, সোমবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
নোটিশ :
সংবাদের বিষয়ে কিছু জানাতে ইমেইল করুন [email protected] ঠিকানায়

ভয়াবহ বিপর্যয়: শ্রীলঙ্কায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৭:১৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২৫
  • / ৭ বার পড়া হয়েছে

ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে সৃষ্ট বন্যায় শ্রীলঙ্কায় শতাধিক মানুষের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। এই পরিস্থিতিতে দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা জারি করেছে সরকার। একই সঙ্গে প্রাকৃতিক এই বিপর্যয় মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সাহায্য চেয়েছে দেশটির সরকার। এএফপি সূত্রে জানা গেছে, ঘূর্ণিঝড় দিতওয়ার প্রভাবে শ্রীলঙ্কায় ব্যাপক বৃষ্টিপাত ও বন্যার কারণে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৩২ এ পৌঁছেছে। এছাড়াও নিখোঁজ রয়েছেন আরও ১৭৬ জন। সরকার এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের মোকাবিলায় শনিবার দেশব্যাপী জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র (ডিএমসি) জানিয়েছে, খারাপ আবহাওয়ার কারণে দেশের বিভিন্ন স্থানে ১৫ হাজারের বেশি বাড়িঘর ধ্বংস হয়েছে এবং ৭৮ হাজার মানুষ অস্থায়ী আশ্রয় কেন্দ্রে স্থানান্তরিত হয়েছে। এক সপ্তাহের ভারী বর্ষণের পর এই বিপর্যয় মোকাবিলায় প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিসানায়েকে জরুরি আইন জারি করেছেন। ডিএমসির মহাপরিচালক সম্পাথ কোটুউইগোড়া বলেন, আমরা নিশ্চিত হয়েছি ১৩২ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং নিখোঁজ রয়েছেন আরও ১৭৬ জন। তিনি উল্লেখ করেন, সেনা, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী মোতায়েনের ফলে উদ্ধার কাজ দ্রুততর হয়েছে। শনিবার দেশটির সামরিক বাহিনী অনুরাধাপুরা জেলায় ২৪ ঘণ্টার অভিযান চালিয়ে ৬৯ জন বাসযাত্রীসহ এক জার্মান পর্যটককে উদ্ধার করে। উদ্ধার কাজে হেলিকপ্টার ও নৌবাহিনীর নৌকা ব্যবহার করা হয়। এক যাত্রী স্থানীয় হাসপাতালে সাংবাদিকদের বলেন, নৌবাহিনী রশি দিয়ে বন্যার পানি পেরোতে সহায়তা করেছে এবং পরে কাছের বাড়ির ছাদে ওঠার জন্য সাহায্য করেছে। শান্তা নামের ওই যাত্রী বলেন, “আমরা খুব ভাগ্যবান। ছাদে থাকাকালীন একাংশ ধসে যায়, তিন নারী পানিতে পড়ে যান। তবে আবার ছাদে তুলতে সক্ষম হয়েছেন তারা।” তিনি আরও বলেন, হেলিকপ্টারের প্রথম উদ্ধার অভিযান বাতিল হয়েছিল, কারণ উড়ানের সময় ছাদ উড়ে যাওয়ার আশঙ্কা ছিল। পরে নৌকায় করে তাদের উদ্ধার করা হয়। দেশের