দক্ষিণ লেবাননে একটি ফিলিস্তিনি শরণার্থীশিবিরের কাছাকাছি ইসরায়েলের বোমাবর্ষণে অন্তত তেরো জনের মৃত্যু হয়েছে বলে লেবাননের স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে জানা গেছে। এই ঘটনায় আরও চারজন আহত হয়েছেন। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, আইন আল-হিলওয়ে এলাকার একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে হামাসের সদস্যরা কাজ করছিলেন—তাদের লক্ষ্য করেই এই হামলা চালানো হয়। তারা দাবি করেছে, এই স্থানটি থেকে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে হামলার পরিকল্পনা করা হতো। তবে হামাস এই অভিযোগকে ‘অবাস্তব ও মিথ্যা’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। হামলার পর প্রকাশিত ছবি থেকে দেখা যায়, লেবাননের বৃহত্তম ফিলিস্তিনি শরণার্থীশিবির আইন আল-হিলওয়ের প্রবেশপথে উদ্ধারকর্মীরা তৎপর থাকছেন। অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওগুলোতে দেখা যায়, ঘনবসতিপূর্ণ শিবিরের সরু সড়কে দ্রুতগতিতে অ্যাম্বুলেন্স ছুটে যাচ্ছে, আর আকাশে ধোঁয়ার বড় বড় কুণ্ডলী উড়ছে। প্রথমিক তথ্য অনুযায়ী, হামলাটি শিবিরের একটি মসজিদের বাইরে হয়েছে, যেখানে সাধারণত রাতে মানুষের ভিড় থাকে। হামলার নিন্দা জানিয়েছে হামাস, বলেছে, লেবাননের কোনো ফিলিস্তিনি শিবিরে তাদের কোনো সামরিক স্থাপনা নেই এবং যেখানে হামলা হয়েছে, সেটি ছিল একটি ‘খোলা খেলার মাঠ’। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী (আইডিএফ) দাবি করেছে, বেসামরিক মানুষের ক্ষতি কমাতে হামলার আগে নির্ভুল অস্ত্র, আকাশ থেকে নজরদারি ও গোয়েন্দা তথ্য যাচাইসহ নানা প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর গাজা থেকে হামাস ইসরায়েলে হামলা চালায়, যেখানে ১,২০০ জন নিহত ও ২৫১ জনকে জিম্মা করা হয়। এরপর ইসরায়েলের গাজায় চালানো হামলায় এখন পর্যন্ত ৬৯ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন বলে গাজার হামাস নিয়ন্ত্রিত স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয় জানিয়েছে। ২০২৩ সালের হামাস হামলার পরদিন থেকেই ইসরায়েল ও লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লার মধ্যে সংঘর্ষ বেড়ে যায়। ১৩ মাসের উত্তেজনার পরে ২০২৪ সালের অক্টোবরে ইসরায়েল দক্ষিণ লেবাননে ব্যাপক আকাশসীমা ও স্থল অভিযান চালায়। লেবানন বলছে, এই সংঘর্ষে প্রায় চার হাজার মানুষ নিহত হয়েছে, তাদের মধ্যে অনেক বেসামরিক নাগরিকও রয়েছেন। এতে অগণিত মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে, সংখ্যা ১২ লাখের বেশি। ইসরায়েল জানিয়েছে, এই সংঘর্ষে তাদের ৮০ জনের বেশি সেনা ও ৪৭ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। সূত্র: বিবিসি