ইসরায়েল কয়েক মাস পরে প্রথমবারের মতো বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলে বিমান হামলা চালিয়েছে। এই হামলার লক্ষ্য ছিল হিজবুল্লাহ সংস্থার দ্বিতীয় শীর্ষ নেতা হাইসাম আলী তাবতাবাঈ। এক ইসরায়েলি সূত্র সিএনএনকে জানায়, মূলত তাবতাবাঈকেই হামলার টার্গেট করা হয়েছিল, তবে তাঁর নিহত হওয়ার ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, এই হামলায় কমপক্ষে ৫ জন নিহত ও ২৮ জন আহত হয়েছেন। ঘটনাস্থলের ছবি থেকে দেখা যায়, জনবহুল এলাকার এক বহুতল ভবনের চতুর্থ বা পঞ্চম তলায় থেকে ধোঁয়া বের হচ্ছে। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর জানিয়েছে, বৈরুতের 'হৃদয়' এলাকায় এই হামলা চালানো হয়েছে, যেখানে তাবতাবাঈ হিজবুল্লাহর অস্ত্র সংগ্রহ ও সামরিক শক্তি বৃদ্ধির দায়িত্বে ছিলেন। এই হামলার আদেশ দেন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ও সেনাপ্রধানের সুপারিশে। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ইস্রায়েল কাটজ বলেছেন, ‘উত্তর সীমান্ত ও দেশের নিরাপত্তা রক্ষায় যেকোনো হুমকি প্রতিহত করতে আমরা কঠোর পদক্ষেপ নেব। কেউ যদি ইসরায়েলের বিরুদ্ধে হাত তোলে—তার হাত কেটে ফেলা হবে।’ গত বছর সেপ্টেম্বর মাসে ইসরায়েলের হামলায় হিজবুল্লাহর দীর্ঘদিনের নেতা হাসান নাসরুল্লাহ নিহত হন। এরপর ধারাবাহিক আঘাতে সংগঠনটির সামরিক নেতৃত্ব দুর্বল হয়ে পড়ে। হিজবুল্লাহর সদস্যদের ব্যবহৃত পেজার ও ওয়াকিটকি বিস্ফোরণ ঘটিয়ে বহু মানুষকে হত্যা করেছে ইসরায়েল। যুক্তরাষ্ট্র ২০১৬ সালে তাবতাবাঈকে সন্ত্রাসী হিসেবে চিহ্নিত করে। ওয়াশিংটন অভিযোগ করে, তিনি সিরিয়া ও ইয়েমেনে হিজবুল্লাহর বিশেষ বাহিনীর নেতৃত্ব দিয়েছেন। সেই জন্য ‘রিওয়ার্ডস ফর জাস্টিস’ কর্মসূচির অধীনে তাকে ধরিয়ে দিতে ৫০ লাখ ডলার পুরস্কার ঘোষণা করা হয়। এক বছর আগে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় অস্ত্রবিরতি চুক্তি হলেও, হিজবুল্লাহকে লিতানি নদীর দক্ষিণ থেকে সদস্য প্রত্যাহার ও ভারি অস্ত্র জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তবে অগ্রগতি না হওয়ায় ইসরায়েল বারবার সতর্ক করে বলেছে, লেবানন সরকার পদক্ষেপ না করলে সামরিক অভিযান আরও জোরদার করা হবে। লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন অভিযোগ করেছেন, ইসরায়েল কোনো সমঝোতার পথ খুলে দিতে চায় না এবং আলোচনার সব সম্ভাবনাই অস্বীকার করছে।
সূত্র: সিএনএন