খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানকে নিয়ে সুখবর দিলেন তথ্য উপদেষ্টা
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সাবেক ইউপি সদস্যের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার
শ্রীলঙ্কায় ভয়াবহ বন্যায় মৃতের সংখ্যা অন্তত ১৯৩
ইসরায়েলি প্রেসিডেন্টের কাছে ক্ষমা চাইলেন নেতানিয়াহু
হাসপাতালে খালেদা জিয়াকে দেখতে গেলেন তামিম ইকবাল
নোয়াখালীতে খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় কোরআন খতম ও দোয়া
মসজিদে বিয়ে ও সমালোচনা নিয়ে মুখ খুললেন শবনম ফারিয়া
দেশে বাড়লো সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম
ইসরায়েলি হামলার গাজায় নিহত ৭০ হাজারের বেশি
খাদ্য অধিদপ্তরের পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস
দেশে সক্রিয় আরেকটি ফাটলরেখার সন্ধান, ৬ মাত্রার ভূমিকম্পের শঙ্কা
- আপডেট সময় ১২:০৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ নভেম্বর ২০২৫
- / ১১ বার পড়া হয়েছে
বাংলাদেশে নতুন একটি সক্রিয় ভূগর্ভস্থ ফাটলরেখার সন্ধান পাওয়া গেছে। এই ফাটল জামালপুর ও ময়মনসিংহ থেকে ভারতের কলকাতা পর্যন্ত বিস্তৃত। এর দৈর্ঘ্য প্রায় ৪০০ কিলোমিটার। আন্তর্জাতিক পর্যায়ের গবেষকদের মতে, এর এক অংশ ভূমিকম্পের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ, যা বাংলাদেশের ভেতরেও প্রভাব ফেলতে পারে। এই অংশটি সর্বোচ্চ ৬ মাত্রার ভূমিকম্প সৃষ্টি করতে সক্ষম। শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞদের তথ্যের ভিত্তিতে প্রথম আলো অনলাইনে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ খবর জানানো হয়েছে। বাংলাদেশ ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আক্তারুল আহসানের নেতৃত্বে এক গবেষণায় নতুন এই ফাটলরেখার সন্ধান পাওয়া গেছে। এই গবেষণায় যুক্ত ছিলেন যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, তুরস্ক ও বাংলাদেশের কয়েকজন বিশেষজ্ঞ। আক্তারুল আহসান বললেন, “১৪ থেকে ১৯ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের লুইজিয়ানায় জিওফিজিক্যাল ইউনিয়নের আয়োজনে ছয় দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক ভূতত্ত্ব সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে এই গবেষণার ফলাফল বিস্তারিতভাবে উপস্থাপন করা হবে।” তিনি আরও জানিয়েছেন, এই উপপরিচালক ও তার দল ২০২৪ সালের মার্চ মাসে ‘টেকটোনিক জিওমরফোলজি’ পদ্ধতিতে গবেষণা শুরু করেন। সম্প্রতি এই গবেষণা সম্পন্ন হয়েছে এবং এতে ফাটলরেখাটি শনাক্ত করা হয়েছে। তিনি বলেন, “ফাটলরেখাটিকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে। এক ভাগে কম ঝুঁকি রয়েছে, দ্বিতীয় ভাগে বেশি ঝুঁকি রয়েছে, এবং তৃতীয় ভাগে ভূমিকম্পের সম্ভাবনা নেই।” তবে কোন অংশে ঝুঁকি বেশি বা কম, তা এখনই প্রকাশ করতে চান না তিনি। আক্তারুল আহসান জানান, “এই গবেষণার উপর একটি নিবন্ধ শিগগিরই বিশ্বখ্যাত একটি জার্নালে প্রকাশিত হবে, যেখানে বিস্তারিত তুলে ধরা হবে।” বাংলাদেশের ২১ ও ২২ নভেম্বর দুই দিনে চার দফা ভূমিকম্প হয়। এর মধ্যে রিখটার স্কেলে ২১ নভেম্বরের ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৫.