, সোমবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
নোটিশ :
সংবাদের বিষয়ে কিছু জানাতে ইমেইল করুন [email protected] ঠিকানায়

কেন শরীরে সংখ্যা লিখে ছবি প্রকাশ করছেন নারী তারকারা

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১১:৩৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২৫
  • / ১৩ বার পড়া হয়েছে

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গত কয়েক দিন ধরে দেশের জনপ্রিয় নারী তারকাদের পোস্টে অদ্ভুত সংখ্যাগুলি নজর কেড়েছে। কারও ছবিতে লেখা ‘৯’, কারও ‘২৪’, আবার কারও ছবিতে ঝলমলে দেখা যাচ্ছে ‘১০০০’। হঠাৎ কেন তারকারা এই সংখ্যাগুলি পোস্ট করছেন, তা নিয়ে নেটিজেনদের মধ্যে কৌতূহল জন্মেছে। অবশেষে জানা গেল এই সংখ্যাগুলির পেছনের প্রকৃত রহস্য। মূলত ডিজিটাল হিংসা ও সাইবার দুর্ব্যবহারের বিরুদ্ধে একযোগে এগিয়ে এসেছেন তারকারা। তারা একটি অভিনব প্রতিবাদী আন্দোলনের অংশ হয়েছেন, যার নাম দেওয়া হয়েছে—‘মাই নাম্বার, মাই রুলস’। তারকারা যেসব সংখ্যাগুলি তাদের ছবি লেখেন, সেগুলি মূলত নির্দেশ করে—প্রতিদিন গড়ে কতবার তারা অনলাইনে হয়রানি বা সাইবার বুলিংয়ের শিকার হন। গত ২৫ নভেম্বর এই আন্দোলনের সূচনা করেন অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশা। নিজের ছবিতে ‘৯’ লিখে তিনি জানান, প্রতিদিন কমপক্ষে ৯ বার তিনি অনলাইনে হয়রানির শিকার হন। এ প্রসঙ্গে তিশা বলেন, ‘সংখ্যা থেকে কণ্ঠস্বর, আসুন আমাদের গল্প সবাইর সামনে তুলে ধরি। তোমার নম্বরের গল্প বলো, আরও জোরে আওয়াজ তুলো। মানুষ হয়তো শুধু একটি সংখ্যা দেখছে, কিন্তু আমি যা সহ্য করেছি এবং যা কাটিয়ে উঠেছি, তার সবই আমি দেখতে পাচ্ছি।’ এরপরই এই আন্দোলনে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন শোবিজের আরও অনেক নারী তারকা। অভিনেত্রী রুনা খান তার ছবিতে লিখেছেন ‘২৪’, অর্থাৎ দিনে ২৪ বার তিনি বুলিংয়ের শিকার হন। শবনম ফারিয়ার ক্ষেত্রে এই সংখ্যাটি আশঙ্কাজনক—‘১০০০’। এ ছাড়া প্রার্থনা ফারদিন দিঘী ‘৩’, মৌসুমী হামিদ ‘৭২’, সাজিয়া সুলতানা পুতুল ‘৯’ এবং আশনা হাবিব ভাবনা ‘৯৯ প্লাস’ লিখে নিজের হয়রানির পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছেন। এ বিষয়ে রুনা খান বলেন, ‘শুধু তারকা নয়, যে কোনও নারীই সামাজিকমাধ্যমে হয়রানির শিকার হচ্ছেন। গত দশ বছরে সোশ্যাল মিডিয়া যত দ্রুত মানুষের কাছে পৌঁছেছে, তার সঠিক ব্যবহারবিধি অনেকেই শেখেনি।’ তিনি আরও বলেন, ‘নারীরা কখনোই শতভাগ নিরাপদ ছিলেন না। তবে ৫ আগস্টের পর পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারীরা প্রতিনিয়ত হয়রানি, অপমান ও কটূক্তির সম্মুখীন হচ্ছেন।’ আয়োজকদের সূত্রে জানা গেছে, ডিজিটাল হিংসার বিরুদ্ধে সচেতনতা সৃষ্টি করার লক্ষ্যে ‘মাই নাম্বার, মাই রুলস’ শীর্ষক এই অনলাইন ক্যাম্পেইনটি টানা ১৬ দিন চলবে।