মধ্যাঞ্চলের বদুল্লা জেলায় বিভিন্ন সড়ক চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। ফলে অনেক গ্রাম বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে এবং ত্রাণ পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না। বদুল্লার সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলির মধ্যে মাসপান্না গ্রামের সামান কুমারা জানিয়েছেন, “আমাদের গ্রামে দুইজন মারা গেছেন। অন্যরা মন্দিরে আশ্রয় নিয়েছে। অনেকে বাড়িতে রয়েছেন। রাস্তা ধসে গেছে, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। খাবার ও পানির অভাব রয়েছে।” কর্তৃপক্ষ বলেছে, দেশের প্রায় এক তৃতীয়াংশ এলাকায় বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। বিদ্যুৎ খুঁটি ভেঙে পড়েছে এবং পানি পরিশোধন কেন্দ্রগুলো ডুবে গেছে। অনেক স্থানে ইন্টারনেট সংযোগও বিচ্ছিন্ন। শনিবার দিতওয়া ঘূর্ণিঝড়টি দ্বীপদেশ থেকে সরে উত্তরে ভারতের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। ভারতের চেন্নাই বিমানবন্দরে ৫৪টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। আবহাওয়া দপ্তর বলেছে, আগামী ৪৮ ঘণ্টায় ভারী বর্ষণ ও ঝোড়ো বাতাস চলতে পারে। মধ্যাঞ্চলের ক্যান্ডি জেলায় নতুন করে ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে। রাজধানী কলম্বো থেকে ১১৫ কিলোमीटर পূর্বের এই জেলায় প্রধান সড়কের বড় অংশ পানির নিচে ডুবে গেছে। সরকার আন্তর্জাতিক সাহায্য চেয়ে আনুষ্ঠানিক আবেদন জানিয়েছে। পাশাপাশি বিদেশে অবস্থানরত শ্রীলঙ্কানদের ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য অর্থ পাঠানোর অনুরোধ জানানো হয়েছে। কলম্বোতে অবস্থানরত কর্মকর্তারা প্রধানমন্ত্রী হারিনী আমরাসুরিয়া বৈঠক করে পরিস্থিতি উপস্থাপন করেছেন এবং সাহায্য চেয়েছেন। ভারতের দুটি বিমান ত্রাণসামগ্রী পাঠিয়েছে, সেই সঙ্গে একটি ভারতীয় যুদ্ধজাহাজ ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য খাদ্যসামগ্রী দান করেছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি শ্রীলঙ্কায় প্রাণহানির ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং অতিরিক্ত সহায়তা পাঠানোর প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন। ২০১৭ সালের পর এটিই শ্রীলঙ্কার অন্যতম মারাত্মক প্রাকৃতিক দুর্যোগ। সেই বছর বন্যা ও ভূমিধসে ২০০ এর বেশি মানুষ নিহত হয়েছিল এবং বহু মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছিলেন। ২০০৩ সালের জুন মাসে শ্রীলঙ্কায় ঘটে সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যা, তখন ২৫৪ জনের মৃত্যু হয়েছিল।


