, সোমবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
নোটিশ :
সংবাদের বিষয়ে কিছু জানাতে ইমেইল করুন [email protected] ঠিকানায়

শ্রীলঙ্কায় ভয়াবহ বন্যায় মৃতের সংখ্যা অন্তত ১৯৩

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় ৫ ঘন্টা আগে
  • / ৮ বার পড়া হয়েছে

শ্রীলঙ্কায় মারাত্মক বন্যা এবং ভূমিধসে কমপক্ষে ১৯৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন আরও দুই শতাধিক মানুষ। দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র জানায়, বন্যার কারণে ২০ হাজারের বেশি ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়েছে এবং প্রায় ১ লাখ ৮ হাজার মানুষ আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছেন। ঘূর্ণিঝড় ‘ডিটওয়া’ এর প্রভাবে এই দুর্যোগে দেশের এক তৃতীয়াংশ এলাকায় বিদ্যুৎ ও পানির সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। জরুরি অবস্থা জারি করে বেশ কিছু এলাকা থেকে লোকজন সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কেলানি নদীর পানি দ্রুত বাড়তে থাকায় নতুন করে বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে ক্যান্ডি ও বদুল্লা জেলায়। এসব এলাকার অনেক গ্রাম এখনও সম্পূর্ণভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। বদুল্লার মাসপান্না গ্রামের বাসিন্দা সামান কুমারা বলেন, ‘আমাদের গ্রামে দুইজন মারা গেছেন। অন্যরা মন্দির ও একটি টিকে থাকা বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে। রাস্তাঘাট সব বন্ধ হয়ে গেছে, কেউ বের হতে পারছে না, কেউ প্রবেশও করতে পারছে না। খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংস্থান শেষ হয়ে আসছে।’ উত্তর-মধ্যাঞ্চলের কুরুনেগালা জেলায় বন্যার পানিতে ডুবে যায় একটি বৃদ্ধাশ্রম। সেখানে ১১ জন বাসিন্দা মারা গেছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। অনুরাধাপুরায় পানিতে ডুবে যাওয়া একটি বাস থেকে ৬৯ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। একজন যাত্রী জানান, টানা ২৪ ঘণ্টার উদ্ধার অভিযানে নৌবাহিনী তাদের কাছের একটি ভবনের ছাদে তুলে নিরাপদে সরিয়ে নেয়। তিনি বলেন, ‘আমরা ভাগ্যবান ছিলাম। ছাদের একটি অংশ ভেঙে পড়ায় তিনজন পানি পড়ে গিয়েছিল, তবে সবাইকে আবার উদ্ধার করা হয়েছে।’ সরকার আন্তর্জাতিক সাহায্যের আবেদন জানিয়েছে এবং বিদেশে অবস্থানরত শ্রীলঙ্কানদের দুর্গতদের সহায়তায় এগিয়ে আসার অনুরোধ করেছে। গত শুক্রবার ঘূর্ণিঝড় ‘ডিটওয়া’ দ্বীপের পূর্ব উপকূলে আঘাত হানে, পরে তা দুর্বল হয়ে সরে যায়। ওই সময় শ্রীলঙ্কায় বর্ষাকাল চলছে, তবে এমন ভয়াবহ দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া খুবই বিরল। এর আগে ২০০৩ সালের জুনে সবচেয়ে বড় বন্যায় ২৫৪ জনের মৃত্যু হয়েছিল। শ্রীলঙ্কার পাশাপাশি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আরও কিছু দেশে—ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ডে—সম্প্রতি ভয়াবহ বন্যায় লাখো মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সূত্র: বিবিসি


প্রিন্ট

নিউজটি শেয়ার করুন

শ্রীলঙ্কায় ভয়াবহ বন্যায় মৃতের সংখ্যা অন্তত ১৯৩

আপডেট সময় ৫ ঘন্টা আগে

শ্রীলঙ্কায় মারাত্মক বন্যা এবং ভূমিধসে কমপক্ষে ১৯৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন আরও দুই শতাধিক মানুষ। দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র জানায়, বন্যার কারণে ২০ হাজারের বেশি ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়েছে এবং প্রায় ১ লাখ ৮ হাজার মানুষ আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছেন। ঘূর্ণিঝড় ‘ডিটওয়া’ এর প্রভাবে এই দুর্যোগে দেশের এক তৃতীয়াংশ এলাকায় বিদ্যুৎ ও পানির সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। জরুরি অবস্থা জারি করে বেশ কিছু এলাকা থেকে লোকজন সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কেলানি নদীর পানি দ্রুত বাড়তে থাকায় নতুন করে বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে ক্যান্ডি ও বদুল্লা জেলায়। এসব এলাকার অনেক গ্রাম এখনও সম্পূর্ণভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। বদুল্লার মাসপান্না গ্রামের বাসিন্দা সামান কুমারা বলেন, ‘আমাদের গ্রামে দুইজন মারা গেছেন। অন্যরা মন্দির ও একটি টিকে থাকা বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে। রাস্তাঘাট সব বন্ধ হয়ে গেছে, কেউ বের হতে পারছে না, কেউ প্রবেশও করতে পারছে না। খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংস্থান শেষ হয়ে আসছে।’ উত্তর-মধ্যাঞ্চলের কুরুনেগালা জেলায় বন্যার পানিতে ডুবে যায় একটি বৃদ্ধাশ্রম। সেখানে ১১ জন বাসিন্দা মারা গেছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। অনুরাধাপুরায় পানিতে ডুবে যাওয়া একটি বাস থেকে ৬৯ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। একজন যাত্রী জানান, টানা ২৪ ঘণ্টার উদ্ধার অভিযানে নৌবাহিনী তাদের কাছের একটি ভবনের ছাদে তুলে নিরাপদে সরিয়ে নেয়। তিনি বলেন, ‘আমরা ভাগ্যবান ছিলাম। ছাদের একটি অংশ ভেঙে পড়ায় তিনজন পানি পড়ে গিয়েছিল, তবে সবাইকে আবার উদ্ধার করা হয়েছে।’ সরকার আন্তর্জাতিক সাহায্যের আবেদন জানিয়েছে এবং বিদেশে অবস্থানরত শ্রীলঙ্কানদের দুর্গতদের সহায়তায় এগিয়ে আসার অনুরোধ করেছে। গত শুক্রবার ঘূর্ণিঝড় ‘ডিটওয়া’ দ্বীপের পূর্ব উপকূলে আঘাত হানে, পরে তা দুর্বল হয়ে সরে যায়। ওই সময় শ্রীলঙ্কায় বর্ষাকাল চলছে, তবে এমন ভয়াবহ দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া খুবই বিরল। এর আগে ২০০৩ সালের জুনে সবচেয়ে বড় বন্যায় ২৫৪ জনের মৃত্যু হয়েছিল। শ্রীলঙ্কার পাশাপাশি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আরও কিছু দেশে—ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ডে—সম্প্রতি ভয়াবহ বন্যায় লাখো মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সূত্র: বিবিসি


প্রিন্ট