, সোমবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
নোটিশ :
সংবাদের বিষয়ে কিছু জানাতে ইমেইল করুন [email protected] ঠিকানায়

সিনেমা হলে দর্শক কমে যাওয়ায় পোপের উদ্বেগ

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০১:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ নভেম্বর ২০২৫
  • / ২০ বার পড়া হয়েছে

রোমান ক্যাথলিক খ্রিস্টানদের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা পোপ লিও ভ্যাটিকানে এক বিশেষ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। সেখানে হলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা ও নির্মাতাদের উদ্দেশে সিনেমা হলের পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, বিশ্বজুড়ে সিনেমা হলের টিকে থাকার সংগ্রাম চলছে। তবুও মানুষের সম্মিলিতভাবে ছবি দেখার অভিজ্ঞতা রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি। এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন তারকা অভিনেত্রী কেট ব্লানচেট, মোনিকা বেলুচ্চি, ক্রিস পাইনে, ভিগো মর্টেনসেনসহ আরও অনেক বিশিষ্ট অভিনেতা। এছাড়া ছিলেন পুরস্কারপ্রাপ্ত নির্মাতা স্পাইক লি, গাস ভ্যান স্যান্ট এবং স্যালি পটার। পোপ লিও প্রথম মার্কিন নাগরিক হিসেবে পোপের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিনি বলেন, ‘অবিশ্বাস্য পরিস্থিতিতে সিনেমা হলো আশা জাগানোর এক গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।’ তিনি আরও জানান, অনেক শহর ও উপশহরে সিনেমা হল বন্ধ হয়ে যাচ্ছে; যার ফলে সম্মিলিত ছবি দেখার অভিজ্ঞতা হুমকির মুখে পড়ছে। তিনি সমাজ ও সংস্কৃতির প্রগতিতে সিনেমার গুরুত্ব রক্ষায় একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান। করোনা পরবর্তী সময়ে বিশ্বের বহু দেশে প্রেক্ষাগৃহের আয়ে বড় পতন দেখা গেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় এ বছর গ্রীষ্মকাল ছিল ১৯৮১ সালের পর সবচেয়ে খারাপ সময়। পোপ লিও বলেন, ১৩০ বছরের ইতিহাসে সিনেমা কেবল আলো-ছায়ার খেলা নয়, বরং মানবজীবনের গভীর প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পেতে শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে রূপ নিয়েছে। তার ভাষায়, ‘সিনেমা কেবল চলমান ছবি নয়, এটি আশার প্রদীপ।’ তিনি আরও বলেন, ‘অবিরাম অনলাইন উত্তেজনায় ভরা এই যুগে গল্পগুলোকে কেবল যান্ত্রিকভাবে সাজালে চলবে না। যন্ত্রের নিয়ম একই থাকলেও শিল্পের সম্ভাবনা খুলে দেয়।’ তিনি নির্মাতাদের অনুরোধ করেন, যেখানে প্রয়োজন, গল্প বলার ক্ষেত্রে ধীরতা, নীরবতা ও ভিন্নতার মূল্য রক্ষা করতে। সহিংসতা, যুদ্ধ, দারিদ্র্য ও একাকীত্বের মতো কঠিন বাস্তবতা সততার সঙ্গে তুলে ধরার জন্য উৎসাহ দেন তিনি। তার মতে, ভালো সিনেমা কষ্টকে ব্যবহার করে না, বরং তা বোঝার পথ দেখায়। অস্ট্রেলিয়ার অভিনেত্রী কেট ব্লানচেট বলেন, ‘পোপের বক্তব্য আমাদের অনুপ্রাণিত করেছে। তিনি বলেছেন, কঠিন ও বেদনাদায়ক গল্প থেকেও মানুষকে উৎসাহিত করা যায়।’ পোপ লিও ছবির পেছনে কাজ করা অসংখ্য কারিগরের ভূমিকাও প্রশংসা করেন। তার ভাষায়, ‘ছবি নির্মাণ এক যৌথ পরিশ্রম, যেখানে কেউ একা নয়।’ অনুষ্ঠানের শেষে আমন্ত্রিত তারকারা একে একে পোপের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তাদের মধ্যে নির্মাতা স্পাইক লি পোপকে উপহার দেন তার নিজ শহরের বাস্কেটবল দলের একটি জার্সি, যেখানে লেখা ছিল ‘পোপ লিও ১৪’। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘এখানে আমন্ত্রণ পেয়ে আমি খুবই ভীষণ উচ্ছ্বসিত। রোমে বহুবার এসেছি, কিন্তু এই প্রথম ভ্যাটিকানে এসে পোপের সঙ্গে দেখা হলো। এটি আমার জন্য এক অসাধারণ অভিজ্ঞতা।’ অনুষ্ঠানের আগে ভ্যাটিকান পোপ লিওর পছন্দের চারটি সিনেমার তালিকাও প্রকাশ করে। সেগুলো ছিল ‘দ্য সাউন্ড অব মিউজিক’, ‘ইটস এ ওয়ান্ডারফুল লাইফ’, ‘অর্ডিনারি পিপল’ এবং ‘লাইফ ইজ বিউটিফুল’।


