, সোমবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
নোটিশ :
সংবাদের বিষয়ে কিছু জানাতে ইমেইল করুন [email protected] ঠিকানায়

ইউরোপে সবচেয়ে শক্তিশালী সেনাবাহিনী গড়তে চায় জার্মানি

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১০:০০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ নভেম্বর ২০২৫
  • / ১২ বার পড়া হয়েছে

ইউরোপের অন্যতম সামরিক শক্তিশালী বাহিনী গড়ার লক্ষ্যে এগিয়ে যাচ্ছে জার্মানি। দেশটির রাজনৈতিক জোট গত সপ্তাহে বাধ্যতামূলক সামরিক সেবা ফেরানোর জন্য একটি খসড়া আইন অনুমোদন করেছে। এর মাধ্যমে রাশিয়ার হুমকি এবং আমেরিকার পরিবর্তিত পররাষ্ট্রনীতি মোকাবিলায় জার্মান সেনাবাহিনীকে আরও শক্তিশালী করে তুলতে চায় তারা। প্রস্তাব অনুযায়ী, ২০৩৫ সালের মধ্যে জার্মান সেনাবাহিনীর সদস্য সংখ্যা ১ লাখ ৮০ হাজার থেকে বাড়িয়ে ২ লাখ ৬০ হাজারে নিয়ে আসা হবে। পাশাপাশি আরও দুই লাখের রিজার্ভ সদস্য গঠনেও পরিকল্পনা রয়েছে। শুরুতে সেনাবাহিনীতে যোগদান সম্পূর্ণ স্বেচ্ছাসেবী হবে। আগ্রহীরা মাসে ২ হাজার ৬০০ ইউরো বেতনে চাকরি শুরু করতে পারবেন, যা বর্তমানে ৪৫০ ইউরো বেশি। তবে নির্ধারিত লক্ষ্য পূরণে ব্যর্থ হলে সরকার বাধ্যতামূলক সেনানিয়োগ চালুর ক্ষমতা রাখবে। আগামী বছর থেকে ১৮ বছর বয়সী যুবকদের জন্য একটি প্রশ্নপত্র দেওয়া হবে—তাদের কি সেনাবাহিনীতে আগ্রহ আছে কিনা। পুরুষদের জন্য এটি বাধ্যতামূলক। ২০২৭ সাল থেকে ১৮ বছর বয়সী পুরুষদের জন্য স্বাস্থ্য পরীক্ষাও বাধ্যতামূলক হবে। জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মার্টজ বলেছেন, ইউরোপের নিরাপত্তায় জার্মানির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষমতা আছে। বিশেষজ্ঞরাও মনে করছেন, জার্মানির ভৌগোলিক অবস্থান এই সম্ভাবনাকে আরও শক্তিশালী করে। তবে পরিকল্পনা বাস্তবায়নে পুরোপুরি সময় লাগবে ২০৩০-এর দশক পর্যন্ত। জার্মান সেনাপ্রধান কার্স্টেন ব্রয়ার সম্প্রতি সতর্ক করে বলেছেন, ন্যাটোকে ২০২৯ সালের মধ্যে সম্ভাব্য রাশিয়ান হামলার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। এই কারণেই সেনাসেবা নিয়ে জোটের ভেতরে বেশ কিছুদিন ধরে বিতর্ক চলছিল। শেষ পর্যন্ত প্রতিরক্ষামন্ত্রী বোরিস পিস্টোরিয়ুস লটারি পদ্ধতিতে বাধ্যতামূলক নিয়োগের ধারণা বাতিল করেন। তার মতে, ভালো বেতন ও সুবিধার মাধ্যমে স্বেচ্ছাসেবকদের আকর্ষণ করাই বেশি কার্যকর। ২০১১ সালে জার্মানিতে বাধ্যতামূলক সেনাসেবা স্থগিত করা হয়। নতুন আইন অনুমোদিত হলে এটি ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে। বিতর্ক থাকা সত্ত্বেও পিস্টোরিয়ুস বলেন, “আমাদের সেনাবাহিনী যত শক্তিশালী হবে, যুদ্ধের সম্ভাবনা তত কমবে।” তিনি মনে করেন, জার্মানির এই নতুন মডেল অন্য ইউরোপীয় দেশগুলোর জন্যও উদাহরণ হতে পারে। তবে জার্মানির বামপন্থী রাজনৈতিক দলগুলো বাধ্যতামূলক সেনাসেবা ফিরিয়ে আনার বিরোধিতা করছে। একটি জরিপে দেখা গেছে, বাম দলের ৮০ শতাংশ সমর্থক এই সিদ্ধান্তের বিপক্ষে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সচেতন প্রচারণা ও সেনাবাহিনীর ভাবমূর্তি উন্নত করে স্বেচ্ছাসেবী নিয়োগের মাধ্যমে লক্ষ্য পূরণ সম্ভব। না হলে বাধ্যতামূলক নিয়োগ তরুণদের চরমপন্থার দিকে ঠেলে দিতে পারে। তরুণদের মধ্যে এ নিয়ে বিভিন্ন মত প্রকাশ দেখা গেছে। কেউ কেউ দেশের নিরাপত্তার জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ মনে করলেও যুদ্ধের সম্ভাবনা ভেবে সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে চান না। আবার কেউ মনে করেন, সেনাবাহিনীতে বড় বিনিয়োগ জরুরি হলেও বাধ্যতামূলক নিয়োগ ঠিক নয়। সরকারের তথ্য অনুযায়ী, ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকে জার্মানিতে সেনাসেবা এড়ানোর জন্য আবেদন significantly বেড়েছে। এই বছর ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত বিবেকগত কারণে তিন হাজারের বেশি মানুষ সেনাসেবা না করার আবেদন করেছেন—যা ২০১১ সালের পর সর্বোচ্চ।


