খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানকে নিয়ে সুখবর দিলেন তথ্য উপদেষ্টা
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সাবেক ইউপি সদস্যের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার
শ্রীলঙ্কায় ভয়াবহ বন্যায় মৃতের সংখ্যা অন্তত ১৯৩
ইসরায়েলি প্রেসিডেন্টের কাছে ক্ষমা চাইলেন নেতানিয়াহু
হাসপাতালে খালেদা জিয়াকে দেখতে গেলেন তামিম ইকবাল
নোয়াখালীতে খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় কোরআন খতম ও দোয়া
মসজিদে বিয়ে ও সমালোচনা নিয়ে মুখ খুললেন শবনম ফারিয়া
দেশে বাড়লো সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম
ইসরায়েলি হামলার গাজায় নিহত ৭০ হাজারের বেশি
খাদ্য অধিদপ্তরের পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস
বাংলাদেশিদের জন্য ভিসা জটিলতা বাড়ছে
- আপডেট সময় ১০:৪৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৬ নভেম্বর ২০২৫
- / ২৩ বার পড়া হয়েছে
কোনো ধরনের নিষেধাজ্ঞা না থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রদান বন্ধ রয়েছে। বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য দীর্ঘ সময় ধরে চেষ্টা চালিয়েছেন অসংখ্য শিক্ষার্থী, স্কলারশিপও পেয়েছেন, কিন্তু শেষ মুহূর্তে ভিসার জটিলতার কারণে যেতে পারেননি। এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে অনেক বাংলাদেশির সঙ্গেই। এরই মধ্যে একজন তানজুমান আলম ঝুমা বলেন, ‘অক্টোবর মাসে বুদাপেস্টে আবেদন করি। জানুয়ারিতে জানানো হয়, আমার জন্য তা অগ্রহণযোগ্য। পরে জানুয়ারিতেই ইউএস এর জন্য আবেদন করি। গত অক্টোবর থেকে নভেম্বর পর্যন্ত এক বছরের বেশি সময় ধরে এই বিষয় নিয়ে ভুগছি।’
শিক্ষার্থী ভিসার পাশাপাশি, বিভিন্ন দেশের পর্যটক বা কাজের জন্য শ্রমিক ভিসাও সহজে পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠছে। এমনকি ভিয়েতনাম বা ইন্দোনেশিয়ার মতো দেশগুলো থেকে যেখানে আগে সহজে ভিসা পাওয়া যেত, এখন অনেক ক্ষেত্রে ভিসা দিচ্ছে না। তবে ভারতের পর্যটন ভিসা ছাড়া অন্য কোনো দেশের থেকেই বাংলাদেশের ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা নেই বলে জানা গেছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ভিসার অপব্যবহার করে এক দেশ থেকে অন্য দেশে যাওয়ার প্রবণতা বেড়েছে। এর ফলে দেশের বিশ্বাসযোগ্যতা কমছে। পাশাপাশি, দেশের বাইরে রাজনৈতিক দলের কর্মী-সমর্থকদের প্রকাশ্য বিবাদে জড়িয়ে পড়া দেশটির ভাবমূর্তিকে ক্ষুণ্ণ করছে। অনেকের মতে, পাসপোর্টের র্যাংকিংয়ে দেশের অবনমনও এই পরিস্থিতির একটি কারণ।
এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য প্রথমে দেশের ভেতরে দৃশ্যমান সচেতনতামূলক উদ্যোগ নেওয়ার প্রয়োজন বলে বিশ্লেষকরা মত দেন। পাশাপাশি কূটনৈতিকভাবে সমস্যার সমাধান করতে হবে বলেও উপদেশ দেন তারা।
বিদেশে পড়া, কাজের জন্য বা ভ্রমণের জন্য আগ্রহী অনেকেই অভিযোগ করেছেন, দেশে ভ্রমণসহ অন্যান্য ভিসার জন্যও কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে। পর্যটন খাতের সংশ্লিষ্টরাও জানাচ্ছেন, বেশ কিছু দেশ ভিসা দিচ্ছে না বা দেয়ার ক্ষেত্রে জটিলতা সৃষ্টি করছে।
ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (টোয়াব) সভাপতি মো. রাফেউজ্জামান বলেন, ‘ইন্ডিয়া, ইউএই, কাতার, বাহরাইন, ওমান, উজবেকিস্তান, সৌদি আরব, ভিয়েতনাম—এই সব দেশ আমাদের ভিসা দিচ্ছে না।’ তিনি আরও বলেন, ‘থাইল্যান্ডের ভিসা অনেক বেশি সময় নেয়, সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ার ভিসার রেশিও কম, ফিলিপাইনে সময় আরও বেশি। ইন্দোনেশিয়ার ভিসা ফিও অনেক বেশি। শ্রীলঙ্কার ইলেকট্রনিক ভিসাও দুই-তিন দিন সময় নিচ্ছে।’
