, সোমবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
নোটিশ :
সংবাদের বিষয়ে কিছু জানাতে ইমেইল করুন [email protected] ঠিকানায়

পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করবেন অভিনেতা ডন

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০১:১০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৫
  • / ১৫ বার পড়া হয়েছে

পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ঢাকাই সিনেমার খল অভিনেতা ডন। তিন দশক ধরে নানা অভিযোগ ও বিতর্কের চাপ সহ্য করে আসা এই অভিনেতা জানিয়েছেন, এবার তিনি তার জীবনের দীর্ঘদিনের কষ্টের অবসান চান। গণমাধ্যমে ডন বলেন, “সবাই বলছে আমি নাকি পালিয়ে বেড়াচ্ছি। আমি ৩০ বছর ধরে পালাইনি, এখন কেন পালাবো? আমি এখনও বাসায় আছি। ভাবছি, অচিরেই পুলিশে আত্মসমর্পণ করব। কারণ এই দীর্ঘ সময় ধরে আমি অনেক কষ্টে আছি। এর সমাধান দরকার।” অভিনয়ের শুরু থেকেই আলোচনায় ছিলেন ডন। নব্বইয়ের দশকে কিংবদন্তি নায়ক সালমান শাহর সঙ্গে অভিনয় করে জনপ্রিয়তা অর্জন করেন তিনি। তবে সালমানের মৃত্যুর পর তার জীবন পরিবর্তন ঘটে। এ বিষয়ে ডন বলেন, “আমি যে সিনেমাটি ভালোবেসে ছেড়ে দিয়েছিলাম, সেটির জন্য ভালো সুযোগের আশায় আমি সালমান শাহর সঙ্গে জুটি বেঁধেছিলাম। মা-বউয়ের ভালোবাসা থেকে বঞ্চিত মানুষটির সুখ-দুঃখের সঙ্গী হয়েছি। তাকে আনন্দে রাখার জন্য চেষ্টা করেছি। কিন্তু সালমানকে ভালোবেসে আমার ক্যারিয়ার অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আজও আমি এগোতে পারিনি। সালমানের জন্যই আমি জীবনের ঝড়ের মোকাবেলায় সাহস পেয়েছি।” ক্ষোভ ও কষ্টের সুরে ডন বলেন—“সালমানকে ভালোবাসার ব্যথা আমি সহ্য করতে পারছি না। আমি তো একজন মানুষ, আমারও বাঁচার অধিকার আছে। অনেকেই সালমানকে ভালোবেসে আত্মহত্যা করেছে, আমি করি নি—এটাই কি আমার ভুল? আমি যদি আত্মহত্যা করি, সবাই কি খুশি হবে?” “উপরের একজন আছেন, তিনি সব দেখেন। একদিন সত্য প্রকাশিত হবে, তবে আমি সেটা দেখতে পারব কিনা জানি না।” বলেন ডন। মৃত্যুর আগে সালমান শাহর সঙ্গে শেষ দেখা ও স্মৃতি নিয়ে কথা বলেন তিনি। বলেন, “৩০ আগস্ট আমি চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় আসি। সালমান বলেছিল, পরিচালক শিবলী সাদিক ভাইকে জানাতে যে সে ৩ সেপ্টেম্বর ঢাকায় এসে ‘আনন্দ অশ্রু’ সিনেমার শুটিংয়ে অংশ নেবে। আমি খবরটা পৌঁছে দিই। দুই দিন পরে ভাবলাম বগুড়ায় ঘুরে আসি, কিন্তু বাস ধর্মঘটের কারণে ঢাকায় ফেরত আসতে পারিনি। এরপর ৬ সেপ্টেম্বর শুনি—সালমান শাহ আর নেই।” ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর মারা যান সালমান শাহ। তার রহস্যজনক মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলে দাবি করেন তার সাবেক স্ত্রী সামিরা হক। সালমানের মৃত্যুর প্রায় তিন দশক পরে আদালত তার অপমৃত্যুর মামলা ও হত্যা মামলার রায় দেয়। গত ২০ অক্টোবর, মধ্যরাতে রমনা থানায় সালমান শাহর মামা আলমগীর কুমকুম হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় মোট ১১ জনকে আসামি করা হয়েছে। প্রধান আসামি সালমানের সাবেক স্ত্রী সামিরা হক। অন্য আসামিরা হলেন—প্রযোজক আজিজ মোহাম্মদ ভাই, খল অভিনেতা ডন, লতিফা হক লুসি, ডেভিড, জাভেদ, ফারুক, মেফিয়ার বিউটি সেন্টারের রুবি, আবদুস সাত্তার, সাজু ও রিজভী আহমেদ ফরহাদ।


