, সোমবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
নোটিশ :
সংবাদের বিষয়ে কিছু জানাতে ইমেইল করুন [email protected] ঠিকানায়

যুদ্ধবিরতি ভেঙে গাজায় ফের ইসরায়েলি হামলা

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৮:৩১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৫
  • / ১৮ বার পড়া হয়েছে

ইসরায়েল মঙ্গলবার গাজায় নতুন করে বিমান হামলা চালিয়েছে। দেশটি দাবি করেছে, হামাস যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে। এর পরই প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নির্দেশে দ্রুত ও শক্তিশালী আঘাত শুরু হয়। গাজার স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এসব হামলায় কমপক্ষে ২৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। কেন্দ্রীয় গাজার বুরেইজ শরণার্থী শিবিরে একটি বাসায় পাঁচজন, সাবরা অঞ্চলে একটি ভবনে চারজন এবং খান ইউনুসে একটি গাড়িতে পাঁচজন নিহত হন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, এই হামলা বুধবার ভোর পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। তবে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। সামরিক এক কর্মকর্তা জানান, হামাস গাজার ইসরায়েল নিয়ন্ত্রিত এলাকায় ইসরায়েলি সেনাদের ওপর আক্রমণ চালিয়েছে, যা স্পষ্টভাবে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের মধ্যে পড়ে। ২০২৩ সালের ১০ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। ৭ অক্টোবর হামাসের ইসরায়েলে হামলার পর দুই বছরের বেশি সময় ধরে চলা সংঘর্ষের অবসান ঘটাতে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। উভয়পক্ষই এরপর থেকেই একে অন্যের বিরুদ্ধে চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলছে। মঙ্গলবার ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমে বলা হয়, রাফাহ শহরে হামাসের অস্ত্রধারীদের সঙ্গে ইসরায়েলি বাহিনীর গোলাগুলি হয়। হামাস এ ঘটনায় নিজেদের সংশ্লিষ্টতা অস্বীকার করে জানায়, তারা এখনও যুদ্ধবিরতির অঙ্গীকারে অটুট। নেতানিয়াহু বলেন, হামাস যুদ্ধবিরতি ভেঙেছে কারণ তারা ইসরায়েলি বন্দিদের মৃতদেহ ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়ায় ভুল তথ্য সরবরাহ করেছে। পরে হামাস জানায়, তারা মঙ্গলবার একটি নিখোঁজ বন্দির দেহ হস্তান্তর করতে চেয়েছিল, কিন্তু ইসরায়েলের ‘চুক্তি লঙ্ঘনের’ কারণে তা স্থগিত করা হয়েছে। রাতে হামাসের সামরিক শাখা আল-কাসাম ব্রিগেড দাবি করে, তারা গাজায় অনুসন্ধান অভিযানের সময় দুই ইসরায়েলি বন্দির মৃতদেহ উদ্ধার করেছে। চুক্তি অনুযায়ী, হামাস জীবিত সব বন্দিকে মুক্তি দিয়েছে এবং বিনিময়ে ইসরায়েল প্রায় দুই হাজার ফিলিস্তিনি বন্দিকে ছেড়ে দিয়েছে। একই সঙ্গে ইসরায়েলি সেনা অভিযান স্থগিত রেখেছে। এখনও উদ্ধার না হওয়া নিহত বন্দিদের দেহ ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে হামাস, তবে তারা বলছে—গাজার ধ্বংসস্তূপে দেহগুলো খুঁজে পেতে সময় লাগবে। গাজার এক হামলায় শিফা হাসপাতালের পাশে একটি ভবনে চারজন নিহত হন। হাসপাতালটিও আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে জানায় স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। এছাড়া জাওয়ায়দা এলাকায় একটি তাঁবুতে হামলায় দুইজন আহত হয়। মিশর থেকে ভারী যন্ত্রপাতি আসার পর থেকে গত কয়েকদিন ধরে বন্দিদের দেহ উদ্ধারে অভিযান জোরদার করা হয়েছে। খান ইউনুস ও নুসাইরাতে টানেল খুঁড়ার কাজ চলমান, যেখানে অনেক দেহ পাওয়া যেতে পারে বলে ধারণা। গাজার স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, ইসরায়েলি হামলায় এখন পর্যন্ত ৬৮ হাজারের বেশি মানুষ নিহত ও কয়েক হাজার নিখোঁজ রয়েছেন। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলায় ইসরায়েলে ১২০০ জনের মৃত্যু হয় এবং ২৫১ জনকে গাজায় বন্দি করে নিয়ে যাওয়া হয়। সূত্র: রয়টার্স।