প্রিন্ট
ট্যাগস

নিউজটি শেয়ার করুন

কেন শরীরে সংখ্যা লিখে ছবি প্রকাশ করছেন নারী তারকারা

আপডেট সময় ১১:৩৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২৫

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গত কয়েক দিন ধরে দেশের জনপ্রিয় নারী তারকাদের পোস্টে অদ্ভুত সংখ্যাগুলি নজর কেড়েছে। কারও ছবিতে লেখা ‘৯’, কারও ‘২৪’, আবার কারও ছবিতে ঝলমলে দেখা যাচ্ছে ‘১০০০’। হঠাৎ কেন তারকারা এই সংখ্যাগুলি পোস্ট করছেন, তা নিয়ে নেটিজেনদের মধ্যে কৌতূহল জন্মেছে। অবশেষে জানা গেল এই সংখ্যাগুলির পেছনের প্রকৃত রহস্য। মূলত ডিজিটাল হিংসা ও সাইবার দুর্ব্যবহারের বিরুদ্ধে একযোগে এগিয়ে এসেছেন তারকারা। তারা একটি অভিনব প্রতিবাদী আন্দোলনের অংশ হয়েছেন, যার নাম দেওয়া হয়েছে—‘মাই নাম্বার, মাই রুলস’। তারকারা যেসব সংখ্যাগুলি তাদের ছবি লেখেন, সেগুলি মূলত নির্দেশ করে—প্রতিদিন গড়ে কতবার তারা অনলাইনে হয়রানি বা সাইবার বুলিংয়ের শিকার হন। গত ২৫ নভেম্বর এই আন্দোলনের সূচনা করেন অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশা। নিজের ছবিতে ‘৯’ লিখে তিনি জানান, প্রতিদিন কমপক্ষে ৯ বার তিনি অনলাইনে হয়রানির শিকার হন। এ প্রসঙ্গে তিশা বলেন, ‘সংখ্যা থেকে কণ্ঠস্বর, আসুন আমাদের গল্প সবাইর সামনে তুলে ধরি। তোমার নম্বরের গল্প বলো, আরও জোরে আওয়াজ তুলো। মানুষ হয়তো শুধু একটি সংখ্যা দেখছে, কিন্তু আমি যা সহ্য করেছি এবং যা কাটিয়ে উঠেছি, তার সবই আমি দেখতে পাচ্ছি।’ এরপরই এই আন্দোলনে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন শোবিজের আরও অনেক নারী তারকা। অভিনেত্রী রুনা খান তার ছবিতে লিখেছেন ‘২৪’, অর্থাৎ দিনে ২৪ বার তিনি বুলিংয়ের শিকার হন। শবনম ফারিয়ার ক্ষেত্রে এই সংখ্যাটি আশঙ্কাজনক—‘১০০০’। এ ছাড়া প্রার্থনা ফারদিন দিঘী ‘৩’, মৌসুমী হামিদ ‘৭২’, সাজিয়া সুলতানা পুতুল ‘৯’ এবং আশনা হাবিব ভাবনা ‘৯৯ প্লাস’ লিখে নিজের হয়রানির পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছেন। এ বিষয়ে রুনা খান বলেন, ‘শুধু তারকা নয়, যে কোনও নারীই সামাজিকমাধ্যমে হয়রানির শিকার হচ্ছেন। গত দশ বছরে সোশ্যাল মিডিয়া যত দ্রুত মানুষের কাছে পৌঁছেছে, তার সঠিক ব্যবহারবিধি অনেকেই শেখেনি।’ তিনি আরও বলেন, ‘নারীরা কখনোই শতভাগ নিরাপদ ছিলেন না। তবে ৫ আগস্টের পর পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারীরা প্রতিনিয়ত হয়রানি, অপমান ও কটূক্তির সম্মুখীন হচ্ছেন।’ আয়োজকদের সূত্রে জানা গেছে, ডিজিটাল হিংসার বিরুদ্ধে সচেতনতা সৃষ্টি করার লক্ষ্যে ‘মাই নাম্বার, মাই রুলস’ শীর্ষক এই অনলাইন ক্যাম্পেইনটি টানা ১৬ দিন চলবে।


প্রিন্ট