, সোমবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
নোটিশ :
সংবাদের বিষয়ে কিছু জানাতে ইমেইল করুন [email protected] ঠিকানায়

ফেসবুকে ব্যাংকের নমিনি সংক্রান্ত ভাইরাল পোস্ট নিয়ে মুখ খুললেন কালামের স্ত্রী

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১০:৫৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ নভেম্বর ২০২৫
  • / ২০ বার পড়া হয়েছে

রাজধানীর ফার্মগেটের মেট্রোরেলের বিয়ারিং প্যাড পড়ে মারা গেছেন আবুল কালাম, যিনি একজন বেসরকারি চাকরিজীবী। তার ব্যাংক অ্যাকাউন্টের ‘নমিনি’ তার বোন বলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লেও, তার স্ত্রী আইরিন আক্তার নিশ্চিত করে বলেছেন— এ কথাটি তারা কখনো বলেননি। ২৬ অক্টোবর ফার্মগেটে মেট্রোরেলের বিয়ারিং প্যাড খুলে পড়ে ঘটনাটি ঘটে। ঘটনার দুই দিন পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্ট ভাইরাল হয়, যেখানে দাবি করা হয়— কালামের ব্যাংক অ্যাকাউন্টের নমিনি তার বোন, ফলে তার স্ত্রী উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত হবেন। এই বিষয়টি নিয়ে নিহতের স্ত্রী আইরিন, তার বোন লাইজু আক্তার ও আইরিনের খালাতো ভাই আরিফ হোসেন বলেন, এই পোস্টটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর, যা তাদের পরিবারের জন্য বিব্রতকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। রোববার নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের আইরিন বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কালামের ব্যাংক হিসাবের নমিনির বিষয়টি নিয়ে আমার সঙ্গে কেউ কোনো কথা বলেনি। স্বামীর মৃত্যুর পর মরদেহ শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে নেয়া হয়। তখন তার ব্যবহৃত মোবাইল, পাসপোর্ট ও মানিব্যাগ পুলিশের হেফাজতে দেয়া হয়। নারায়ণগঞ্জে থাকাকালে স্বামীর মৃত্যুসংবাদ পেয়ে আমি ঢাকায় পৌঁছানোর আগেই মরদেহ মর্গে পাঠানো হয়। পরে পরিবারের অন্য সদস্যরা তেজগাঁও থানায় গিয়ে কালামের সব জিনিসপত্র গ্রহণ করেন। আমি বলেছি, জিনিসপত্রগুলো আমার ননদ লাইজু আক্তারের কাছে। এরপর আমি নিজেই কালামের ফোন পাই। কালামের তিনটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট রয়েছে। তবে এসব ব্যাংকে কত টাকা আছে, তা আমি জানি না। নমিনি কার, সেটাও আমি বলতে পারছি না।’ এই প্রসঙ্গে খালাতো ভাই আরিফ হোসেন বলেন, ‘আমরা কাউকে বলিনি যে আবুল কালামের নমিনি তার বোনেরা। এটি একটি ভুল তথ্য, যা বিভিন্ন পেজে ছড়িয়ে পড়ছে। এ নিয়ে আমাদের কিছুটা বিব্রতবোধ হচ্ছে। ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, ব্যাংকের কোনও ব্যক্তির হিসাবের ‘নমিনি’ সংক্রান্ত তথ্য সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত, ব্যাংকগুলো তা তৃতীয় পক্ষের কাছে প্রকাশ করে না। ফলে ব্যাংকের মাধ্যমেও কালামের নমিনি কার, তা জানা সম্ভব হয়নি। নিহতের ছোট বোন লাইজু আক্তার বলেন, ‘আমার ভাই বিয়ের আগে যে অ্যাকাউন্টগুলো খুলেছিল, সেখানে বোনদের নামে নমিনি ছিল। কিন্তু বিয়ের পরে আমরা বলেছি, তার নমিনি পরিবর্তন করা হয়েছে। তার জমি ও ব্যাংক অ্যাকাউন্টে নমিনি তার স্ত্রী।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘বোনেদের নামের নমিনি থাকাটা ভুল তথ্য। তবে এই ভুলটাই বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।’ স্বজনদের কাছ থেকে জানা গেছে, আবুল কালাম কিশোর বয়সে মা–বাবাকে হারান। ভাইবোনদের সংসারেই বড় হয়েছেন। চার ভাই ও ছয় বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন সবচেয়ে ছোট। ২০১২ সালে মালয়েশিয়া যান, ফিরে এসে ২০১৮ সালে আইরিন আক্তারকে বিয়ে করেন। তাঁদের একটি ছয় বছরের ছেলে ও চার বছরের মেয়ে রয়েছে।