প্রিন্ট

নিউজটি শেয়ার করুন

ইউরোপে সবচেয়ে শক্তিশালী সেনাবাহিনী গড়তে চায় জার্মানি

আপডেট সময় ১০:০০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ নভেম্বর ২০২৫

ইউরোপের অন্যতম সামরিক শক্তিশালী বাহিনী গড়ার লক্ষ্যে এগিয়ে যাচ্ছে জার্মানি। দেশটির রাজনৈতিক জোট গত সপ্তাহে বাধ্যতামূলক সামরিক সেবা ফেরানোর জন্য একটি খসড়া আইন অনুমোদন করেছে। এর মাধ্যমে রাশিয়ার হুমকি এবং আমেরিকার পরিবর্তিত পররাষ্ট্রনীতি মোকাবিলায় জার্মান সেনাবাহিনীকে আরও শক্তিশালী করে তুলতে চায় তারা। প্রস্তাব অনুযায়ী, ২০৩৫ সালের মধ্যে জার্মান সেনাবাহিনীর সদস্য সংখ্যা ১ লাখ ৮০ হাজার থেকে বাড়িয়ে ২ লাখ ৬০ হাজারে নিয়ে আসা হবে। পাশাপাশি আরও দুই লাখের রিজার্ভ সদস্য গঠনেও পরিকল্পনা রয়েছে। শুরুতে সেনাবাহিনীতে যোগদান সম্পূর্ণ স্বেচ্ছাসেবী হবে। আগ্রহীরা মাসে ২ হাজার ৬০০ ইউরো বেতনে চাকরি শুরু করতে পারবেন, যা বর্তমানে ৪৫০ ইউরো বেশি। তবে নির্ধারিত লক্ষ্য পূরণে ব্যর্থ হলে সরকার বাধ্যতামূলক সেনানিয়োগ চালুর ক্ষমতা রাখবে। আগামী বছর থেকে ১৮ বছর বয়সী যুবকদের জন্য একটি প্রশ্নপত্র দেওয়া হবে—তাদের কি সেনাবাহিনীতে আগ্রহ আছে কিনা। পুরুষদের জন্য এটি বাধ্যতামূলক। ২০২৭ সাল থেকে ১৮ বছর বয়সী পুরুষদের জন্য স্বাস্থ্য পরীক্ষাও বাধ্যতামূলক হবে। জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মার্টজ বলেছেন, ইউরোপের নিরাপত্তায় জার্মানির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষমতা আছে। বিশেষজ্ঞরাও মনে করছেন, জার্মানির ভৌগোলিক অবস্থান এই সম্ভাবনাকে আরও শক্তিশালী করে। তবে পরিকল্পনা বাস্তবায়নে পুরোপুরি সময় লাগবে ২০৩০-এর দশক পর্যন্ত। জার্মান সেনাপ্রধান কার্স্টেন ব্রয়ার সম্প্রতি সতর্ক করে বলেছেন, ন্যাটোকে ২০২৯ সালের মধ্যে সম্ভাব্য রাশিয়ান হামলার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। এই কারণেই সেনাসেবা নিয়ে জোটের ভেতরে বেশ কিছুদিন ধরে বিতর্ক চলছিল। শেষ পর্যন্ত প্রতিরক্ষামন্ত্রী বোরিস পিস্টোরিয়ুস লটারি পদ্ধতিতে বাধ্যতামূলক নিয়োগের ধারণা বাতিল করেন। তার মতে, ভালো বেতন ও সুবিধার মাধ্যমে স্বেচ্ছাসেবকদের আকর্ষণ করাই বেশি কার্যকর। ২০১১ সালে জার্মানিতে বাধ্যতামূলক সেনাসেবা স্থগিত করা হয়। নতুন আইন অনুমোদিত হলে এটি ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে। বিতর্ক থাকা সত্ত্বেও পিস্টোরিয়ুস বলেন, “আমাদের সেনাবাহিনী যত শক্তিশালী হবে, যুদ্ধের সম্ভাবনা তত কমবে।” তিনি মনে করেন, জার্মানির এই নতুন মডেল অন্য ইউরোপীয় দেশগুলোর জন্যও উদাহরণ হতে পারে। তবে জার্মানির বামপন্থী রাজনৈতিক দলগুলো বাধ্যতামূলক সেনাসেবা ফিরিয়ে আনার বিরোধিতা করছে। একটি জরিপে দেখা গেছে, বাম দলের ৮০ শতাংশ সমর্থক এই সিদ্ধান্তের বিপক্ষে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সচেতন প্রচারণা ও সেনাবাহিনীর ভাবমূর্তি উন্নত করে স্বেচ্ছাসেবী নিয়োগের মাধ্যমে লক্ষ্য পূরণ সম্ভব। না হলে বাধ্যতামূলক নিয়োগ তরুণদের চরমপন্থার দিকে ঠেলে দিতে পারে। তরুণদের মধ্যে এ নিয়ে বিভিন্ন মত প্রকাশ দেখা গেছে। কেউ কেউ দেশের নিরাপত্তার জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ মনে করলেও যুদ্ধের সম্ভাবনা ভেবে সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে চান না। আবার কেউ মনে করেন, সেনাবাহিনীতে বড় বিনিয়োগ জরুরি হলেও বাধ্যতামূলক নিয়োগ ঠিক নয়। সরকারের তথ্য অনুযায়ী, ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকে জার্মানিতে সেনাসেবা এড়ানোর জন্য আবেদন significantly বেড়েছে। এই বছর ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত বিবেকগত কারণে তিন হাজারের বেশি মানুষ সেনাসেবা না করার আবেদন করেছেন—যা ২০১১ সালের পর সর্বোচ্চ।


প্রিন্ট