, সোমবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
নোটিশ :
সংবাদের বিষয়ে কিছু জানাতে ইমেইল করুন [email protected] ঠিকানায়

বাংলাদেশ কোনো শক্তি-গোষ্ঠীর পক্ষে অবস্থান নিতে আগ্রহী নয়: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৭:৩৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ নভেম্বর ২০২৫
  • / ১৬ বার পড়া হয়েছে

বিশ্বের ভূ-রাজনৈতিক ধারা পরিবর্তনের এই সময়ে বাংলাদেশ কোন শক্তি বা গোষ্ঠীর পাশে দাঁড়ানোর আগ্রহ প্রকাশ করেনি বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। শনিবার (২২ নভেম্বর) রাজধানীর এক হোটেলে সেন্টার ফর গভর্নেন্স স্টাডিজের (সিজিএস) আয়োজনে তিন দিনব্যাপী ‘বেংল কনভারসেশন ২০২৫’ শীর্ষক শীর্ষ সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে তিনি এ কথা বলেন। এই সম্মেলনের মূল প্রতিপাদ্য ছিল ‘প্রতিদ্বন্দ্বিতা, ভাঙনের ধারা, পুনর্গঠন’। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ তার স্বার্থ, সার্বভৌম অধিকার ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে নির্ভয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে চায়। পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, পুনর্গঠনের সময় অনেক দেশের পক্ষ থেকে বিভিন্ন পথ বেছে নেওয়ার চেষ্টা চলছে, কিন্তু বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সঠিক পথে অটল থাকা। তিনি আরও বলেন, বঙ্গোপসাগর এখন কৌশলগত কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। সেখানে বাংলাদেশ কেবল একটি পথের অংশ নয়, বরং আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে কৌশলগত ভূমিকা নিতে চায়। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে পরিবর্তিত বাস্তবতা তুলে ধরে তিনি বলেন, বাংলাদেশ এমন অংশীদারিত্ব গড়ে তুলবে যা দৃশ্যমান ফলাফল দিতে পারে, তবে তার জন্য জাতীয় স্বার্থের সাথে আপস করবে না। ইউক্রেন, গাজা, সুদান ও মিয়ানমার চলমান সংকটের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বৈশ্বিক বহুপাক্ষিক কাঠামোর ব্যর্থতার কথাও উল্লেখ করেন। তার মতে, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর করে তোলার এখনই সময়। রোহিঙ্গা সংকটের সমাধানে বাংলাদেশের ভূমিকা ও জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে দেশের অবদান উল্লেখ করে তৌহিদ হোসেন বলেন, মানবিক দায়বদ্ধতার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অঙ্গীকার বৈশ্বিকভাবে প্রশংসিত হয়েছে। তথ্যযুদ্ধ, ভুয়া খবর, ডিপফেক ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহারে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন, এসব প্রযুক্তি কূটনীতি ও শাসনব্যবস্থাকে দ্রুত পরিবর্তন করছে। তথ্যের নিরাপত্তা, নিরাপত্তা ও মৌলিক অধিকার রক্ষায় বাংলাদেশ একটি আধুনিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করবে বলে জানান। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব নিয়ে তিনি বলেন, সমুদ্রের উচ্চতা বৃদ্ধি ও লবণাক্ততার প্রভাবে বাংলাদেশ বড় ধরনের হুমকির মুখে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় উপকূলীয় দেশগুলোর মধ্যে প্রযুক্তির ভাগাভাগি ও জলবায়ু-সহনশীল উন্নয়ন কৌশল গ্রহণ অত্যাবশ্যক। উদ্বোধনী বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ। তিন দিনব্যাপী এই সম্মেলনে বৈশ্বিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা, তথ্যযুদ্ধ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, জলবায়ু সংকট, অর্থনৈতিক চাপ ও অভিবাসনসহ আধুনিক নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে।


প্রিন্ট

নিউজটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ কোনো শক্তি-গোষ্ঠীর পক্ষে অবস্থান নিতে আগ্রহী নয়: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

আপডেট সময় ০৭:৩৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ নভেম্বর ২০২৫

বিশ্বের ভূ-রাজনৈতিক ধারা পরিবর্তনের এই সময়ে বাংলাদেশ কোন শক্তি বা গোষ্ঠীর পাশে দাঁড়ানোর আগ্রহ প্রকাশ করেনি বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। শনিবার (২২ নভেম্বর) রাজধানীর এক হোটেলে সেন্টার ফর গভর্নেন্স স্টাডিজের (সিজিএস) আয়োজনে তিন দিনব্যাপী ‘বেংল কনভারসেশন ২০২৫’ শীর্ষক শীর্ষ সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে তিনি এ কথা বলেন। এই সম্মেলনের মূল প্রতিপাদ্য ছিল ‘প্রতিদ্বন্দ্বিতা, ভাঙনের ধারা, পুনর্গঠন’। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ তার স্বার্থ, সার্বভৌম অধিকার ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে নির্ভয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে চায়। পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, পুনর্গঠনের সময় অনেক দেশের পক্ষ থেকে বিভিন্ন পথ বেছে নেওয়ার চেষ্টা চলছে, কিন্তু বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সঠিক পথে অটল থাকা। তিনি আরও বলেন, বঙ্গোপসাগর এখন কৌশলগত কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। সেখানে বাংলাদেশ কেবল একটি পথের অংশ নয়, বরং আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে কৌশলগত ভূমিকা নিতে চায়। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে পরিবর্তিত বাস্তবতা তুলে ধরে তিনি বলেন, বাংলাদেশ এমন অংশীদারিত্ব গড়ে তুলবে যা দৃশ্যমান ফলাফল দিতে পারে, তবে তার জন্য জাতীয় স্বার্থের সাথে আপস করবে না। ইউক্রেন, গাজা, সুদান ও মিয়ানমার চলমান সংকটের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বৈশ্বিক বহুপাক্ষিক কাঠামোর ব্যর্থতার কথাও উল্লেখ করেন। তার মতে, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর করে তোলার এখনই সময়। রোহিঙ্গা সংকটের সমাধানে বাংলাদেশের ভূমিকা ও জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে দেশের অবদান উল্লেখ করে তৌহিদ হোসেন বলেন, মানবিক দায়বদ্ধতার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অঙ্গীকার বৈশ্বিকভাবে প্রশংসিত হয়েছে। তথ্যযুদ্ধ, ভুয়া খবর, ডিপফেক ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহারে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন, এসব প্রযুক্তি কূটনীতি ও শাসনব্যবস্থাকে দ্রুত পরিবর্তন করছে। তথ্যের নিরাপত্তা, নিরাপত্তা ও মৌলিক অধিকার রক্ষায় বাংলাদেশ একটি আধুনিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করবে বলে জানান। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব নিয়ে তিনি বলেন, সমুদ্রের উচ্চতা বৃদ্ধি ও লবণাক্ততার প্রভাবে বাংলাদেশ বড় ধরনের হুমকির মুখে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় উপকূলীয় দেশগুলোর মধ্যে প্রযুক্তির ভাগাভাগি ও জলবায়ু-সহনশীল উন্নয়ন কৌশল গ্রহণ অত্যাবশ্যক। উদ্বোধনী বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ। তিন দিনব্যাপী এই সম্মেলনে বৈশ্বিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা, তথ্যযুদ্ধ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, জলবায়ু সংকট, অর্থনৈতিক চাপ ও অভিবাসনসহ আধুনিক নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে।


প্রিন্ট