, সোমবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
নোটিশ :
সংবাদের বিষয়ে কিছু জানাতে ইমেইল করুন [email protected] ঠিকানায়

গুম করার অপরাধের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৪:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ নভেম্বর ২০২৫
  • / ২২ বার পড়া হয়েছে

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানিয়েছেন, ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন’ চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছে। এই আইনে গুমের জন্য মৃত্যুদণ্ডসহ কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) বিকেলে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমির মিলনায়তনে এক ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন। প্রেস সচিব বলেন, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার সংক্রান্ত বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা এবং মতবিনিময় হয়েছে। অবশেষে আজ এটি চূড়ান্ত অনুমোদন লাভ করলো। এই আইনে গুমের সংজ্ঞা দেওয়ার পাশাপাশি চলমান অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করে মৃত্যুদণ্ডসহ কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। তিনি আরও জানান, গোপন আটক কেন্দ্র, যা আয়নাঘর নামে পরিচিত, সেটি স্থাপন শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। জাতীয় মানবাধিকার কমিশন গুমের অভিযোগ গ্রহণ ও তদন্তের ক্ষমতা পেয়েছে। এই আইনে গুমের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ গঠনের ১২০ দিনের মধ্যে বিচার কাজ সম্পন্ন হওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। ভুক্তভোগী ও স্বাক্ষীর অধিকার সুরক্ষার জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, ক্ষতিপূরণ ও আইনি সহায়তার নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার নিশ্চিত করতে তহবিল গঠন ও তথ্যভাণ্ডার প্রতিষ্ঠার বিধানও অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। শফিকুল আলম বলেন, আজকের মিটিংয়ে বেশ কিছু বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। জাতীয় লজিস্টিক নীতির খসড়া ও চূড়ান্ত অনুমোদন হয়েছে। জাতীয় নগরনীতি নিয়েও আলোচনা হয়েছে, তবে এখনও কোন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। এছাড়া, আগামী বছর ২০২৬ সালের সরকারি ছুটির তালিকাও অনুমোদিত হয়েছে। তিনি বলেন, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন ২০২৫-এর চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছে। শেখ হাসিনার সময়ে বাংলাদেশে হাজার হাজার তরুণ-তরুণী গুম হয়েছে। এই গুম সংক্রান্ত কমিশনের রিপোর্ট অনুযায়ী প্রায় দুই হাজার অভিযোগ জমা পড়েছে, আর কমিশনের সদস্যরা বলছেন, আসলে সংখ্যা ৪০০ এর ওপর হবে। দেশের বিভিন্ন আয়নাঘরে অনেককে রাখা হয়েছে। গুমের শিকার অনেকেই ফিরে এসেছেন, আবার অনেকেই এখনও ফিরে আসেননি। জানানো হয়, বিএনপির অনেক কর্মী এখনো স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেননি। তিনি আরও বলেন, গুম সংক্রান্ত একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলন রয়েছে। এর নাম ‘ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন ফর দ্য প্রটেকশন অব অল পারসনস ফ্রম এনফোর্সড ডিপার্সিয়েন্স’। গত বছর ২৯ আগস্ট বাংলাদেশের উপদেষ্টা পরিষদ সেটি অনুমোদন করে, বাংলাদেশ এতে অংশ নিয়েছে। এই কনভেনশন অনুসরণ করে দেশের জন্য এই আইন তৈরি করা হয়েছে। এটি বাংলাদেশের একটি ঐতিহাসিক আইন, যার ফলে বাংলাদেশে আর কোন ফ্যাসিস্ট সরকার গুমের রাজত্ব চালাতে পারবে না। দেশে কোন আয়নাঘর তৈরি হবে না।


প্রিন্ট

নিউজটি শেয়ার করুন

গুম করার অপরাধের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড

আপডেট সময় ০৪:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ নভেম্বর ২০২৫

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানিয়েছেন, ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন’ চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছে। এই আইনে গুমের জন্য মৃত্যুদণ্ডসহ কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) বিকেলে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমির মিলনায়তনে এক ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন। প্রেস সচিব বলেন, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার সংক্রান্ত বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা এবং মতবিনিময় হয়েছে। অবশেষে আজ এটি চূড়ান্ত অনুমোদন লাভ করলো। এই আইনে গুমের সংজ্ঞা দেওয়ার পাশাপাশি চলমান অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করে মৃত্যুদণ্ডসহ কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। তিনি আরও জানান, গোপন আটক কেন্দ্র, যা আয়নাঘর নামে পরিচিত, সেটি স্থাপন শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। জাতীয় মানবাধিকার কমিশন গুমের অভিযোগ গ্রহণ ও তদন্তের ক্ষমতা পেয়েছে। এই আইনে গুমের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ গঠনের ১২০ দিনের মধ্যে বিচার কাজ সম্পন্ন হওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। ভুক্তভোগী ও স্বাক্ষীর অধিকার সুরক্ষার জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, ক্ষতিপূরণ ও আইনি সহায়তার নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার নিশ্চিত করতে তহবিল গঠন ও তথ্যভাণ্ডার প্রতিষ্ঠার বিধানও অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। শফিকুল আলম বলেন, আজকের মিটিংয়ে বেশ কিছু বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। জাতীয় লজিস্টিক নীতির খসড়া ও চূড়ান্ত অনুমোদন হয়েছে। জাতীয় নগরনীতি নিয়েও আলোচনা হয়েছে, তবে এখনও কোন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। এছাড়া, আগামী বছর ২০২৬ সালের সরকারি ছুটির তালিকাও অনুমোদিত হয়েছে। তিনি বলেন, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন ২০২৫-এর চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছে। শেখ হাসিনার সময়ে বাংলাদেশে হাজার হাজার তরুণ-তরুণী গুম হয়েছে। এই গুম সংক্রান্ত কমিশনের রিপোর্ট অনুযায়ী প্রায় দুই হাজার অভিযোগ জমা পড়েছে, আর কমিশনের সদস্যরা বলছেন, আসলে সংখ্যা ৪০০ এর ওপর হবে। দেশের বিভিন্ন আয়নাঘরে অনেককে রাখা হয়েছে। গুমের শিকার অনেকেই ফিরে এসেছেন, আবার অনেকেই এখনও ফিরে আসেননি। জানানো হয়, বিএনপির অনেক কর্মী এখনো স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেননি। তিনি আরও বলেন, গুম সংক্রান্ত একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলন রয়েছে। এর নাম ‘ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন ফর দ্য প্রটেকশন অব অল পারসনস ফ্রম এনফোর্সড ডিপার্সিয়েন্স’। গত বছর ২৯ আগস্ট বাংলাদেশের উপদেষ্টা পরিষদ সেটি অনুমোদন করে, বাংলাদেশ এতে অংশ নিয়েছে। এই কনভেনশন অনুসরণ করে দেশের জন্য এই আইন তৈরি করা হয়েছে। এটি বাংলাদেশের একটি ঐতিহাসিক আইন, যার ফলে বাংলাদেশে আর কোন ফ্যাসিস্ট সরকার গুমের রাজত্ব চালাতে পারবে না। দেশে কোন আয়নাঘর তৈরি হবে না।


প্রিন্ট