, সোমবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
নোটিশ :
সংবাদের বিষয়ে কিছু জানাতে ইমেইল করুন [email protected] ঠিকানায়

গাজায় আন্তর্জাতিক বাহিনী গঠনের প্রস্তাবে জাতিসংঘের সমর্থন

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৮:৫১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ নভেম্বর ২০২৫
  • / ১৮ বার পড়া হয়েছে

ফিলিস্তিনের গাজা বিষয়ক পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ২০ দফা পরিকল্পনাকে সমর্থন করে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ একটি খসড়া প্রস্তাব গ্রহণ করেছে। এই প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিয়েছে নিরাপত্তা পরিষদের ১৩ সদস্য দেশ। তবে গাজার শাসকদল হামাস সরাসরি এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানাচ্ছে, গাজা সংকট নিরসনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ২০ দফা পরিকল্পনা অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবটি পক্ষে ভোট দিয়েছে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ। এই পরিকল্পনায় গাজার জন্য একটি আন্তর্জাতিক শান্তি বাহিনী (আইএসএফ) গঠনের প্রস্তাব রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, বেশ কিছু দেশ এই বাহিনীতে সদস্য হিসেবে অংশ নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে, তবে দেশের নাম প্রকাশ করেনি। নিরাপত্তা পরিষদের ভোটে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও সোমালিয়া সহ মোট ১৩ দেশ প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিয়েছে। কেউ আপত্তি করেনি। তবে রাশিয়া ও চীন ভোটদান থেকে বিরত ছিল। হামাস এই প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। তারা বলেছে, এটি ফিলিস্তিনিদের অধিকার আদায়কে বাধাগ্রস্ত করছে। টেলিগ্রামে এক বিবৃতিতে হামাস জানায়, এই পরিকল্পনা গাজায় “আন্তর্জাতিক তত্ত্বাবধানে চাপ দেয়ার চেষ্টা”, যা ফিলিস্তিনি জনগণ ও তাদের বিভিন্ন গোষ্ঠীর পক্ষে মানা সম্ভব নয়। বিবৃতিতে আরো বলা হয়, গাজার মধ্যে আন্তর্জাতিক বাহিনী নিয়োগের ফলে — যেমন প্রতিরোধ গোষ্ঠীগুলোর অস্ত্রশস্ত্র নিরস্ত্র করতে গেলে — এই বাহিনী নিরপেক্ষ অবস্থান থেকে দূরে সরে যাবে। খসড়ায় উল্লেখ রয়েছে, আইএসএফ-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হবে হামাসসহ অন্যান্য “অ-সরকারি সশস্ত্র গোষ্ঠীর অস্ত্রসমূহ চিরতরে নিষ্ক্রিয় করা”। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত ও মানবিক সাহায্যের রুটগুলো সুরক্ষিত রাখা। এর জন্য ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনা অনুযায়ী হামাসকে অস্ত্র জমা দিতে হবে। আরও বলা হয়, এই বাহিনী ইসরায়েল ও মিসরের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করবে। একইসঙ্গে গাজায় নতুন করে প্রশিক্ষিত ফিলিস্তিনি পুলিশ গঠন করার কথাও উল্লেখ করা হয়, যেহেতু আগে পুলিশ বাহিনী হামাসের নিয়ন্ত্রণে ছিল। জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ বলেন, আইএসএফ-এর দায়িত্ব হবে “এলাকা নিরাপদ রাখা, গাজাকে সামরিকীকরণমুক্ত করা, সন্ত্রাসী কাঠামো ভেঙে ফেলা, অস্ত্র অপসারণ ও ফিলিস্তিনি সাধারণ নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।”


প্রিন্ট
ট্যাগস

নিউজটি শেয়ার করুন

গাজায় আন্তর্জাতিক বাহিনী গঠনের প্রস্তাবে জাতিসংঘের সমর্থন

আপডেট সময় ০৮:৫১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ নভেম্বর ২০২৫

ফিলিস্তিনের গাজা বিষয়ক পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ২০ দফা পরিকল্পনাকে সমর্থন করে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ একটি খসড়া প্রস্তাব গ্রহণ করেছে। এই প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিয়েছে নিরাপত্তা পরিষদের ১৩ সদস্য দেশ। তবে গাজার শাসকদল হামাস সরাসরি এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানাচ্ছে, গাজা সংকট নিরসনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ২০ দফা পরিকল্পনা অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবটি পক্ষে ভোট দিয়েছে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ। এই পরিকল্পনায় গাজার জন্য একটি আন্তর্জাতিক শান্তি বাহিনী (আইএসএফ) গঠনের প্রস্তাব রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, বেশ কিছু দেশ এই বাহিনীতে সদস্য হিসেবে অংশ নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে, তবে দেশের নাম প্রকাশ করেনি। নিরাপত্তা পরিষদের ভোটে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও সোমালিয়া সহ মোট ১৩ দেশ প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিয়েছে। কেউ আপত্তি করেনি। তবে রাশিয়া ও চীন ভোটদান থেকে বিরত ছিল। হামাস এই প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। তারা বলেছে, এটি ফিলিস্তিনিদের অধিকার আদায়কে বাধাগ্রস্ত করছে। টেলিগ্রামে এক বিবৃতিতে হামাস জানায়, এই পরিকল্পনা গাজায় “আন্তর্জাতিক তত্ত্বাবধানে চাপ দেয়ার চেষ্টা”, যা ফিলিস্তিনি জনগণ ও তাদের বিভিন্ন গোষ্ঠীর পক্ষে মানা সম্ভব নয়। বিবৃতিতে আরো বলা হয়, গাজার মধ্যে আন্তর্জাতিক বাহিনী নিয়োগের ফলে — যেমন প্রতিরোধ গোষ্ঠীগুলোর অস্ত্রশস্ত্র নিরস্ত্র করতে গেলে — এই বাহিনী নিরপেক্ষ অবস্থান থেকে দূরে সরে যাবে। খসড়ায় উল্লেখ রয়েছে, আইএসএফ-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হবে হামাসসহ অন্যান্য “অ-সরকারি সশস্ত্র গোষ্ঠীর অস্ত্রসমূহ চিরতরে নিষ্ক্রিয় করা”। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত ও মানবিক সাহায্যের রুটগুলো সুরক্ষিত রাখা। এর জন্য ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনা অনুযায়ী হামাসকে অস্ত্র জমা দিতে হবে। আরও বলা হয়, এই বাহিনী ইসরায়েল ও মিসরের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করবে। একইসঙ্গে গাজায় নতুন করে প্রশিক্ষিত ফিলিস্তিনি পুলিশ গঠন করার কথাও উল্লেখ করা হয়, যেহেতু আগে পুলিশ বাহিনী হামাসের নিয়ন্ত্রণে ছিল। জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ বলেন, আইএসএফ-এর দায়িত্ব হবে “এলাকা নিরাপদ রাখা, গাজাকে সামরিকীকরণমুক্ত করা, সন্ত্রাসী কাঠামো ভেঙে ফেলা, অস্ত্র অপসারণ ও ফিলিস্তিনি সাধারণ নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।”


প্রিন্ট