প্রিন্ট

নিউজটি শেয়ার করুন

ফেসবুকে ব্যাংকের নমিনি সংক্রান্ত ভাইরাল পোস্ট নিয়ে মুখ খুললেন কালামের স্ত্রী

আপডেট সময় ১০:৫৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ নভেম্বর ২০২৫

রাজধানীর ফার্মগেটের মেট্রোরেলের বিয়ারিং প্যাড পড়ে মারা গেছেন আবুল কালাম, যিনি একজন বেসরকারি চাকরিজীবী। তার ব্যাংক অ্যাকাউন্টের ‘নমিনি’ তার বোন বলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লেও, তার স্ত্রী আইরিন আক্তার নিশ্চিত করে বলেছেন— এ কথাটি তারা কখনো বলেননি। ২৬ অক্টোবর ফার্মগেটে মেট্রোরেলের বিয়ারিং প্যাড খুলে পড়ে ঘটনাটি ঘটে। ঘটনার দুই দিন পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্ট ভাইরাল হয়, যেখানে দাবি করা হয়— কালামের ব্যাংক অ্যাকাউন্টের নমিনি তার বোন, ফলে তার স্ত্রী উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত হবেন। এই বিষয়টি নিয়ে নিহতের স্ত্রী আইরিন, তার বোন লাইজু আক্তার ও আইরিনের খালাতো ভাই আরিফ হোসেন বলেন, এই পোস্টটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর, যা তাদের পরিবারের জন্য বিব্রতকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। রোববার নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের আইরিন বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কালামের ব্যাংক হিসাবের নমিনির বিষয়টি নিয়ে আমার সঙ্গে কেউ কোনো কথা বলেনি। স্বামীর মৃত্যুর পর মরদেহ শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে নেয়া হয়। তখন তার ব্যবহৃত মোবাইল, পাসপোর্ট ও মানিব্যাগ পুলিশের হেফাজতে দেয়া হয়। নারায়ণগঞ্জে থাকাকালে স্বামীর মৃত্যুসংবাদ পেয়ে আমি ঢাকায় পৌঁছানোর আগেই মরদেহ মর্গে পাঠানো হয়। পরে পরিবারের অন্য সদস্যরা তেজগাঁও থানায় গিয়ে কালামের সব জিনিসপত্র গ্রহণ করেন। আমি বলেছি, জিনিসপত্রগুলো আমার ননদ লাইজু আক্তারের কাছে। এরপর আমি নিজেই কালামের ফোন পাই। কালামের তিনটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট রয়েছে। তবে এসব ব্যাংকে কত টাকা আছে, তা আমি জানি না। নমিনি কার, সেটাও আমি বলতে পারছি না।’ এই প্রসঙ্গে খালাতো ভাই আরিফ হোসেন বলেন, ‘আমরা কাউকে বলিনি যে আবুল কালামের নমিনি তার বোনেরা। এটি একটি ভুল তথ্য, যা বিভিন্ন পেজে ছড়িয়ে পড়ছে। এ নিয়ে আমাদের কিছুটা বিব্রতবোধ হচ্ছে। ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, ব্যাংকের কোনও ব্যক্তির হিসাবের ‘নমিনি’ সংক্রান্ত তথ্য সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত, ব্যাংকগুলো তা তৃতীয় পক্ষের কাছে প্রকাশ করে না। ফলে ব্যাংকের মাধ্যমেও কালামের নমিনি কার, তা জানা সম্ভব হয়নি। নিহতের ছোট বোন লাইজু আক্তার বলেন, ‘আমার ভাই বিয়ের আগে যে অ্যাকাউন্টগুলো খুলেছিল, সেখানে বোনদের নামে নমিনি ছিল। কিন্তু বিয়ের পরে আমরা বলেছি, তার নমিনি পরিবর্তন করা হয়েছে। তার জমি ও ব্যাংক অ্যাকাউন্টে নমিনি তার স্ত্রী।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘বোনেদের নামের নমিনি থাকাটা ভুল তথ্য। তবে এই ভুলটাই বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।’ স্বজনদের কাছ থেকে জানা গেছে, আবুল কালাম কিশোর বয়সে মা–বাবাকে হারান। ভাইবোনদের সংসারেই বড় হয়েছেন। চার ভাই ও ছয় বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন সবচেয়ে ছোট। ২০১২ সালে মালয়েশিয়া যান, ফিরে এসে ২০১৮ সালে আইরিন আক্তারকে বিয়ে করেন। তাঁদের একটি ছয় বছরের ছেলে ও চার বছরের মেয়ে রয়েছে।


প্রিন্ট