খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানকে নিয়ে সুখবর দিলেন তথ্য উপদেষ্টা
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সাবেক ইউপি সদস্যের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার
শ্রীলঙ্কায় ভয়াবহ বন্যায় মৃতের সংখ্যা অন্তত ১৯৩
ইসরায়েলি প্রেসিডেন্টের কাছে ক্ষমা চাইলেন নেতানিয়াহু
হাসপাতালে খালেদা জিয়াকে দেখতে গেলেন তামিম ইকবাল
নোয়াখালীতে খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় কোরআন খতম ও দোয়া
মসজিদে বিয়ে ও সমালোচনা নিয়ে মুখ খুললেন শবনম ফারিয়া
দেশে বাড়লো সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম
ইসরায়েলি হামলার গাজায় নিহত ৭০ হাজারের বেশি
খাদ্য অধিদপ্তরের পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস
গাজার শাসনভার চায় হামাসবিরোধী সশস্ত্র গোষ্ঠী
- আপডেট সময় ১০:১০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ নভেম্বর ২০২৫
- / ১৫ বার পড়া হয়েছে
গাজায় সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে হামাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে অংশ নেওয়া বিভিন্ন অস্ত্রধারি গোষ্ঠী গঠিত হচ্ছে—তাদের ভবিষ্যৎ অবস্থান নিয়ে এখন বড় প্রশ্ন উঠছে। এই গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে পারিবারিক ভিত্তির দল, অপরাধী চক্র এবং নতুন মিলিশিয়া থাকছে—যাদের কিছু দলকে ইসরায়েল গোপনে সহায়তা করছে বলে দেশটির প্রধানমন্ত্রী স্বীকার করেছেন। তদ্ব্যতীত, ধারণা করা হচ্ছে, পশ্চিম তীরের শাসক ও হামাসের রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের (পিএ) কিছু অংশও গোপনে এই দলগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা করছে। বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে থাকা গাজার প্রায় ৫৩ শতাংশ এলাকায় তারা নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে। তবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় প্রস্তাবিত শান্তি পরিকল্পনায় এই গোষ্ঠীগুলোর কোনও আনুষ্ঠানিক ভূমিকা নেই। এই পরিকল্পনায় আন্তর্জাতিক শান্তি বাহিনী ও নতুন প্রশিক্ষিত ফিলিস্তিনি পুলিশ মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। দক্ষিণের রাফাহ এলাকায় সবচেয়ে বড় ও সক্রিয় এই মিলিশিয়াদের নেতৃত্বে আছেন ইয়াসের আবু শাবাব। তার ডেপুটি সম্প্রতি এক ভিডিওতে বলেছেন, তারা ভবিষ্যতের গাজা পরিচালনায় দায়িত্বপ্রাপ্ত আন্তর্জাতিক ‘বোর্ড অব পিস’-এর সঙ্গে কাজ করছে। খান ইউনুসের কাছে সক্রিয় আরেক নেতা হুসাম আল-আস্তাল দাবি করেছেন, মার্কিন প্রতিনিধিরা তাকে জানিয়েছেন যে, ভবিষ্যতের গাজার পুলিশের দায়িত্বে তার দলের ভূমিকা থাকবে। যুক্তরাষ্ট্র এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেয়নি। আস্তাল আগে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের অধীনে কাজ করতেন। তার দল ছোট—কয়েক ডজন যোদ্ধা—তবে এখন তারা খুবই আত্মবিশ্বাসী এবং একটি সুসজ্জিত তাঁবু শহর পরিচালনা করছে। তিনি স্বীকার না করলেও বলেছেন, খাদ্য, অস্ত্রসহ প্রয়োজনীয় জিনিস আনার ক্ষেত্রে তাদের ইসরায়েলের সঙ্গে ‘সমন্বয়’ রয়েছে। তিনি বলেন, ‘বিশ্বের মানুষ আমাদের সাহায্য করছে। শুধু ইসরায়েল নয়। আমাদের ইসরায়েলের দোসর বলে ভাবা ভুল—এটা ঠিক নয়।’ তার দাবি, তাদের এলাকা—ইসরায়েল নিয়ন্ত্রিত ‘ইয়েলো লাইন’-এর ভিতরে—দ্রুত বড় হচ্ছে এবং নতুন পরিবারগুলো সেখানে আসছে। আস্তালের ভাষ্য, ‘আমরাই নতুন গাজার আগামী দিনের শক্তি। পিএ বা আমেরিকা—যে কেউ যদি আমাদের সঙ্গে যায়, আমরা সহযোগিতা করব। আমরা হামাসের বিকল্প।’ তবে গাজার অনেক মানুষ—হামাসে বিরক্ত থাকলেও—বিচ্ছিন্ন এই ছোট ছোট সশস্ত্র দলগুলোর উত্থানে উদ্বিগ্ন। তারা মনে করেন, সরকারি কাঠামোর বদলে ‘গ্যাং’ গঠন ভয়ংকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে। ইসরায়েলপন্থী এই দলগুলোর বিরুদ্ধে লুটপাট, সহিংসতা ও আইএস-সমর্থনের অভিযোগও উঠছে। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু বলেন, এই দলের সহায়তা দেওয়া ‘ভালো কাজ’, কারণ এতে ইসরায়েলি সেনাদের ঝুঁকি কমে। তবে বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলছেন, ইসরায়েল হয়তো আগের ভুলগুলো আবার করছে। ইসরায়েলি সামরিক গোয়েন্দার সাবেক কর্মকর্তা মিখায়েল মিলস্টেইন বলছেন, ‘যেভাবে যুক্তরাষ্ট্র একসময় তালেবানকে অস্ত্র দিয়েছিল, পরে সেই অস্ত্রই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হয়েছে—এখানেও একই ঝুঁকি রয়েছে।’ তার আশঙ্কা, গাজায় নতুন সশস্ত্র গোষ্ঠী দুর্বল হয়ে পড়া হামাসকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য সাময়িকভাবে কাজ করলেও ভবিষ্যতে তারা ইসরায়েলের নতুন শত্রু হয়ে উঠতে পারে। ইতিহাসও বলে, ৪০ বছর আগে গাজায় যাকে ইসরায়েল পরোক্ষভাবে পৃষ্ঠপোষকতা করেছিল, সেই সংগঠনই আজকের হামাস। সূত্র: বিবিসি
প্রিন্ট