২০২৪ সালের অগাস্টে গণঅভ্যুত্থানের পর শেখ হাসিনার সরকার পতনের ফলে বাংলাদেশিদের জন্য ভারতীয় পর্যটন ভিসা বন্ধ করে দেয়। এই সিদ্ধান্তকে রাজনৈতিক বলে মনে করা হলেও, ইউরোপ, আমেরিকা ও এশিয়ার কিছু দেশের ভিসা নিষেধাজ্ঞা আরও কঠিন হয়ে উঠছে বলে জানাচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।
পর্যটন ব্যবসায়ীরা বলছেন, এতসব দেশের ভিসা নিয়ে এই জটিলতা স্বল্প সময়ের জন্য। মহিউদ্দিন সেলিম বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র প্রতি বছর বাংলাদেশিদের জন্য পাঁচ থেকে ছয় লাখ ভিসা দেয়। তবে এ বছর মনে হয় দুই লাখের বেশি ভিসা দেয়নি তারা।’ তিনি যোগ করেন, ‘ইউএস, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা—সবাই ২০২৩-২৪ সালে অনেক ভিসা দিয়েছে, যতদিন পাসপোর্টের মেয়াদ ছিল। কিন্তু এবার কোনো ভিসা দিচ্ছে না।’
ভিসা জটিলতার মূল কারণ হিসেবে অনেকের ধারণা, দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিরতা। বিশ্লেষকরা বলছেন, বাংলাদেশিদের অনিয়মিতভাবে বিভিন্ন দেশে প্রবেশের ঘটনা এবং সহজলভ্য ভিসার অপব্যবহার দেশগুলোর নজরদারিকে আরও কঠোর করে তুলেছে। সাবেক রাষ্ট্রদূত এম হুমায়ুন কবির বলেন, ‘ভিসার অপব্যবহার করে অনেকে অনিয়মিতভাবে যাচ্ছে। এর ফলে, ভিসা দেয়ার ক্ষেত্রে অনেক দেশই সতর্ক হচ্ছে—উদাহরণস্বরূপ ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড।’
কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ভ্রমণ ভিসার মাধ্যমে বিদেশে শ্রমিক পাঠিয়ে পরে রূপান্তর করছে শ্রমিক ভিসায়। পাশাপাশি, প্রতিবেশী দেশের ভিসা নিয়ন্ত্রণের কারণে কিছু দেশ আরও বেশি সতর্কতা অবলম্বন করছে। ফলে, অনেক অনিয়মিত বা আইনবিরোধী কাজে জড়িত ব্যক্তির সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করতে দেশের বাইরে গিয়ে বিবাদ বা কোন্দলের ঘটনাও বেড়েছে, যা ভিসা জটিলতার কারণে প্রকাশ পায়।
পাসপোর্টের র্যাংকিংয়ে বাংলাদেশের অবস্থানও আলোচনা হচ্ছে। হেনলি অ্যান্ড পার্টনার্সের তথ্যমতে, দুর্বলতম পাসপোর্টের তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান সপ্তম। বিশ্বের ৩৮টি দেশে বাংলাদেশিরা ভিসা ছাড়াই ভ্রমণ করতে পারেন। তবে এই তালিকার বেশিরভাগ দেশই আফ্রিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলে, যেখানে বাংলাদেশের যাত্রার হার কম। রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও অভ্যন্তরীণ অস্থিতিশীলতা বেড়ে যাওয়ায় অবৈধ অভিবাসনের প্রবণতাও বৃদ্ধি পেয়েছে। গত বছর ডিসেম্বরে ভারতের ভিসা সীমিত থাকায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের ভিসা কেন্দ্র দিল্লি থেকে অন্য দেশে সরিয়ে নেয়া হয়। তিন মাসের মধ্যে ঢাকা থেকে নয়টি দেশের ভিসার প্রক্রিয়া শুরু হলেও এখনও জটিলতা অব্যাহত রয়েছে।
কয়েক মাস আগে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা ভিসা জটিলতার স্বীকারোক্তি দেন, দায় দেন বাংলাদেশি কর্মকাণ্ডকে। তবে, পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার এখনো কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেয়নি বলে মনে হয়। বিশ্লেষকরা বলছেন, ভারতের ভিসা জটিলতার মূল কারণ রাজনৈতিক। নির্বাচিত সরকার না থাকায় পরিস্থিতি বদলানো সম্ভব নয়। তবে, ভারতের বাইরে অন্যান্য দেশের সঙ্গে কূটনৈতিকভাবে উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব। সাবেক রাষ্ট্রদূত এম হুমায়ুন কবির বলেন, ‘দেশের ভিতরে আইনি ব্যবস্থা ও যথোপযুক্ত পদক্ষেপ নিলে এই ভিসা জটিলতা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।’
প্রিন্ট














