খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানকে নিয়ে সুখবর দিলেন তথ্য উপদেষ্টা
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সাবেক ইউপি সদস্যের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার
শ্রীলঙ্কায় ভয়াবহ বন্যায় মৃতের সংখ্যা অন্তত ১৯৩
ইসরায়েলি প্রেসিডেন্টের কাছে ক্ষমা চাইলেন নেতানিয়াহু
হাসপাতালে খালেদা জিয়াকে দেখতে গেলেন তামিম ইকবাল
নোয়াখালীতে খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় কোরআন খতম ও দোয়া
মসজিদে বিয়ে ও সমালোচনা নিয়ে মুখ খুললেন শবনম ফারিয়া
দেশে বাড়লো সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম
ইসরায়েলি হামলার গাজায় নিহত ৭০ হাজারের বেশি
খাদ্য অধিদপ্তরের পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস
আরশিনগরের ৪র্থ প্রযোজনা ‘সিদ্ধার্থ’র ৩ দিনে টানা ৪টি শো
- আপডেট সময় ১০:৩৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৯ নভেম্বর ২০২৫
- / ১৯ বার পড়া হয়েছে
নাট্যদল আরশিনগর তাদের চতুর্থ প্রযোজনায় উপস্থাপন করছে ‘সিদ্ধার্থ’। নোবেলপ্রাপ্ত প্রখ্যাত সাহিত্যিক হেরম্যান হেসের উপন্যাসের নাট্যরূপ ও নির্দেশনা দিয়েছেন রেজা আরিফ। এর আগে এ নাটকের দুটি পর্বে মোট ১১টি প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই জনপ্রিয় নাটকটি আবারও দর্শকদের সামনে আসতে চলেছে। এবার আরশিনগর টানা তিন দিন ধরে চারটি প্রদর্শনী পরিবেশিত হবে। ১৯ থেকে ২১ নভেম্বর, রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমির পরীক্ষণ থিয়েটার হলে ‘সিদ্ধার্থ’ মঞ্চস্থ হবে। প্রথম দুই দিন, ১৯ ও ২০ নভেম্বর, বুধবার ও বৃহস্পতিবার, সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিটে একক করে প্রদর্শনী হবে। আর ২১ নভেম্বর, শুক্রবার, বিকেল ৪টা ও সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিটে দুটি প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে। গৌতম বুদ্ধের অন্য নাম ‘সিদ্ধার্থ’ হলেও হেরম্যান হেসের ‘সিদ্ধার্থ’ গৌতম বুদ্ধের জীবন নয়। নির্দেশক রেজা আরিফ বলেন- “গৌতম বুদ্ধের মহিমায় আচ্ছাদিত গৌতমের ব্যক্তিগত মনোভাবের রঙে ‘সিদ্ধার্থ’ চিত্রিত হয়েছে।” নাটকের কাহিনী অনুসারে, ব্রাহ্মণ কুমার সিদ্ধার্থের পিতার অমান্য করে ঘর থেকে বেরিয়ে সন্ন্যাস গ্রহণ করে। কঠোর তিন বছরের সাধনাশ্রয়ী জীবনযাত্রা, আত্মসংযম, উপবাস, শারীরিক নির্যাতনের পর সন্ন্যাস ত্যাগ করে। এরপর সৌভাগ্যক্রমে বুদ্ধের দর্শন ও উপদেশ গ্রহণের অভিজ্ঞতা লাভ করে। তবে বুদ্ধের শিষ্যত্ব গ্রহণ না করে পথে হাঁটে সিদ্ধার্থ। পথে তার সাক্ষাৎ হয় নগরের শ্রেষ্ঠ বারাঙ্গনার সাথে, পরিচয় হয় নতুন জীবনের সাথে। সেই জীবনের নাম সংসার—সন্তান লাভের খেলা। বিগত কুড়ি বছর সে জীবনে মত্ত থাকলেও, এক সময় মনে হয় এই খেলা শেষ হয়েছে। জীবন ত্যাগ করে নদীর কাছে আশ্রয় নেয় সিদ্ধার্থ। নদীর সান্নিধ্যে থাকতে থাকতে সে নদীর ভাষা শেখে। উপলব্ধি করে জীবনের গভীর অর্থ। জীবন ও মৃত্যু, পাপ ও পুণ্য, জ্ঞান ও অজ্ঞান—সবকিছুর প্রয়োজন রয়েছে। এই অভিজ্ঞতাগুলিই জীবনকে পূর্ণতা দেয়। এটাই জীবনের সত্য জ্ঞান, যা