গাজা উপত্যকায় নতুন করে ইসরায়েলি বিমান হামলায় কমপক্ষে তিনজন নিহত হয়েছেন। একই দিন ইসরায়েল ফেরত দিয়েছে ৩০ ফিলিস্তিনি বন্দির লাশ, যাদের শরীরে নির্যাতনের দাগ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। আন্তর্জাতিক রেড ক্রসের মাধ্যমে শুক্রবার এই লাশগুলো গাজায় ফেরত পাঠানো হয়। সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও ইসরায়েলি বাহিনী গাজা শহরের শুজাইয়া এলাকা, জাবালিয়া শরণার্থী শিবির ও খান ইউনিসে হামলা চালিয়েছে। ওয়া ফা সংবাদ সংস্থার বরাতে জানা যায়, গুলির ঘটনায় একজন নিহত এবং একজন আহত হন; জাবালিয়ায় গুলিবর্ষণে আরও একজন মারা যান। এর পাশাপাশি, আগের এক হামলায় আহত এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়। গাজার কেন্দ্রীয় অংশে বেসামরিক উদ্ধারকর্মীরা আবু মেদাইন পরিবারের ধ্বংসস্তূপ থেকে আরও একজনের দেহ উদ্ধার করেছেন। ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, ফেরত আনা লাশের মধ্যে অনেকের হাত বাঁধা ও চোখ বাঁধা ছিল, কিছু দেহে পুড়ে যাওয়ার চিহ্ন, আবার কিছু দেহ বিকৃতি অবস্থায় পাওয়া গেছে। এখন পর্যন্ত ইসরায়েল থেকে মোট ২২৫টি লাশ ফেরত এসেছে। ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় সম্পাদিত বন্দি বিনিময় চুক্তির অংশ হিসেবে এই লাশগুলো ফেরত দেয়া হচ্ছে। চুক্তি অনুযায়ী, হামাস তাদের হাতে থাকা ২৮ ইসরায়েলি বন্দির লাশ ফেরত দেবে এবং বিনিময়ে ইসরায়েল ফিলিস্তিনি বন্দিদের লাশ ফিরিয়ে দেবে। শেষ কয়েক দিনে হামাস ১৭টি ইসরায়েলি বন্দির লাশ হস্তান্তর করেছে, যার মধ্যে বৃহস্পতিবারের তিনজনও রয়েছেন। তবে যুদ্ধবিরতির পরও ইসরায়েলি হামলায় প্রাণহানির ঘটনা অব্যাহত রয়েছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মঙ্গলবার থেকে বুধবার পর্যন্ত একদিনে ১০৪ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, তাদের মধ্যে ৪৬ শিশু ও ২০ নারী। অন্যদিকে, রেড ক্রসের সহায়তায় হামাসের সশস্ত্র শাখা আল-কাসাম ব্রিগেডের সদস্যরা শুক্রবার খান ইউনিসের পূর্বাঞ্চলে গিয়ে ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা ইসরায়েলি বন্দিদের দেহ অনুসন্ধান করেন। যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও ইসরায়েল এখনও সীমান্ত খুলে দেয়নি এবং পর্যাপ্ত মানবিক সহায়তা প্রবেশে বাধা দিচ্ছে। আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার কিছু ত্রাণ ট্রাক গাজায় প্রবেশ করলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম। গাজায় অবস্থানরত প্রতিবেদক তারেক আবু আজযুম বলেন, ‘মানুষ এখনো জাতিসংঘের গুদাম থেকে খাদ্য ও আশ্রয়ের জিনিসপত্র সংগ্রহে হিমশিম খাচ্ছে। যুদ্ধবিরতি মানে শুধু খাদ্য আনা নয়—মানুষের বেঁচে থাকার জন্য আশ্রয় ও ত্রাণের উপকরণও জরুরি।’