প্রিন্ট
ট্যাগস

নিউজটি শেয়ার করুন

পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করবেন অভিনেতা ডন

আপডেট সময় ০১:১০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৫

পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ঢাকাই সিনেমার খল অভিনেতা ডন। তিন দশক ধরে নানা অভিযোগ ও বিতর্কের চাপ সহ্য করে আসা এই অভিনেতা জানিয়েছেন, এবার তিনি তার জীবনের দীর্ঘদিনের কষ্টের অবসান চান। গণমাধ্যমে ডন বলেন, “সবাই বলছে আমি নাকি পালিয়ে বেড়াচ্ছি। আমি ৩০ বছর ধরে পালাইনি, এখন কেন পালাবো? আমি এখনও বাসায় আছি। ভাবছি, অচিরেই পুলিশে আত্মসমর্পণ করব। কারণ এই দীর্ঘ সময় ধরে আমি অনেক কষ্টে আছি। এর সমাধান দরকার।” অভিনয়ের শুরু থেকেই আলোচনায় ছিলেন ডন। নব্বইয়ের দশকে কিংবদন্তি নায়ক সালমান শাহর সঙ্গে অভিনয় করে জনপ্রিয়তা অর্জন করেন তিনি। তবে সালমানের মৃত্যুর পর তার জীবন পরিবর্তন ঘটে। এ বিষয়ে ডন বলেন, “আমি যে সিনেমাটি ভালোবেসে ছেড়ে দিয়েছিলাম, সেটির জন্য ভালো সুযোগের আশায় আমি সালমান শাহর সঙ্গে জুটি বেঁধেছিলাম। মা-বউয়ের ভালোবাসা থেকে বঞ্চিত মানুষটির সুখ-দুঃখের সঙ্গী হয়েছি। তাকে আনন্দে রাখার জন্য চেষ্টা করেছি। কিন্তু সালমানকে ভালোবেসে আমার ক্যারিয়ার অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আজও আমি এগোতে পারিনি। সালমানের জন্যই আমি জীবনের ঝড়ের মোকাবেলায় সাহস পেয়েছি।” ক্ষোভ ও কষ্টের সুরে ডন বলেন—“সালমানকে ভালোবাসার ব্যথা আমি সহ্য করতে পারছি না। আমি তো একজন মানুষ, আমারও বাঁচার অধিকার আছে। অনেকেই সালমানকে ভালোবেসে আত্মহত্যা করেছে, আমি করি নি—এটাই কি আমার ভুল? আমি যদি আত্মহত্যা করি, সবাই কি খুশি হবে?” “উপরের একজন আছেন, তিনি সব দেখেন। একদিন সত্য প্রকাশিত হবে, তবে আমি সেটা দেখতে পারব কিনা জানি না।” বলেন ডন। মৃত্যুর আগে সালমান শাহর সঙ্গে শেষ দেখা ও স্মৃতি নিয়ে কথা বলেন তিনি। বলেন, “৩০ আগস্ট আমি চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় আসি। সালমান বলেছিল, পরিচালক শিবলী সাদিক ভাইকে জানাতে যে সে ৩ সেপ্টেম্বর ঢাকায় এসে ‘আনন্দ অশ্রু’ সিনেমার শুটিংয়ে অংশ নেবে। আমি খবরটা পৌঁছে দিই। দুই দিন পরে ভাবলাম বগুড়ায় ঘুরে আসি, কিন্তু বাস ধর্মঘটের কারণে ঢাকায় ফেরত আসতে পারিনি। এরপর ৬ সেপ্টেম্বর শুনি—সালমান শাহ আর নেই।” ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর মারা যান সালমান শাহ। তার রহস্যজনক মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলে দাবি করেন তার সাবেক স্ত্রী সামিরা হক। সালমানের মৃত্যুর প্রায় তিন দশক পরে আদালত তার অপমৃত্যুর মামলা ও হত্যা মামলার রায় দেয়। গত ২০ অক্টোবর, মধ্যরাতে রমনা থানায় সালমান শাহর মামা আলমগীর কুমকুম হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় মোট ১১ জনকে আসামি করা হয়েছে। প্রধান আসামি সালমানের সাবেক স্ত্রী সামিরা হক। অন্য আসামিরা হলেন—প্রযোজক আজিজ মোহাম্মদ ভাই, খল অভিনেতা ডন, লতিফা হক লুসি, ডেভিড, জাভেদ, ফারুক, মেফিয়ার বিউটি সেন্টারের রুবি, আবদুস সাত্তার, সাজু ও রিজভী আহমেদ ফরহাদ।


প্রিন্ট