কেউ শেখাতে পারে না, অর্জন করতে হয় নিজে। নির্দেশক রেজা আরিফ বলেন- “প্রযোজনাটির মূল লক্ষ্য হলো জীবন উপলব্ধির প্রতি মনোযোগ, বাহ্যিক সৌন্দর্যপ্রদর্শনে নয়।” যারা আগে মঞ্চে ‘সিদ্ধার্থ’ দেখেছেন, তারা নিশ্চয়ই এই কথার সঙ্গে একমত হবেন। নাটক শেষে দর্শকরা জীবনের নতুন দৃষ্টিভঙ্গি ও অজস্র প্রশ্ন নিয়ে থিয়েটার থেকে বের হবেন। তবে নির্দেশক বাহ্যিক সজ্জায় একেবারেই মনোযোগী নন, এমনটি পুরোপুরি সত্য নয়। মঞ্চের অভিনেতাদের দৃষ্টিনন্দন কোরিওগ্রাফি, সঙ্গতিপূর্ণ কম্পোজিশন এবং আলোর অসাধারণ ব্যবহার দর্শকদের মুগ্ধ করে দেয়। অভিনয় পরিকল্পনায় চরিত্রের সঙ্গে সামঞ্জস্য থাকলেও কখনো কখনো বর্ণনা ব্যবহৃত হয়েছে। মঞ্চে পোশাক ও আলোক পরিকল্পনা নাট্যধর্মী। পুরো নাটকে আলোর ব্যবহার ছিল খুবই সীমিত। কস্টিউম ও আলোক পরিকল্পনায় এ পর্যন্ত পুরস্কৃত হয়েছেন নাটকের ডিজাইনাররা। মঞ্চে: পার্থ প্রতিম, কাজী নওশাবা আহমেদ, জিনাত জাহান নিশা, ওয়াহিদ খান সংকেত, নাজমুল সরকার নিহাত, মাঈন হাসান, রেফাত হাসান সৈকত, ইসনাইন আহমেদ জিম, শাহাদাত নোমান, মাইনউদ্দিন বাবু, প্রিন্স সিদ্দিকী, এস. এম. মাহাফুজুর রহমান, আরিফুল ইসলাম নীল, আলী আক্কাছ আকাশ, পলি পারভীন, আজমেরী জাফরান রলি, প্রজ্ঞা প্রতীতি, জিতাদিত্য বড়ুয়া, নাসিম পারভেজ প্রভাত, জেরিন চাকমা, ক্যামেলিয়া শারমিন চূড়া, সাজ্জাদুল শুভ, নাফিসা নূর নোভা, দেবাশীষ চন্দ্র দুর্লভ, অদ্বিতীয়া ধর পদ্য, অভিজ্ঞান ধর কাব্য, শাকিল মাহমুদ মিহির, উৎপল নীল, জাহিদুল ইসলাম জাহিদ, বর্ণময় হৃদয়, সারিকা ইসলাম ঈষিকা, ইমাদ ইভান, রাদিফা নারমিন, হিমালয় রাজপাল হিমু, ফারজানা জলি।
নেপথ্যে:
উপন্যাস: হেরম্যান হেসে;
অনুবাদ: জাফর আলম;
নাট্যরূপ ও নির্দেশনা: রেজা আরিফ;
সহকারী নির্দেশক: নুসরাত জাহান জিসা;
অভিনয় নির্দেশনা: পার্থ প্রতিম;
প্রোডাকশন ডিজাইন: মো: সামিউল হক;
প্রযোজনা প্রধান: স্নেহাশীষ চন্দ্র দেবনাথ;
মঞ্চ ও আলোক পরিকল্পনা: অনিক কুমার;
পোশাক: জিনাত জাহান নিশা ও নুসরাত জাহান জিসা;
কোরিওগ্রাফি: নুসরাত জাহান জিসা, আকাশ সরকার, প্রান্তিক দেব;
দ্রব্য সামগ্রী: অনিক কুমার ও নুসরাত জাহান জিসা, শহিদ মৃধা;
মঞ্চ সহকারী: তাপস সরকার রুদ্র;
আলোক সহকারী: অভিক সাহা, শোভন চক্রবর্তী;
আবহ সঙ্গীত তত্ত্বাবধান: সাদমান রাব্বি অন্তর, এস এম মাহফুজুর রহমান। আবহসঙ্গীত: আরিফুল ইসলাম নীল, এস. এম. মাহাফুজুর রহমান, আলী আক্কাছ আকাশ, নাজমুল সরকার নিহাত, জিনাত জাহান নিশা, উস্মিতা আনিলা, প্রজ্ঞা প্রতীতি, ক্যামেলিয়া শারমিন চূড়া, নাসিম পারভেজ প্রভাত, পার্থ প্রতিম, জিতাদিত্য বড়ুয়া, আজমেরী জাফরান রলি, প্রজয় বকশী, অদ্বিতীয়া ধর পদ্য, পলি পারভীন, জাহিদুল ইসলাম জাহিদ, ফারজানা জলি, হিমালয় রাজ পাল হিমু, আহসান মহিউদ্দিন খান বাপ্পা, সিলভিয়া ম্রোং।
মিলনায়তন ব্যবস্থাপনা: নিতাই কর্মকার, শুভ মণ্ডল, নাজমুল রিগান, শহিদ মৃধা, হাসান অমিত, মাহবুব আলম রনি, সাব্বির হাসান, জাহিদ হাসান যুবায়ের, সারিকা ইসলাম ঈষিকা, ইমাদ ইভান, শাহাদাত নোমান, ইসনাইন আহমেদ জিম ও আরশিজন।
মঞ্চ ব্যবস্থাপনা: পলি পারভীন।
প্রযোজনা ব্যবস্থাপনা: ওয়াহিদ খান সংকেত।
প্রিন্ট
















