ২৪ লাখ টন পেঁয়াজ পাঠিয়েছিল বাংলাদেশে, যা মোট রফতানির ৪২ শতাংশ। আর ২০২৫–২৬ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে আমদানি মাত্র ১২ হাজার ৯০০ টন। রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে কেউ কেউ কারণ হিসেবে দেখালেও রফতানিকারকদের দাবি—নিষেধাজ্ঞার ঘনঘন কারণে ক্রেতারা ভারতের পেঁয়াজ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন।


প্রিন্ট
ট্যাগস

নিউজটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ-সৌদি আমদানি কমাতেই ধস নেমেছে ভারতের পেঁয়াজ বাজারে

আপডেট সময় ০৯:২৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ নভেম্বর ২০২৫

বাংলাদেশ এখন ভারতের থেকে পেঁয়াজ আমদানি অনেক কমিয়ে দিয়েছে। একই পথে হাঁটছে সৌদি আরবও। ফলে বড় দুটি বাজার হারিয়ে ভারতের পেঁয়াজ ব্যবসায়ী ও রফতানিকারকরা বিপদে পড়েছেন। ইকোনমিক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই সংকটের জন্য মূলত দায়ী ভারতের নিজস্ব নীতি। প্রতিবেদনে জানা যায়, দেশের বাজারে দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে হঠাৎ করে এবং পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই ভারতের পেঁয়াজ রফতানি নিষেধাজ্ঞা জারি করে থাকে। একাধিক দফায় এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার ফলে ক্রেতা দেশগুলো বিকল্প উৎস খুঁজে নেয়। এখন বাংলাদেশ ও সৌদি আরব বেশি পরিমাণে পেঁয়াজ আমদানি করছে পাকিস্তান ও চীন থেকে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা সতর্ক করে বলেছেন—ভারতের বীজ অবৈধভাবে বাংলাদেশের মতো দেশে পৌঁছে যাচ্ছে, আর সেই বীজের মাধ্যমে প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলো নিজেদের উৎপাদন বাড়িয়ে স্বনির্ভর হয়ে উঠছে। ফলে ভারতের বাজারে প্রাধান্য ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে। একসময় ভারতের মোট রফতানির প্রায় তিন চতুর্থাংশই বাংলাদেশে যেত। তবে বর্তমানে বাংলাদেশে পেঁয়াজের দাম তুলনামূলক বেশি হলেও গত আট মাসে খুব কম পরিমাণে পেঁয়াজ ভারত থেকে আমদানি হয়েছে। একইভাবে প্রায় এক বছর ধরে সৌদি আরবের আমদানি কমে গেছে। ইকোনমিক টাইমস জানিয়েছে, ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর মাসে প্রথমবার ছয় মাসের জন্য পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করে ভারত। এরপর ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে আবার পাঁচ মাসের জন্য নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এসব সিদ্ধান্তের কারণে ভারতনির্ভর দেশগুলোর দাম বেড়েছে; এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ২০২০ সালে দিল্লিকে কূটনৈতিক নোট পাঠিয়ে এই নীতিবদলের বিষয়টি জানায়। বর্তমানে স্থানীয় কৃষকদের সুরক্ষার কথা বলে বাংলাদেশ ভারত থেকে আমদানি করছে না। ২০২৩–২৪ অর্থবছরে ভারত ৭ দশমিক ২৪ লাখ টন পেঁয়াজ পাঠিয়েছিল বাংলাদেশে, যা মোট রফতানির ৪২ শতাংশ। আর ২০২৫–২৬ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে আমদানি মাত্র ১২ হাজার ৯০০ টন। রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে কেউ কেউ কারণ হিসেবে দেখালেও রফতানিকারকদের দাবি—নিষেধাজ্ঞার ঘনঘন কারণে ক্রেতারা ভারতের পেঁয়াজ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন।


প্রিন্ট