আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন, তিনি ‘তৃতীয় বিশ্বের সব দেশের’ নাগরিকদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেবেন। বৃহস্পতিবার ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ এ প্রকাশিত এক পোস্টে ট্রাম্প বললেন, এই সিদ্ধান্তে আমেরিকার অভিবাসন ব্যবস্থা পুনরুদ্ধারে সাহায্য হবে। তবে কোন কোন দেশ এই সিদ্ধান্তের আওতায় পড়বে—তা তিনি স্পষ্ট করেননি। বুধবার ওয়াশিংটন ডিসিতে ন্যাশনাল গার্ডের দুই সদস্যের ওপর গুলি চালানোর পর এই কঠোর অবস্থান নেন তিনি। অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ, সে আফগান বংশোদ্ভূত। ঘটনাস্থলে একজন সদস্য মারা যান। ট্রাম্প বলেন, এই ঘটনা বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকির ইঙ্গিত দেয়। ঘটনার পরই ট্রাম্প ঘোষণা করেন, যুক্তরাষ্ট্রে এমন কোনো বিদেশিকে রাখা হবে না যে যার থাকার অধিকার নেই। একই দিনে আফগান নাগরিকদের সব ধরনের অভিবাসন আবেদন গ্রহণ বন্ধ করে দেওয়া হয়। এরপর বৃহস্পতিবার অভিবাসন দপ্তর জানায়, ১৯টি দেশের অভিবাসীদের দেওয়া গ্রিন কার্ড পুনরায় যাচাই করা হবে। হোয়াইট হাউসের আগের ঘোষণা অনুসারে আফগানিস্তান, কিউবা, হাইতি, ইরান, সোমালিয়া ও ভেনেজুয়েলার নাম উল্লেখ ছিল। ট্রাম্প তার পোস্টে দাবি করেন, শরণার্থীদের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে ‘সামাজিক বিশৃঙ্খলা’ সৃষ্টি হচ্ছে এবং তিনি ‘যারা দেশের জন্য সম্পদ নয়’—এমন কাউকে থাকতে দেবেন না। তিনি বলেন, কিছু অঙ্গরাজ্যে বিশেষ করে সোমালীয় শরণার্থীদের সংখ্যা বেড়ে গেছে, যা স্থানীয় রাজনীতিবিদদের ব্যর্থতার ফল। ট্রাম্প লিখেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সিস্টেমকে পুরোপুরি পুনরুদ্ধার করতে আমি তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলো থেকে অভিবাসন স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেব।’ তিনি আরও জানিয়ে দেন, অ-নাগরিকদের জন্য সব ধরনের ফেডারেল ভাতা ও সুবিধা বন্ধ করা হবে। অন্যদিকে, অভিবাসন আইনজীবীদের সংগঠনের প্রেসিডেন্ট জেরেমি ম্যাককিনি বলেন, ওয়াশিংটন ডিসির ঘটনায় উদ্দেশ্য এখনও স্পষ্ট নয়, তবে ট্রাম্প সেই ঘটনার ব্যবহার করে অভিবাসীদের প্রতি ঘৃণা ছড়াচ্ছেন। তার দাবি, ‘এ ধরনের ঘটনার সঙ্গে জাতি বা জাতিগোষ্ঠীর সম্পর্ক নেই। যে কেউ উগ্রবাদে জড়াতে পারে বা মানসিক সমস্যা নিয়ে থাকতে পারে।’ ওয়াশিংটন ডিসির ঘটনায় অভিযুক্ত রহমানুল্লাহ লাখানওয়াল ২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিলেন। সেই সময় আফগানিস্তানে তালেবানের দখলদারির পর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কাজ করা ব্যক্তিদের বিশেষ সুরক্ষা দেওয়া হয়। তিনি এ বছর আশ্রয় পান। গুলির ঘটনায় তাকে গ্রেপ্তার করা হলেও তিনি তদন্তে সহযোগিতা করছেন না। গুলিতে আক্রান্ত ন্যাশনাল গার্ডের দুই সদস্যের একজন ২০ বছর বয়সী সারা বেকস্ট্রম মারা গেছেন। অপরজন অ্যান্ড্রু উলফ জীবন-মৃত্যুর লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন বলে হোয়াইট হাউস জানিয়েছে। সূত্র: বিবিসি