প্রিন্ট
ট্যাগস

নিউজটি শেয়ার করুন

সিনেমা হলে দর্শক কমে যাওয়ায় পোপের উদ্বেগ

আপডেট সময় ০১:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ নভেম্বর ২০২৫

রোমান ক্যাথলিক খ্রিস্টানদের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা পোপ লিও ভ্যাটিকানে এক বিশেষ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। সেখানে হলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা ও নির্মাতাদের উদ্দেশে সিনেমা হলের পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, বিশ্বজুড়ে সিনেমা হলের টিকে থাকার সংগ্রাম চলছে। তবুও মানুষের সম্মিলিতভাবে ছবি দেখার অভিজ্ঞতা রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি। এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন তারকা অভিনেত্রী কেট ব্লানচেট, মোনিকা বেলুচ্চি, ক্রিস পাইনে, ভিগো মর্টেনসেনসহ আরও অনেক বিশিষ্ট অভিনেতা। এছাড়া ছিলেন পুরস্কারপ্রাপ্ত নির্মাতা স্পাইক লি, গাস ভ্যান স্যান্ট এবং স্যালি পটার। পোপ লিও প্রথম মার্কিন নাগরিক হিসেবে পোপের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিনি বলেন, ‘অবিশ্বাস্য পরিস্থিতিতে সিনেমা হলো আশা জাগানোর এক গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।’ তিনি আরও জানান, অনেক শহর ও উপশহরে সিনেমা হল বন্ধ হয়ে যাচ্ছে; যার ফলে সম্মিলিত ছবি দেখার অভিজ্ঞতা হুমকির মুখে পড়ছে। তিনি সমাজ ও সংস্কৃতির প্রগতিতে সিনেমার গুরুত্ব রক্ষায় একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান। করোনা পরবর্তী সময়ে বিশ্বের বহু দেশে প্রেক্ষাগৃহের আয়ে বড় পতন দেখা গেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় এ বছর গ্রীষ্মকাল ছিল ১৯৮১ সালের পর সবচেয়ে খারাপ সময়। পোপ লিও বলেন, ১৩০ বছরের ইতিহাসে সিনেমা কেবল আলো-ছায়ার খেলা নয়, বরং মানবজীবনের গভীর প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পেতে শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে রূপ নিয়েছে। তার ভাষায়, ‘সিনেমা কেবল চলমান ছবি নয়, এটি আশার প্রদীপ।’ তিনি আরও বলেন, ‘অবিরাম অনলাইন উত্তেজনায় ভরা এই যুগে গল্পগুলোকে কেবল যান্ত্রিকভাবে সাজালে চলবে না। যন্ত্রের নিয়ম একই থাকলেও শিল্পের সম্ভাবনা খুলে দেয়।’ তিনি নির্মাতাদের অনুরোধ করেন, যেখানে প্রয়োজন, গল্প বলার ক্ষেত্রে ধীরতা, নীরবতা ও ভিন্নতার মূল্য রক্ষা করতে। সহিংসতা, যুদ্ধ, দারিদ্র্য ও একাকীত্বের মতো কঠিন বাস্তবতা সততার সঙ্গে তুলে ধরার জন্য উৎসাহ দেন তিনি। তার মতে, ভালো সিনেমা কষ্টকে ব্যবহার করে না, বরং তা বোঝার পথ দেখায়। অস্ট্রেলিয়ার অভিনেত্রী কেট ব্লানচেট বলেন, ‘পোপের বক্তব্য আমাদের অনুপ্রাণিত করেছে। তিনি বলেছেন, কঠিন ও বেদনাদায়ক গল্প থেকেও মানুষকে উৎসাহিত করা যায়।’ পোপ লিও ছবির পেছনে কাজ করা অসংখ্য কারিগরের ভূমিকাও প্রশংসা করেন। তার ভাষায়, ‘ছবি নির্মাণ এক যৌথ পরিশ্রম, যেখানে কেউ একা নয়।’ অনুষ্ঠানের শেষে আমন্ত্রিত তারকারা একে একে পোপের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তাদের মধ্যে নির্মাতা স্পাইক লি পোপকে উপহার দেন তার নিজ শহরের বাস্কেটবল দলের একটি জার্সি, যেখানে লেখা ছিল ‘পোপ লিও ১৪’। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘এখানে আমন্ত্রণ পেয়ে আমি খুবই ভীষণ উচ্ছ্বসিত। রোমে বহুবার এসেছি, কিন্তু এই প্রথম ভ্যাটিকানে এসে পোপের সঙ্গে দেখা হলো। এটি আমার জন্য এক অসাধারণ অভিজ্ঞতা।’ অনুষ্ঠানের আগে ভ্যাটিকান পোপ লিওর পছন্দের চারটি সিনেমার তালিকাও প্রকাশ করে। সেগুলো ছিল ‘দ্য সাউন্ড অব মিউজিক’, ‘ইটস এ ওয়ান্ডারফুল লাইফ’, ‘অর্ডিনারি পিপল’ এবং ‘লাইফ ইজ বিউটিফুল’।


প্রিন্ট