খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানকে নিয়ে সুখবর দিলেন তথ্য উপদেষ্টা
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সাবেক ইউপি সদস্যের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার
শ্রীলঙ্কায় ভয়াবহ বন্যায় মৃতের সংখ্যা অন্তত ১৯৩
ইসরায়েলি প্রেসিডেন্টের কাছে ক্ষমা চাইলেন নেতানিয়াহু
হাসপাতালে খালেদা জিয়াকে দেখতে গেলেন তামিম ইকবাল
নোয়াখালীতে খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় কোরআন খতম ও দোয়া
মসজিদে বিয়ে ও সমালোচনা নিয়ে মুখ খুললেন শবনম ফারিয়া
দেশে বাড়লো সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম
ইসরায়েলি হামলার গাজায় নিহত ৭০ হাজারের বেশি
খাদ্য অধিদপ্তরের পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস
এনইআইআর বাস্তবায়নে নয়া বিতর্ক: সুরক্ষার নীতি, নাকি বাজার নিয়ন্ত্রণের ফাঁদ
- আপডেট সময় ০৩:৪২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ নভেম্বর ২০২৫
- / ৩০ বার পড়া হয়েছে
সরকার এনএআইআর পদ্ধতির মাধ্যমে প্রতিটি হ্যান্ডসেটের নিবন্ধন নিশ্চিত করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এই ব্যবস্থা চালুর পরে অননুমোদিত মোবাইল ফোন নেটওয়ার্কে সংযুক্ত হবে না। সহজে অন্যের সিমকার্ড দিয়ে অন্য কারো হ্যান্ডসেটে ব্যবহার সম্ভব হবে না। হ্যান্ডসেট বদলের আগে অবশ্যই ‘ডি-রেজিস্ট্রেশন’ করাতে হবে। তবে ১৬ ডিসেম্বরের আগ পর্যন্ত নেটওয়ার্কে চলমান ফোনগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিবন্ধিত হয়ে যাবে। এজন্য গ্রাহকদের আলাদা কিছু করার প্রয়োজন হবে না। বিটিআরসির নিয়ম অনুযায়ী, আমদানির জন্য লাইসেন্স থাকলেও যদি কেউ কোনও ব্র্যান্ডের পণ্য আমদানি করতে চায়, তাহলে ঐ ব্র্যান্ড বা তাদের স্থানীয় উৎপাদনকারী সংস্থার ‘অনুমতি’ (NOC) নেওয়া বাধ্যতামূলক। ব্যবসায়ীরা বলছেন, প্রকৃতপক্ষে এই অনুমতি পাওয়া খুবই কঠিন। এর ফলে অনেক পাইকারী বা খুচরা বিক্রেতা বাজারে টিকে থাকতে পারবেন না। এই নিয়ম অনুসরণে বাজারের কনসেন্ট্রেশন ছোট একটি গোষ্ঠীর হাতে চলে যেতে পারে, এমন আশঙ্কাও প্রকাশ করেছেন তারা। বিভিন্ন ব্যবসায়ী ও পর্যবেক্ষকদের বক্তব্য, এই বিষয়ে দুটি মূল প্রশ্ন উঠেছে— প্রথম, NOC নীতিটি কিভাবে কার্যকর ও স্বচ্ছভাবে বাস্তবায়িত হবে; দ্বিতীয়ত, যদি কেবল কিছু ব্র্যান্ড ও আমদানিকারকদের জন্য সুবিধা দেওয়া হয়, তাহলে বাজারে প্রতিযোগিতা কোথায় থাকবে? এ বিষয়ে নীতিনির্ধারক ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে (বিটিআরসি) নীতিমালা তৈরি করার আগে ব্যাপকভাবে স্টেকহোল্ডারদের মতামত নেওয়া ও বাস্তবভিত্তিক পর্যবেক্ষণ জরুরি ছিল। তারা আরও বলেন, যদি কোনও নীতি মূলত কয়েকটি বড় খেলোয়াড়ের সুবিধা দেয় এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের বাজার থেকে সরিয়ে দেয়, তবে তা দীর্ঘমেয়াদে ভোক্তা ও দেশের অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকারক হবে। একাধিক সাবেক সরকারি কর্মকর্তা ও উপদেষ্টারা জানিয়েছেন, নির্বাচনের আগে বড় ধরনের নিয়ন্ত্রণ পরিবর্তন দ্রুত কার্যকর করলে তা নাগরিকদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করতে পারে। এই ধরনের সিদ্ধান্তকে রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিশ্লেষণ করাও স্বাভাবিক। তারা মনে করান, নীতির প্রণয়নে সময়সীমা, ট্রায়াল-পিরিয়ড ও পর্যায়ক্রমিক কার্যকরীতা থাকলে বাজার ও নাগরিকদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব অনেকটা কমানো সম্ভব। সম্ভাব্য সমাধানসূত্র (বিশেষজ্ঞ ও ব্যবসায়ীদের প্রস্তাব) * বিটিআরসির NOC নীতির পরিবর্তে একটি স্বচ্ছ ও বিশ্বাসযোগ্য অনুমোদন প্রক্রিয়া চালু করা * আমদানি শুল্ক ও কর কাঠামো পুনর্বিবেচনা করে প্রতিবেশী দেশ ও স্থানীয় উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রতিযোগিতামূলক হার নিশ্চিত করা * স্বল্প সময়ের মধ্যে দেশের সকল মোবাইল ব্যবসায়ীর সঙ্গে আলোচনা ও একটি পাবলিক পর্যবেক্ষণ সময় নির্ধারণ করা * ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের জন্য বিটিআরসির ইমপোর্ট লাইসেন্সের আওতায় আনা। নিয়ন্ত্রক সংস্থার লক্ষ্য অনুযায়ী, এনইআইআর বাস্তবায়নের মূল উদ্দেশ্য হলো অনিবন্ধিত ও ক্লোন ডিভাইসের বিরুদ্ধে দেশের নিরাপত্তা রক্ষা ও ব্যবহারকারীর ডেটা সুরক্ষা নিশ্চিত করা। তবে নীতির প্রয়োগপদ্ধতি ও সময় নির্ধারণে যদি স্টেকহোল্ডারদের মতামত গ্রহণ না করা হয়, তাহলে তা বাজারে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করে এবং আর্থিক ক্ষতিসহ বৃহৎ সামাজিক-অর্থনৈতিক প্রভাব ফেলতে পারে। এই মুহূর্তে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর (বিটিআরসি, এনবিআর, বণিক সমিতি ও ব্যবসায়ী সংগঠন) সঙ্গে দ্রুত আলোচনা ও সমন্বয় অত্যাবশ্যক বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। একদিকে দেশের নিরাপত্তা ও ডেটা সুরক্ষার দাবি, অন্যদিকে ব্যবসা ও প্রতিযোগিতার বাস্তবতা— এই দুই দিকের টানাপোড়েনে এখন নীতির দিশা নির্ভর করছে সময়োচিত আলোচনা ও সমঝোতার ওপর। যদি সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো এখনই এক হতে না পারে, তাহলে একদিন হয়তো আমরা দেখতে পাবো— মোবাইলের স্ক্রিনে কেবল নেটওয়ার্কের সমস্যা নয়, বাজারের ভারসাম্যও হারিয়ে যাবে।
প্রিন্ট

















