প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস উল্লেখ করেছেন, আদালতের আজকের রায় সারাদেশে এবং বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে প্রভাব ফেলেছে। তিনি ব্যাখ্যা করেছেন, এই রায় প্রমাণ করে যে, শক্তিশালী কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়। ২০২৪ সালের জুলাই মাসে গণঅভ্যুত্থানে নিহত ও ক্ষতিগ্রস্তদের পরিবারের জন্য এটি আংশিক হলেও ন্যায়ের পথ প্রশস্ত করেছে। ইউনূস বলেন, দীর্ঘদিনের নিপীড়নের কারণে দুর্বল হয়ে পড়া গণতান্ত্রিক ভিত্তি পুনর্গঠনের এক গুরুত্বপূর্ণ সময়ের মধ্যে বাংলাদেশ অবস্থান করছে। তরুণ ও শিশুদের ওপর প্রাণঘাতী শক্তির ব্যবহার শুধু আইনের লঙ্ঘনই নয়, এটি রাষ্ট্র ও নাগরিক সম্পর্কের মূল বন্ধনকেও আঘাত হেনেছে। এমন অমানবিক কর্মকাণ্ড দেশের মৌলিক মূল্যবোধ—মর্যাদা, দৃঢ়তা ও ন্যায়ের প্রতি অঙ্গীকার—কে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। তিনি জানান, প্রায় ১,৪০০ মানুষ জীবন হারিয়েছেন। তারা কেবল সংখ্যার মধ্যে নয়— তারা ছিলেন শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং অধিকারপ্রাপ্ত নাগরিক। বিচার প্রক্রিয়ার সাক্ষ্যপ্রমাণে উঠে এসেছে, কীভাবে নিরস্ত্র বিক্ষোভকারীদের ওপর স্থল, আকাশ এবং এমনকি হেলিকপ্টার থেকেও প্রাণঘাতী হামলা চালানো হয়েছে। এই রায় তাদের দুর্দশার স্বীকৃতি এবং অপরাধীদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার জন্য পুনরায় দৃঢ়প্রতিজ্ঞা প্রকাশ করে। ইউনূস বলেন, এই রায়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক দায়বদ্ধতার ধারায় ফিরে এসেছে। পরিবর্তনের পক্ষে তরুণ, শিক্ষার্থী ও নাগরিকরা যে মূল্য দিয়েছে, তা তিনি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, অগ্রসর হতে হলে কেবল আইনি জবাবদিহি নয়, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও নাগরিকদের মধ্যে আস্থা পুনঃস্থাপনও জরুরি। কেন মানুষ সত্যিকার প্রতিনিধিত্বের জন্য জীবন ঝুঁকি পর্যন্ত নেয়— সেটি বোঝা এবং সেই আস্থার জন্য যথাযথ ব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন। আজকের রায় সেই পথচলার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। ইউনূসের বিশ্বাস, বাংলাদেশ সাহস ও বিনয় নিয়ে সামনে থাকা চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করবে। তিনি বলেন, আইনের শাসন, মানবাধিকার এবং প্রত্যেকের সম্ভাবনার প্রতি অঙ্গীকারের মাধ্যমে ন্যায়ের দেশ শুধু টিকে থাকবে না, আরও শক্তিশালী হবে।