, সোমবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
নোটিশ :
সংবাদের বিষয়ে কিছু জানাতে ইমেইল করুন [email protected] ঠিকানায়

গাজায় খাদ্যসঙ্কট কিছুটা কমেছে: জাতিসংঘ

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১১:৫৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২২ নভেম্বর ২০২৫
  • / ১৬ বার পড়া হয়েছে

অক্টোবরের যুদ্ধবিরতির পর গাজায় আগের তুলনায় বেশি খাদ্যসামগ্রী পৌঁছাচ্ছে, তবে মানবিক চাহিদার তুলনায় তা এখনও খুবই কম বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি)। শীতের শুরুতে বৃষ্টিপাত অনেক খাদ্য নষ্ট করে দিচ্ছে, যা পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলছে। জেনেভায় সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে গাজা থেকে ভিডিও লিঙ্কে ডব্লিউএফপি মুখপাত্র মার্টিন পেনার বলেন, ‘যুদ্ধবিরতির পর পরিস্থিতি অবশ্যই আগের থেকে উন্নত। কিন্তু এখনও অনেক দূর যেতে হবে। পরিবারের স্বাস্থ্য, পুষ্টি এবং জীবনযাত্রা পুনঃস্থাপনে অবিলম্বে সহায়তা প্রয়োজন।’ ডব্লিউএফপি জানায়, এখনও লাখ লাখ মানুষ জরুরি খাদ্য সহায়তা পাচ্ছেন না। গত আগস্টে বৈশ্বিক খাদ্য মনিটরিং সংস্থা জানিয়েছিল, উপকূলীয় এই অঞ্চলের কমপক্ষে পাঁচ লাখ মানুষ দুর্ভিক্ষের মতো পরিস্থিতির মুখোমুখি। ডব্লিউএফপি’র জ্যেষ্ঠ মুখপাত্র আবর এতেফা উল্লেখ করেন, সপ্তাহের শুরুতে গাজার ভারী বৃষ্টিপাতে অনেক মানুষের সংগ্রহ করা খাদ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বা বন্যার পানিতে ভেসে গেছে। শীতের শুরুতে এই সমস্যা আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ১০ অক্টোবর হামাস-ইসরায়েলের মধ্যে ন্যূনতম যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ডব্লিউএফপি গাজায় ৪০ হাজার টন খাদ্য পাঠিয়েছে। তবে এর মধ্যে মাত্র ৩০ শতাংশ খাদ্য প্যাকেট বিতরণ করা সম্ভব হয়েছে—প্রায় ১৬ লাখ লক্ষ্যমানুষের মধ্যে পৌঁছানো গেছে মাত্র ৫ লাখ ৩০ হাজারের কাছাকাছি। সংস্থাটি জানায়, মাসের শুরুতে লজিস্টিক সমস্যা থাকলেও এখন ধীরে ধীরে গতি ফিরছে। গাজার বাজার ধীরে ধীরে খুলে যাচ্ছে, তবে দাম এত বেশি যে অনেকেই তা কিনতে পারছেন না। যুদ্ধের সময় অনেকের আয় বন্ধ হয়ে গেছে। ডব্লিউএফপি জানায়, বর্তমানে একটি মুরগির দাম প্রায় ২৫ ডলার—ফলে বেশিরভাগ মানুষ এখন সহায়তার ওপর নির্ভরশীল। খান ইউনুসের এক নারী ডব্লিউএফপি’কে বলেন, তিনি তার সন্তানদের বাজারে নিয়ে যান না—যেন তারা খাবার দেখে কষ্ট না পায়। পেনার বলেন, ‘তিনি তার সন্তানদের বলেন, বাজারের কাছে গেলে চোখ ঢেকে রাখতে।’ সূত্র: রয়টার্স


প্রিন্ট

নিউজটি শেয়ার করুন

গাজায় খাদ্যসঙ্কট কিছুটা কমেছে: জাতিসংঘ

আপডেট সময় ১১:৫৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২২ নভেম্বর ২০২৫

অক্টোবরের যুদ্ধবিরতির পর গাজায় আগের তুলনায় বেশি খাদ্যসামগ্রী পৌঁছাচ্ছে, তবে মানবিক চাহিদার তুলনায় তা এখনও খুবই কম বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি)। শীতের শুরুতে বৃষ্টিপাত অনেক খাদ্য নষ্ট করে দিচ্ছে, যা পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলছে। জেনেভায় সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে গাজা থেকে ভিডিও লিঙ্কে ডব্লিউএফপি মুখপাত্র মার্টিন পেনার বলেন, ‘যুদ্ধবিরতির পর পরিস্থিতি অবশ্যই আগের থেকে উন্নত। কিন্তু এখনও অনেক দূর যেতে হবে। পরিবারের স্বাস্থ্য, পুষ্টি এবং জীবনযাত্রা পুনঃস্থাপনে অবিলম্বে সহায়তা প্রয়োজন।’ ডব্লিউএফপি জানায়, এখনও লাখ লাখ মানুষ জরুরি খাদ্য সহায়তা পাচ্ছেন না। গত আগস্টে বৈশ্বিক খাদ্য মনিটরিং সংস্থা জানিয়েছিল, উপকূলীয় এই অঞ্চলের কমপক্ষে পাঁচ লাখ মানুষ দুর্ভিক্ষের মতো পরিস্থিতির মুখোমুখি। ডব্লিউএফপি’র জ্যেষ্ঠ মুখপাত্র আবর এতেফা উল্লেখ করেন, সপ্তাহের শুরুতে গাজার ভারী বৃষ্টিপাতে অনেক মানুষের সংগ্রহ করা খাদ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বা বন্যার পানিতে ভেসে গেছে। শীতের শুরুতে এই সমস্যা আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ১০ অক্টোবর হামাস-ইসরায়েলের মধ্যে ন্যূনতম যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ডব্লিউএফপি গাজায় ৪০ হাজার টন খাদ্য পাঠিয়েছে। তবে এর মধ্যে মাত্র ৩০ শতাংশ খাদ্য প্যাকেট বিতরণ করা সম্ভব হয়েছে—প্রায় ১৬ লাখ লক্ষ্যমানুষের মধ্যে পৌঁছানো গেছে মাত্র ৫ লাখ ৩০ হাজারের কাছাকাছি। সংস্থাটি জানায়, মাসের শুরুতে লজিস্টিক সমস্যা থাকলেও এখন ধীরে ধীরে গতি ফিরছে। গাজার বাজার ধীরে ধীরে খুলে যাচ্ছে, তবে দাম এত বেশি যে অনেকেই তা কিনতে পারছেন না। যুদ্ধের সময় অনেকের আয় বন্ধ হয়ে গেছে। ডব্লিউএফপি জানায়, বর্তমানে একটি মুরগির দাম প্রায় ২৫ ডলার—ফলে বেশিরভাগ মানুষ এখন সহায়তার ওপর নির্ভরশীল। খান ইউনুসের এক নারী ডব্লিউএফপি’কে বলেন, তিনি তার সন্তানদের বাজারে নিয়ে যান না—যেন তারা খাবার দেখে কষ্ট না পায়। পেনার বলেন, ‘তিনি তার সন্তানদের বলেন, বাজারের কাছে গেলে চোখ ঢেকে রাখতে।’ সূত্র: রয়টার্স


প্রিন্ট