প্রিন্ট

নিউজটি শেয়ার করুন

যুদ্ধবিরতি ভেঙে গাজায় ফের ইসরায়েলি হামলা

আপডেট সময় ০৮:৩১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৫

ইসরায়েল মঙ্গলবার গাজায় নতুন করে বিমান হামলা চালিয়েছে। দেশটি দাবি করেছে, হামাস যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে। এর পরই প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নির্দেশে দ্রুত ও শক্তিশালী আঘাত শুরু হয়। গাজার স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এসব হামলায় কমপক্ষে ২৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। কেন্দ্রীয় গাজার বুরেইজ শরণার্থী শিবিরে একটি বাসায় পাঁচজন, সাবরা অঞ্চলে একটি ভবনে চারজন এবং খান ইউনুসে একটি গাড়িতে পাঁচজন নিহত হন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, এই হামলা বুধবার ভোর পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। তবে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। সামরিক এক কর্মকর্তা জানান, হামাস গাজার ইসরায়েল নিয়ন্ত্রিত এলাকায় ইসরায়েলি সেনাদের ওপর আক্রমণ চালিয়েছে, যা স্পষ্টভাবে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের মধ্যে পড়ে। ২০২৩ সালের ১০ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। ৭ অক্টোবর হামাসের ইসরায়েলে হামলার পর দুই বছরের বেশি সময় ধরে চলা সংঘর্ষের অবসান ঘটাতে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। উভয়পক্ষই এরপর থেকেই একে অন্যের বিরুদ্ধে চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলছে। মঙ্গলবার ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমে বলা হয়, রাফাহ শহরে হামাসের অস্ত্রধারীদের সঙ্গে ইসরায়েলি বাহিনীর গোলাগুলি হয়। হামাস এ ঘটনায় নিজেদের সংশ্লিষ্টতা অস্বীকার করে জানায়, তারা এখনও যুদ্ধবিরতির অঙ্গীকারে অটুট। নেতানিয়াহু বলেন, হামাস যুদ্ধবিরতি ভেঙেছে কারণ তারা ইসরায়েলি বন্দিদের মৃতদেহ ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়ায় ভুল তথ্য সরবরাহ করেছে। পরে হামাস জানায়, তারা মঙ্গলবার একটি নিখোঁজ বন্দির দেহ হস্তান্তর করতে চেয়েছিল, কিন্তু ইসরায়েলের ‘চুক্তি লঙ্ঘনের’ কারণে তা স্থগিত করা হয়েছে। রাতে হামাসের সামরিক শাখা আল-কাসাম ব্রিগেড দাবি করে, তারা গাজায় অনুসন্ধান অভিযানের সময় দুই ইসরায়েলি বন্দির মৃতদেহ উদ্ধার করেছে। চুক্তি অনুযায়ী, হামাস জীবিত সব বন্দিকে মুক্তি দিয়েছে এবং বিনিময়ে ইসরায়েল প্রায় দুই হাজার ফিলিস্তিনি বন্দিকে ছেড়ে দিয়েছে। একই সঙ্গে ইসরায়েলি সেনা অভিযান স্থগিত রেখেছে। এখনও উদ্ধার না হওয়া নিহত বন্দিদের দেহ ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে হামাস, তবে তারা বলছে—গাজার ধ্বংসস্তূপে দেহগুলো খুঁজে পেতে সময় লাগবে। গাজার এক হামলায় শিফা হাসপাতালের পাশে একটি ভবনে চারজন নিহত হন। হাসপাতালটিও আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে জানায় স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। এছাড়া জাওয়ায়দা এলাকায় একটি তাঁবুতে হামলায় দুইজন আহত হয়। মিশর থেকে ভারী যন্ত্রপাতি আসার পর থেকে গত কয়েকদিন ধরে বন্দিদের দেহ উদ্ধারে অভিযান জোরদার করা হয়েছে। খান ইউনুস ও নুসাইরাতে টানেল খুঁড়ার কাজ চলমান, যেখানে অনেক দেহ পাওয়া যেতে পারে বলে ধারণা। গাজার স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, ইসরায়েলি হামলায় এখন পর্যন্ত ৬৮ হাজারের বেশি মানুষ নিহত ও কয়েক হাজার নিখোঁজ রয়েছেন। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলায় ইসরায়েলে ১২০০ জনের মৃত্যু হয় এবং ২৫১ জনকে গাজায় বন্দি করে নিয়ে যাওয়া হয়। সূত্র: রয়টার্স।


প্রিন্ট