এক সময়ের প্রতিশ্রুতিশীল কোচ সাইফুল ইসলাম খোকন, যিনি নিজেকে এক সময় ‘ক্রিকেট সংস্কারক’ হিসেবে পরিচয় দিতেন। আজ তার চেহারা রূপ নিয়েছে এক ভয়ংকর একাডেমিক ক্রিকেটের ‘ডনের’ রূপে। তার বিরুদ্ধে একের পর এক গুরুতর অভিযোগ উঠেছে— মেয়ের কেলেঙ্কারি, খেলোয়াড়দের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, আর্থিক দুর্নীতি এবং একাডেমি দখলের মতো জঘন্য কর্মকাণ্ড। ২০২০ সালে এই ঘটনা ঘটে। তখন তিনি খেলাঘর ক্রিকেট দলের সহকারী কোচ ছিলেন। কিন্তু বেশ কিছু খেলোয়াড়ের সঙ্গে অশোভন আচরণ এবং নারীঘটিত কেলেঙ্কারির কারণে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। খেলার সময় মেয়েদের হয়রানি, অশোভন প্রস্তাবনা, বাচ্চা বউকে ডিভোর্সসহ নানা অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। একই সময়ে তার ব্যক্তিগত জীবনেও ভাঙনের সূচনা হয়। পরকীয়ার কারণে তিনি স্ত্রীর সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদ করেন। চাকরি হারানোর পর দুই মাস বেকার থাকার পর ইফাত মাহমুদ শরীফের সহায়তায় ও মনিরুজ্জামান পলাশের সহযোগিতায় গড়ে ওঠে ‘বি.জি.প্রেস ক্রিকেট একাডেমি’। একাডেমির শুরুতেই ইফাতের নেতৃত্বে প্রায় ৪০ জন তরুণ উদ্যোমী ক্রিকেটার ভর্তি হন। কোচ হিসেবে সাইফুল তখন প্রতিশ্রুতি দেন, এই একাডেমিই হবে তাদের স্বপ্নের বাস্তবায়নের কেন্দ্র। কিন্তু মাত্র ছয় মাসের মধ্যেই এক ভয়ংকর বাস্তবতা উন্মোচিত হতে শুরু করে। সাইফুলের নেতৃত্বে শুরু হয় বিতর্কিত সিদ্ধান্তের পালা। অভিযোগ উঠেছে, খেলোয়াড় নির্বাচন পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে নয়, বরং পছন্দ-অপছন্দ, ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও অর্থনৈতিক লেনদেনের ভিত্তিতে করা হয়। নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা দিয়ে বাইরের খেলোয়াড় এনে স্থান করে দেওয়া হয় একাডেমির প্রতিষ্ঠিত শিক্ষার্থীদের জায়গায়। এই অদ্ভুত এবং বৈষম্যপ্রবণ নীতির কারণে একাডেমির স্বপ্ন ও শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। মাত্র কয়েক মাসের মধ্যে প্রায় ৪০ জন শিক্ষার্থীকে একাডেমি থেকে বের করে দেওয়া হয়। তাদের অনেকেই হতাশায় ক্রিকেট ছেড়ে দেন। আবার অনেকে সাইফুলের বিরুদ্ধে বিচার দাবি করে বিভিন্ন জায়গায় ছুটে থাকছেন। সাইফুলের বিরুদ্ধে আরও গুরুতর অভিযোগ রয়েছে— খেলোয়াড়দের মারধর, মানসিক নির্যাতন এবং অর্থ আত্মসাৎ। একাধিক খেলোয়াড় অভিযোগ করেছেন, ঢাকালিগে খেলার সুযোগ দেওয়ার নামে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়েছেন সাইফুল, কিন্তু প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেননি কেউ। একাডেমি হওয়ার কথা ছিল তরুণদের স্বপ্নের জায়গা, কিন্তু আজ সেটি রূপ নিয়েছে ভয় ও ষড়যন্ত্রের কারখানায়। সাইফুলের বিরুদ্ধে তদন্ত ও কঠোর ব্যবস্থা না নেওয়া হলে আরও অনেক প্রতিভা হারিয়ে যাবে অন্ধকারে।