খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানকে নিয়ে সুখবর দিলেন তথ্য উপদেষ্টা
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সাবেক ইউপি সদস্যের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার
শ্রীলঙ্কায় ভয়াবহ বন্যায় মৃতের সংখ্যা অন্তত ১৯৩
ইসরায়েলি প্রেসিডেন্টের কাছে ক্ষমা চাইলেন নেতানিয়াহু
হাসপাতালে খালেদা জিয়াকে দেখতে গেলেন তামিম ইকবাল
নোয়াখালীতে খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় কোরআন খতম ও দোয়া
মসজিদে বিয়ে ও সমালোচনা নিয়ে মুখ খুললেন শবনম ফারিয়া
দেশে বাড়লো সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম
ইসরায়েলি হামলার গাজায় নিহত ৭০ হাজারের বেশি
খাদ্য অধিদপ্তরের পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস
যুদ্ধবিরতির মধ্যে গাজায় নিহত অন্তত ৬৭ শিশু: ইউনিসেফ
- আপডেট সময় ১২:০৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ নভেম্বর ২০২৫
- / ১৪ বার পড়া হয়েছে
মার্কিন মধ্যস্থতায় সম্পন্ন হওয়া যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর পঞ্চাশ দিন পার হয়ে গেছে। এই সময়ের মধ্যে গাজায় ইসরায়েলি হামলায় কমপক্ষে ষোড়শ শিশু নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের শিশু তহবিল ইউনিসেফ। জেনেভায় শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে মুখপাত্র রিকার্দো পিরেস জানান, নিহতদের মধ্যে রয়েছে খান ইউনিসে বৃহস্পতিবার এক বাড়িতে ইসরায়েলি হামলায় প্রাণ হারানো এক নবজাতক। এছাড়া, আগের দিনও আলাদা হামলায় আরও সাত শিশু নিহত হয়েছে। পিরেস বলেন, ‘এসব সবই যুদ্ধবিরতির সময় ঘটে গেছে। এ ধরনের ঘটনা ভয়াবহ।’ তিনি আরও জানান, ১১ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া যুদ্ধবিরতির প্রথম দিন থেকে এখন পর্যন্ত শিশু মৃত্যু ও আহতের সংখ্যা উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে চলেছে। ‘এগুলো কেবল সংখ্যা নয়— প্রতিটি শিশুর পরিবার ছিল, স্বপ্ন ছিল, নিজের জীবন ছিল— যা হঠাৎ করেই থেমে গেছে।’ ইউনিসেফ আগেই জানিয়েছিল, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত প্রায় ৬৪ হাজার শিশু নিহত বা আহত হয়েছে। সেভ দ্য চিলড্রেন জানায়, ২০২৪ সালে প্রতি মাসে গড়ে ৪৭৫ ফিলিস্তিনি শিশু আজীবন পঙ্গুত্বের শিকার হচ্ছে— যার মধ্যে রয়েছে মাথায় আঘাত, পোড়া ক্ষত ও গুরুতর অঙ্গহানি। সংস্থাটি বলছে, গাজা এখন আধুনিক ইতিহাসে ‘সবচেয়ে বড় শিশু অঙ্গহীনদের এলাকা’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। ইসরায়েলের অবরোধের কারণে খাদ্যসংকট শিশুদের জন্য মারাত্মক বিপর্যয় সৃষ্টি করছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর অভিযোগ, ইসরায়েল খাদ্যকে যুদ্ধের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে; ফলে দুর্ভিক্ষের পরিস্থিতিতে অনেক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই সপ্তাহে ইসরায়েল গাজার বিভিন্ন এলাকায় নতুন করে হামলা চালিয়েছে। তাদের দাবি, খান ইউনিসে ইসরায়েলি সেনাদের লক্ষ্য করে গুলির ঘটনার জবাব হিসেবে এই অভিযান পরিচালিত হয়েছে। হামাস এই দাবি অস্বীকার করে বলেছে, এসব হামলা ‘গণহত্যা আবার শুরু করার স্পষ্ট ইঙ্গিত’। এই হামলায় অন্তত ৩২ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। ডক্টরস উইদাউট বর্ডারস (এমএসএফ) জানায়, তারা গাজায় অনেক নারী ও শিশুকে চিকিৎসা দিয়েছে, যারা গুলিবিদ্ধ, মাথায় আঘাতপ্রাপ্ত বা খোলা ক্ষত নিয়ে থাকেন। গাজা সিটির এমএসএফ মোবাইল ক্লিনিকের নার্স জাহের বলেন, তারা এক নারীকে পায়ের ক্ষতসহ এবং নয় বছর বয়সী এক শিশুকে মুখে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় চিকিৎসা দিয়েছেন। গাজা সিটির আল-শিফা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মোহাম্মদ মালাকা বলেন, তিনি দুটি ক্ষেপণাস্ত্র বিস্ফোরণের শব্দ শুনে অজ্ঞান হয়ে যান। ‘চোখ খুলে দেখি, বাবা মাটিতে পড়ে আছেন, আমার তিন ভাইও রক্তে ভেজা অবস্থায় পড়ে আছেন। চারদিকে ধুলো ও চিৎকার— তাঁবুগুলো পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।’ গাজায় মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর পথে ইসরায়েলের বাধা এখনও পরিস্থিতিকে আরও গুরুতর করে তুলছে। শীতের এই সময়ে প্রয়োজনীয় তাবু ও সরঞ্জামও পর্যাপ্তভাবে পৌঁছাতে পারছে না। ইউনিসেফের পিরেস বলছেন, অনেক শিশু এখনো খোলা আকাশের নিচে ঘুমাচ্ছে— ভেজা, ঠান্ডা ও অস্থায়ী আশ্রয়ে ভয়ে কাঁপছে। তিনি বলেন, ‘গাজার শিশুদের জন্য সত্যি খুবই সরল: তাদের জন্য নিরাপদ কোনো স্থান নেই। তাদের কষ্টকে আর সাধারণভাবে দেখা যাবে না।’ তিনি আরও সাহায্য পাঠানোর জন্য আহ্বান জানান।
প্রিন্ট