প্রিন্ট
ট্যাগস

নিউজটি শেয়ার করুন

ভয়াবহ বিপর্যয়: শ্রীলঙ্কায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা

আপডেট সময় ০৭:১৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২৫

ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে সৃষ্ট বন্যায় শ্রীলঙ্কায় শতাধিক মানুষের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। এই পরিস্থিতিতে দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা জারি করেছে সরকার। একই সঙ্গে প্রাকৃতিক এই বিপর্যয় মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সাহায্য চেয়েছে দেশটির সরকার। এএফপি সূত্রে জানা গেছে, ঘূর্ণিঝড় দিতওয়ার প্রভাবে শ্রীলঙ্কায় ব্যাপক বৃষ্টিপাত ও বন্যার কারণে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৩২ এ পৌঁছেছে। এছাড়াও নিখোঁজ রয়েছেন আরও ১৭৬ জন। সরকার এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের মোকাবিলায় শনিবার দেশব্যাপী জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র (ডিএমসি) জানিয়েছে, খারাপ আবহাওয়ার কারণে দেশের বিভিন্ন স্থানে ১৫ হাজারের বেশি বাড়িঘর ধ্বংস হয়েছে এবং ৭৮ হাজার মানুষ অস্থায়ী আশ্রয় কেন্দ্রে স্থানান্তরিত হয়েছে। এক সপ্তাহের ভারী বর্ষণের পর এই বিপর্যয় মোকাবিলায় প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিসানায়েকে জরুরি আইন জারি করেছেন। ডিএমসির মহাপরিচালক সম্পাথ কোটুউইগোড়া বলেন, আমরা নিশ্চিত হয়েছি ১৩২ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং নিখোঁজ রয়েছেন আরও ১৭৬ জন। তিনি উল্লেখ করেন, সেনা, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী মোতায়েনের ফলে উদ্ধার কাজ দ্রুততর হয়েছে। শনিবার দেশটির সামরিক বাহিনী অনুরাধাপুরা জেলায় ২৪ ঘণ্টার অভিযান চালিয়ে ৬৯ জন বাসযাত্রীসহ এক জার্মান পর্যটককে উদ্ধার করে। উদ্ধার কাজে হেলিকপ্টার ও নৌবাহিনীর নৌকা ব্যবহার করা হয়। এক যাত্রী স্থানীয় হাসপাতালে সাংবাদিকদের বলেন, নৌবাহিনী রশি দিয়ে বন্যার পানি পেরোতে সহায়তা করেছে এবং পরে কাছের বাড়ির ছাদে ওঠার জন্য সাহায্য করেছে। শান্তা নামের ওই যাত্রী বলেন, “আমরা খুব ভাগ্যবান। ছাদে থাকাকালীন একাংশ ধসে যায়, তিন নারী পানিতে পড়ে যান। তবে আবার ছাদে তুলতে সক্ষম হয়েছেন তারা।” তিনি আরও বলেন, হেলিকপ্টারের প্রথম উদ্ধার অভিযান বাতিল হয়েছিল, কারণ উড়ানের সময় ছাদ উড়ে যাওয়ার আশঙ্কা ছিল। পরে নৌকায় করে তাদের উদ্ধার করা হয়। দেশের মধ্যাঞ্চলের বদুল্লা জেলায় বিভিন্ন সড়ক চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। ফলে অনেক গ্রাম বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে এবং ত্রাণ পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না। বদুল্লার সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলির মধ্যে মাসপান্না গ্রামের সামান কুমারা জানিয়েছেন, “আমাদের গ্রামে দুইজন মারা গেছেন। অন্যরা মন্দিরে আশ্রয় নিয়েছে। অনেকে বাড়িতে রয়েছেন। রাস্তা ধসে গেছে, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। খাবার ও পানির অভাব রয়েছে।” কর্তৃপক্ষ বলেছে, দেশের প্রায় এক তৃতীয়াংশ এলাকায় বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। বিদ্যুৎ খুঁটি ভেঙে পড়েছে এবং পানি পরিশোধন কেন্দ্রগুলো ডুবে গেছে। অনেক স্থানে ইন্টারনেট সংযোগও বিচ্ছিন্ন। শনিবার দিতওয়া ঘূর্ণিঝড়টি দ্বীপদেশ থেকে সরে উত্তরে ভারতের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। ভারতের চেন্নাই বিমানবন্দরে ৫৪টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। আবহাওয়া দপ্তর বলেছে, আগামী ৪৮ ঘণ্টায় ভারী বর্ষণ ও ঝোড়ো বাতাস চলতে পারে। মধ্যাঞ্চলের ক্যান্ডি জেলায় নতুন করে ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে। রাজধানী কলম্বো থেকে ১১৫ কিলোमीटर পূর্বের এই জেলায় প্রধান সড়কের বড় অংশ পানির নিচে ডুবে গেছে। সরকার আন্তর্জাতিক সাহায্য চেয়ে আনুষ্ঠানিক আবেদন জানিয়েছে। পাশাপাশি বিদেশে অবস্থানরত শ্রীলঙ্কানদের ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য অর্থ পাঠানোর অনুরোধ জানানো হয়েছে। কলম্বোতে অবস্থানরত কর্মকর্তারা প্রধানমন্ত্রী হারিনী আমরাসুরিয়া বৈঠক করে পরিস্থিতি উপস্থাপন করেছেন এবং সাহায্য চেয়েছেন। ভারতের দুটি বিমান ত্রাণসামগ্রী পাঠিয়েছে, সেই সঙ্গে একটি ভারতীয় যুদ্ধজাহাজ ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য খাদ্যসামগ্রী দান করেছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি শ্রীলঙ্কায় প্রাণহানির ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং অতিরিক্ত সহায়তা পাঠানোর প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন। ২০১৭ সালের পর এটিই শ্রীলঙ্কার অন্যতম মারাত্মক প্রাকৃতিক দুর্যোগ। সেই বছর বন্যা ও ভূমিধসে ২০০ এর বেশি মানুষ নিহত হয়েছিল এবং বহু মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছিলেন। ২০০৩ সালের জুন মাসে শ্রীলঙ্কায় ঘটে সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যা, তখন ২৫৪ জনের মৃত্যু হয়েছিল।


প্রিন্ট