৭। এই ভূমিকম্পে ১০ জনের মৃত্যু ঘটে। এর আগে গত কয়েক বছর ধরে একাধিক ভূমিকম্প হলেও এত মানুষের মৃত্যুর ঘটনা বিরল। ভূমিকম্পের সৃষ্টি হওয়া কম্পন মানুষকে আতঙ্কিত করেছে। নতুন শনাক্ত ফাটলের সঙ্গে বড় ধরনের কয়েকটি ভূমিকম্প এবং ব্রহ্মপুত্র নদীর গতিপথ পরিবর্তনের সম্পর্ক পাওয়া গেছে। ব্রহ্মপুত্রের এই পরিবর্তন এখনও চলমান। নতুন গবেষণায় বলা হয়েছে, নতুন করে চিহ্নিত হওয়া এই ফাটলরেখার জন্ম প্রায় ৫ কোটি ৬০ লাখ বছর আগে। এই সময়কে ভূতত্ত্ববিদরা ইউসিন যুগ বলে থাকেন। তখন এই সক্রিয় থাকা ফাটলরেখাটি ২ কোটি ৩০ লাখ বছর নিষ্ক্রিয় ছিল। এই নিষ্ক্রিয়তার সময়কে মায়োসিন যুগ বলা হয়। ৫৬ লাখ বছর আগে ভূত্বকের নিচে ইন্ডিয়ান প্লেট এবং ইউরেশিয়ান প্লেটের চাপের ফলে মেঘালয়ের পর্বতশৃঙ্গগুলি মাটির নিচ থেকে উঠে আসার পর এই ফাটল আবার সক্রিয় হয়ে ওঠে। পৃথিবীর অভ্যন্তরীণ চাপ বা ধাক্কায় ভূমির রূপ ও গঠন পরিবর্তনের ঘটনাকে টেকটোনিক মরফোলজি বলে। নতুন গবেষণায় জানানো হয়েছে, ইন্ডিয়ান প্লেট প্রতিবছর প্রায় ৪৬ মিলিমিটার বা ৪ দশমিক ৬ সেন্টিমিটার করে ইউরেশিয়ান প্লেটের নিচে ধাক্কা খাচ্ছে। এই গতির পরিবর্তন সময়ের সাথে সাথে ভিন্ন রকম হয়েছে, কখনো সরাসরি উত্তর দিকে, আবার কখনো উত্তর-পূর্ব দিকে। কখনো গতি বেশি, আবার কখনো কম। এই গতির জন্য ডাউকি ফাটল ও নতুন চিহ্নিত এই ফাটলের জন্ম হয়েছে। আক্তারুল আহসান বলেন, “ইন্ডিয়ান প্লেটের এই গতি বেঙ্গল বেসিনের আরও অনেক ফাটলের সৃষ্টি করেছে। এর মধ্যে কিছু ভূমিকম্পের কারণ হয়ে উঠতে পারে, কিছু নয়। নতুন শনাক্ত এই ফাটলের সঙ্গে বড় ভূমিকম্প ও ব্রহ্মপুত্রের গতিপথ পরিবর্তনের সম্পর্ক পাওয়া গেছে। ব্রহ্মপুত্রের এই পরিবর্তন এখনও অব্যাহত রয়েছে।” এই নতুন ফাটলরেখার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত কয়েকটি ভূমিকম্পের মধ্যে অন্যতম হলো ‘বেঙ্গল আর্থকোয়েক’। এটি হয় ১৮৮৫ সালে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের সাবেক অধ্যাপক হুমায়ূন আখতার ২০১০ সালে এক গবেষণাপত্রে উল্লেখ করেছিলেন যে, সেই ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৭। এর উৎস ছিল মানিকগঞ্জ। ধারণা করা হয় যে, মধুপুর ফাটলরেখার উপর এই ভূমিকম্প হয়। ব্রিটিশ ভূতত্ত্ববিদ চার্লস স্টুয়ার্ট মিডলম্যাসের গবেষণার ভিত্তিতে হুমায়ূন আখতার লিখেছেন, “এই ভূমিকম্পের কম্পন ছড়িয়ে পড়েছিল ভারত, ভুটান ও মিয়ানমারসহ বেশ কয়েকটি অঞ্চলে। সেই সময় অন্তত ৭৫ জনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছিল, যার মধ্যে ৪০ জন ছিলেন শেরপুরের। এই ভূমিকম্পে ময়মনসিংহে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল।” ১৯২৩ সালে ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ এলাকায় আরেকটি ভূমিকম্প হয়, যার রেকর্ড রয়েছে মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার (ইউএসজিএস) আথকোয়েক ক্যাটালগে। এর মাত্রা ছিল ৬.৯। এই ভূমিকম্পের সঙ্গে এই নতুন চিহ্নিত ফাটলরেখার সম্পর্ক থাকতে পারে বলে গবেষণায় উঠে এসেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আশরাফুল আলম বলেন, “আমাদের এখানে অনেক ফল্টলাইন বা ফাটলরেখা আছে। গবেষণা চালিয়ে এ অঞ্চলে আরো ফাটলরেখার সন্ধান পাওয়া সম্ভব। তবে, সব ফাটলই ভূমিকম্পের কারণ নয়।”
প্রিন্ট














