লেবাননে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশন ইউনিফিল জানিয়েছে, ইসরায়েল তার উত্তর সীমান্তে লেবাননের ভেতর প্রবেশ করে কংক্রিটের দেয়াল নির্মাণ করেছে, যা জাতিসংঘ নির্ধারিত ‘নীল রেখা’ অতিক্রম করেছে। শুক্রবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ইউনিফিল জানায়, দক্ষিণ লেবাননের নাবাতিয়েহ জেলার ইয়ারৌন এলাকার দক্ষিণ-পশ্চিম অংশে ইসরায়েল একটি ‘টি-ওয়াল’ নির্মাণ করেছে। এর ফলে প্রায় চার হাজার বর্গমিটার লেবাননের জমি স্থানীয়দের জন্য অপ্রবেশযোগ্য হয়ে পড়েছে। ১৯৯৯–২০০০ সালে ইসরায়েলি সেনাদের প্রত্যাহার নিশ্চিত করতে জাতিসংঘ যে ১২০ কিলোমিটার দীর্ঘ অস্থায়ী সীমারেখা নির্ধারণ করে, সেটিই হলো ব্লু লাইন। ইউনিফিল আরও জানায়, ইয়ারৌনের দক্ষিণ-পূর্ব অংশে নির্মিত আরও একটি প্রাচীরও এই ব্লু লাইন অতিক্রম করেছে। তারা ইসরায়েলকে এ বিষয়ে অবগত করে দেয়াল সরিয়ে নিতে অনুরোধ করেছে। এ ব্যাপারে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী সংবাদমাধ্যম এএফপি’কে জানান, ২০২২ সাল থেকে শুরু হওয়া বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এই দেয়াল নির্মাণ চলছে। তাদের দাবি, এই দেয়ালটি ব্লু লাইন অতিক্রম করেনি এবং যুদ্ধ শুরুর পর সীমান্তের নিরাপত্তায় অতিরিক্ত ব্যবস্থা হিসেবে এটি স্থাপন করা হয়েছে। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি হামলায় এখন পর্যন্ত লেবাননে ৪ হাজারের বেশি মানুষ নিহত ও প্রায় ১৭ হাজার আহত হয়েছে। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে এই হামলা ব্যাপক আকারে চলতে থাকে। গত বছরের নভেম্বরে যুদ্ধবিরতির পরেও হামলা বন্ধ হয়নি। লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নাওয়াফ সালাম বৃহস্পতিবার ইসরায়েলের দক্ষিণ লেবাননে সামরিক উত্তেজনা বাড়ানোর জন্য নিন্দা জানিয়ে বলেন, এটি অঞ্চলের স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি। ইউনিফিলের ভাষায়, লেবাননের ভিতরে ইসরায়েলের উপস্থিতি ও নির্মাণকাজ জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের ১৭০১ নম্বর প্রস্তাব এবং লেবাননের সার্বভৌমত্বের স্পষ্ট লঙ্ঘন। প্রস্তাব ১৭০১ অনুযায়ী, ইসরায়েলকে ব্লু লাইনের উত্তর দিক থেকে সম্পূর্ণ সেনা প্রত্যাহার করতে বলা হয়েছিল। গত বছরের যুদ্ধবিরতির পর চলতি বছরের জানুয়ারিতে সেনা প্রত্যাহার সম্পন্ন হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু ইসরায়েল কেবল আংশিকভাবে সেনা সরিয়েছে এবং এখনও পাঁচটি সীমান্ত চৌকিতে তাদের উপস্থিতি অব্যাহত রয়েছে।